ইয়াবা বন্ধে মিয়ানমার সহায়তা করছে না

download-2-5.jpg

কক্সবাজার ডেস্ক :

মাদক নিয়ন্ত্রণে মিয়ানমার কোনো সহযোগিতা করছে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।
শনিবার (৯ জুন) দুপুরে রাজধানীতে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে ‘মাদকবিরোধী অভিযান ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
কামাল বলেন, আমি তখন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী আমাকে টেকনাফে পাঠালেন এবং কিছু বিষয়ে ধারণা দিলেন। আমি কক্সবাজারে গিয়ে ইয়াবার উৎস, চোরাচালান, ইয়াবা রুট, পদ্ধতি, সন্দেহভাজন ইত্যাদি সম্পর্কে জানলাম। বিজিবি তখন আমাকে দারুণ সাহায্য করেছিল।
‘আমি মন্ত্রী হওয়ার পর ভারত গিয়েছি। তাদের বলেছি, আমাদের সীমান্তে থাকা ফেনসিডিল কারখানা বন্ধ করতে বলেছি। তারা কথা রেখেছেন। এখন ফেনসিডিল চোরাচালান অনেক কমেছে।’
কিন্তু এক্ষেত্রে মিয়ানমার কোনো রকম সাহায্য করছে না জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি বিজিবি মহাপরিচালককে পাঠিয়েছি। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালককে পাঠিয়েছি। সচিবরা গিয়েছেন। বারবার সমঝোতা স্মারক হয়েছে। কিন্তু তা চুক্তির পর্যায়ে যাওয়ার জন্য আর এগোয়নি। তারা শুধু টালবাহানা করেছে।
কামাল বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যার পর গত নভেম্বরে তারা (মিয়ানমার) আমাকে নেপিদোতে আমন্ত্রণ জানায়। আমি সেখানে গিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা করি। শেষ পর্যায়ে এসে সেদেশের নেত্রী অং সান সু চি’র সঙ্গে বৈঠক হয় আমার। বৈঠক শেষে আমি সু চিকে বলি, আমাদের রক্ষা করুন। রোহিঙ্গাদের তো পাঠিয়েছেনই, হয়তো তারা ফিরেও আসবে। কিন্তু ইয়াবা পাঠানো বন্ধ করুন। কারণ এটা রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিতভাবেই পাঠানো হয়।
‘সু চি তখন আমাকে বলেন, আমরাও এ নিয়ে ঝামেলায় আছি। আপনারা পদক্ষেপ নেন। আমাদের করার তেমন কিছু নেই। তাদের অসহযোগিতায় আমরা ইয়াবা বন্ধ করতে পারছি না।’ বলেন আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।
তিনি বলেন, মাদক তো আমরা উৎপাদন করি না। প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আসে। এখন নাফ নদী দিয়ে আসা কমেছে। কিন্তু গভীর সমুদ্র দিয়ে আসছে বড় বড় চালান। এজন্য আমরা আমাদের কোস্টগার্ডকে শক্তিশালী করছি। ইতালি থেকে বড় চারটি ভ্যাসেল আসছে। খুলনা ও নারায়ণগঞ্জে আরও কিছু সুপার স্পিড পেট্রোল বোট তৈরি হচ্ছে। বর্ডার রোড তৈরি হচ্ছে। দুর্গম পাহাড়ে কড়া নজরদারির ব্যাবস্থা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেখানে মাদক আছে, সেখানেই অবৈধ অস্ত্র, অবৈধ টাকা। যেখানে এই তিন মিলবে, সেখানে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানে গেলে ফায়ারিং হবে। সারাবিশ্বেই মাদকবিরোধী অভিযানে ফায়ারিং হয়ে থাকে। আমরা কাউকে হত্যা করছি না। সেটা আমাদের উদ্দেশ্যও নয়। আমাদের পাঁচটি গোয়েন্দা সংস্থা আলাদা আলাদা তালিকা করেছে। যাদের নাম কমন পড়েছে তাদের কাছে যাচ্ছে আমাদের আইন প্রয়োগকারী বাহিনী।
‘আমরা কাউকে হত্যা করছি না, কাউকে নাজেহাল বা হয়রানি করছি না। বিরোধীদল বা সরকারি দল নয়, আমরা মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছি।’
কক্সবাজারে কাউন্সিলর একরামুল হক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হওয়ার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত হচ্ছে। তিনি নির্দোষ হলে দোষীরা শাস্তি পাবে।
চলমান মাদকবিরোধী অভিযান সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, আমরা অলআউট যুদ্ধে গেছি। এ যুদ্ধে জিততে হবে। আমরা বর্ডার সিল করেছি। কোস্টগার্ডকে শক্তিশালী করছি, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াচ্ছি, অপরাধীদের বিচারের সম্মুক্ষীন করছি। আমরা বলেছি কাউকে অবৈধ মাদকের ব্যবসা করতে দেবো না।

Top