কক্সবাজার পৌরসভার ভোটযুদ্ধ ২৫ জুলাই

download-10.jpg

আজিম নিহাদ :

অবশেষে বহুল আকাঙ্খিত কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৫ জুলাই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
গতকাল শনিবার (১০ জুন) দুপুরে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় কক্সবাজার পৌরসভার তফসিল ঘোষণা করে। একই সাথে নরসিংদী ও বি বাড়িয়া পৌরসভার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচনের মনোনয়ন পত্র জমা দেয়ার শেষ তারিখ ২৪ জুন, মনোনয়ন পত্র বাছাই হবে ২৬ জুন, মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৩ জুলাই ও ভোট গ্রহন ২৫ জুলাই।
রমজানের আগে কক্সবাজার সফরে এসে পৌরসভা নির্বাচনের ইঙ্গিত দেন নির্বাচন কমিশন সচিব মো. হেলালুদ্দিন। এরপর থেকেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়। বিশেষ করে বড় দুটি রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা কোমর বেঁধে মাঠে নেমে পড়ে। তবে এখন পর্যন্ত মাঠে সবচেয়ে বেশি সরগরম দেখা গেছে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যানকে। তিনি প্রতিদিনই শহরের কোন না কোন এলাকার মসজিদে নামাজ পরবর্তী লোকজনের খোঁজ খবর নিচ্ছেন। অন্যদিকে বসে নেই আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত, জাতীয়পার্টিসহ সম্ভাব্য প্রার্থীরাও।
জানা গেছে, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগে প্রার্থী ঠিক করা নিয়ে এক ধরণের ¯œায়ুযুদ্ধ চলছে। কে হবেন প্রথমবারের মত কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাচনের দলীয় প্রতীকে নৌকার মাঝি তা নিয়ে জেলা এবং কেন্দ্রেও নানা আলোচনা চলছে।
ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে চষে বেড়াচ্ছে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান। গেল নির্বাচনেও তিনি আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী ছিলেন। এছাড়াও আওয়ামী লীগ থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রাথমিকভাবে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান পৌরসভার মেয়র (ভারপ্রাপ্ত) মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, কক্সবাজার পৌরসভার চারবারের নির্বাচিত সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আবছার, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য রাশেদুল ইসলাম।
অতীতে কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করলেও এবার সেরকম ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না। কেন না জামায়াত আইনগত জটিলতার কারণে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করতে পারবে না। এছাড়াও হাল সময়ে কক্সবাজারে বিএনপির সাথে জামায়াতে সম্পর্ক যাচ্ছে দুটানায়। এরফলে প্রার্থী নিয়ে বেকায়দায় পড়তে পারে বিএনপি। এখনো পর্যন্ত বিএনপির কোন প্রার্থীকে মাঠে দেখা যায়নি। তবুও বিএনপি থেকে যেসব প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন- পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মোহাম্মদ আলী, পৌরসভার বর্তমান প্যানেল মেয়র রফিকুল ইসলাম, আরেক প্যানেল মেয়র ও জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জিসান উদ্দিন জিসান ও ১নং ওয়ার্ডের কমিশনার এসআইএম আক্তার কামাল। তবে জামায়াত থেকে এখনো একজন প্রার্থীর নাম শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত তিনিই ফেক্টর হবেন সব দলের প্রার্থীদের কাছে। তিনি হলেন পৌরসভার গেল নির্বাচনে নির্বাচিত মেয়র (বর্তমানে বহিস্কৃত) সরওয়ার কামাল।
এছাড়া জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচন করতে পারেন জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন সিকদার।
২০১১ সালের অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন সরওয়ার কামাল। কিন্তু আইনি জটিলতায় টানা আড়াই বছর শপথ নিতে পারেননি তিনিসহ পুরো পৌর পরিষদ। এরপর শপথ নিলেও বেশিদিন ক্ষমতার মসনদ ধরে রাখতে পারেননি তিনি। হাইকোর্ট থেকে দায়িত্বপালনে অযোগ্য ঘোষণা করার পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সরওয়ার কামালকে মেয়রের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেন। এরপর নানা তালবাহনা শেষে ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পান কমিশনার মাহবুবুর রহমান চৌধুরী। বর্তমানে তিনিই মেয়রের দায়িত্বপালন করছেন।
জানা গেছে, কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তুতি সেরে ফেলেছেন নির্বাচন কমিশনও। ইতোমধ্যে হালনাগাদকৃত ভোটার তালিকা, ভোটকেন্দ্র ও বুথ নির্ধারণসহ সবকিছু প্রায় চুড়ান্ত হয়েছে। স্বল্প সময়ের মধ্যে ভোট গ্রহণের জন্য প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং এবং পুলিং এজেন্টও নিয়োগ করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শিমুল শর্মা বলেন, কক্সবাজার পৌরসভার ১২ টি ওয়ার্ডে ভোটার রয়েছে প্রায় ৮৪ হাজার। ১২ ওয়ার্ডে ভোট গ্রহণের জন্য প্রাথমিকভাবে ৩৯ টি কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে তফসিল ঘোষণার বিষয়টি রোববার দুপুরে মুঠোফোনে নিশ্চিত করা হয়। তফসিল অনুযায়ী নির্বাচনের যাবতীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সব ঠিক থাকলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে আগামী ২৫ জুলাই একটি জমজমাট ভোটযুদ্ধ উপভোগ করবে কক্সবাজারবাসী।

Top