ভারী বৃষ্টিতে পাহাড় ধসের শঙ্কা

Nihad-News-Pic-2.jpg

কক্সবাজার রিপোর্ট :
কক্সবাজারে শনিবার রাত ১২ টা থেকে শুরু হয় বৃষ্টিপাত। ধীরে ধীরে ভারী বৃষ্টিপাতে রূপ নেয়। এর ফলে শহরের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারি আবহওয়াবিদ আব্দুর রহমান মুঠোফোনে জানান, বঙ্গোপসাগরে বর্তমানে ৩নং সতর্কতা সংকেত চলছে। গত শনিবার রাত ১২ টা থেকে রোববার দুপুর ১২ টা পর্যন্ত ১৩৮ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এটি চলতি বছরের সবচেয়ে ভারী বৃষ্টিপাত। জেলায় আরও ২/৩ দিন ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহরের লাইটহাউজ, ফাতেরঘোনা, কলাতলী, আদর্শগ্রাম, পাহাড়তলী, বৈদ্যঘোনা, খাজামঞ্জিল, ঘোনারপাড়া, মোহাজেরপাড়া, কবরস্থানপাড়া, গরুর হালদা সড়ক, সিটি কলেজ এলাকা, সাহিত্যিকা পল্লী, বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকাসহ ৬টি ওয়ার্ডে পাহাড়ে বিপুল সংখ্যক মানুষ ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করে। ভারী বৃষ্টিপাতে পাহাড় ধসে এসব এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
পাহাড়তলী জিয়ানগরের পরিবার নিয়ে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করেন আব্দুল খালেক (৩৫)। তিনি বলেন, শনিবার রাত থেকে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। এখনও অবিরাম বৃষ্টি হচ্ছে। লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
গত মে মাসের শুরুর দিকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটকে প্রধান করে জেলা প্রশাসক বিভিন্ন এনজি সংস্থার সহযোগিতায় শহরের ৬টি ওয়ার্ডে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারিদের তালিকা তৈরীর জন্য কমিটি গঠন করেন। সেই কমিটির সদস্যরা ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারিদের চিহ্নিত করে তালিকা তৈরী করেছে।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আশরাফুল আফচার বলেন, পাহাড়ধসে প্রাণহানি ঠেকাতে ৬টি ওয়ার্ডে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারি ৮৫১ পরিবারকে চিহ্নিত করা হয়। প্রতি পরিবারে ৪ থেকে ৬ জন সদস্য রয়েছে। বৃষ্টিপাতের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারিদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হবে। তাদেরকে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখার জন্য প্রতিটি এলাকায় পর্যাপ্ত শেল্টারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
গেল বছর শহরের লাইটহাউজ পাড়া এলাকায় পাহাড় ধসে দুইজন নিহত হয়। বেপরোয়াভাবে পাহাড় কাটার কারণে চলতি মৌসুমেও সেখানে পাহাড় ধসের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ওই এলাকার সচেতন ব্যক্তি কাজী রাসেল আহমেদ নোবেল বলেন, বৃষ্টিপাত ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দুপুরের দিকে লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে আসার জন্য অনুরোধ করা হয়। কিন্তু কেউ সরছে না। ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ে থেকে যাচ্ছে। তাদেরকে সরানোর জন্য প্রশাসনের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
এদিকে সদর উপজেলার পিএমখালী ও ঝিলংজা ইউনিয়নের বিভিন্ন পাহাড়ী এলাকাতেও পাহাড় ধসের শঙ্কা আছে। কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নোমান হোসেন প্রিন্স বলেন, এখনো পর্যন্ত কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেনি। যেসব পাহাড়ি এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ বসতি রয়েছে সেখানে লোকজনকে সতর্ক করার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে। বৃষ্টিপাত বিবেচনা করে লোকজনকে সরিয়ে আনা হবে।
কক্সবাজার পিপলস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল বলেন, নির্বিচারে পাহাড় কেটে বসতি গড়ে তোলার কারণে পাহাড়ে চরম ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। যেকোন সময় বড় ধরণের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে। তাই অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে এখনই লোকজন নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক সাইফুল আশ্রাব বলেন, জেলা প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করা পরিবার গুলো চিহ্নিত করেছে। সেই তালিকা অনুযায়ী সরিয়ে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন দপ্তরের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে গত কয়েকদিন ধরে প্রতিদিনই পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে। লোকজনকে সচেতন করা হচ্ছে।
এদিকে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারি লোকজনকে আজ (রোববার) রাতের মধ্যে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন।

Top