বৃষ্টিতে ঈদ বাজারে দুর্ভোগ

download-1-7.jpg

এম. বেদারুল আলম :
মওসুমের প্রথম বৃষ্টিতে কাহিল জনজীবন। শহরের ঈদ বাজারে পড়েছে চরম প্রভাব। তীব্র গরমে অতিষ্ট মানুষের হাসফাঁস কমলেও বৃষ্টি অবিরত হওয়ায় জনজীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি। গত ২৪ ঘন্টায় কক্সবাজারে ১৭৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। বৃষ্টির তীব্রতা থাকবে আরো ২ দিন এমনটাই জানিয়েছেন কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস। ফলে বৃষ্টির কবলে পড়তে যাচ্ছে ঈদ বাজার। বৃষ্টির কারনে হঠাৎ করেই শহরের বিপণি বিতানগুলোতে বিক্রি কমে গেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়িরা। বৃষ্টির কারনে শহরের অভ্যন্তরিন সড়ক এবং উপ সড়কে পানি উঠে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। বৃষ্টির কারনে গতকাল কলাতলিতে বন্ধ ছিল সড়ক ও ড্রেন নির্মান কাজ।
শহরের কয়েকটি ঈদ বাজারের মার্কেটের দোকানির সাথে কথা বলে জানা যায়, গেল সপ্তাহে যে রকম বিকিকিনি হয়েছে গত ২ দিনে তা একদম কমে গেছে। বৃষ্টির কারনে মানুষ ঘর থেকে বের হতে না পারায় ঈদ বাজার জমে উঠেনি। ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন হকার মার্কেটের দোকানি জহির উদ্দিন জানান, অন্যান্য দিন গড়ে দেড় লাখ টাকার কাপড় বিক্রি হলেও গতকাল বৃষ্টির কারনে তা নেমে এসেছে ৫৩ হাজার টাকায়। মানুষ বৃষ্টির কারনে দাড়াতেই পারছেনা। শহরের এ সালাম মাকের্টের কাপড়ের দোকানদার মোহাম্মদ হেলাল জানান, বৃষ্টির কারনে আছরের সময় সড়কে পানি জমে থাকার কারনে মানুষ মার্কেটে খুব একটা আসতে পারেনি। তবে সন্ধ্যার দিকে বিকিকিনি সামান্য বেড়েছে।
বৌদ্ধ মন্দির সড়কে পানি চলাচলের কারনে বার্মিজ মাকের্টে তেমন বিক্রি হয়নি। শিশুদের কাপড়ের জন্য প্রসিদ্ধ ৪/৫টি দোকান রয়েছে বার্মিজ মার্কেটে। গেল ২ সপ্তাহ উক্ত দোকানগুলো একচেটিয়া ব্যবসা করলেও বৃষ্টির কারনে গতকাল তেমন ব্যবসা জমেনি বলে জানিয়েছেন মম এন্ড বেবি শপের ম্যানেজার সাইফুল। তিনি জানান, আমরা ঈদের বাজারে বিক্রির জন্য চায়না থেকে ২০ লাখ টাকার মালামাল এনেছি। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে হয়ত লোকসানে পড়ব।
এদিকে বৃষ্টির কারনে কাজ বন্ধ রয়েছে পৌরসভার ইউজিপি-৩ প্রকল্পের উন্নয়ন কাজ। কলাতলির সৈকতপাড়া, স্মরণ এলাকার ড্রেন নির্মান এবং সড়ক প্রশস্থকরণসহ কয়েক কোটি টাকার নির্মান কাজ বন্ধ ছিল গতকাল। বৃষ্টিতে পানিপূর্ণ রয়েছে কলাতলির ৪টি উপ সড়ক। ফলে কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে শ্রমিকরা। হোটেল ব্যবসায়িদের দাবি পানি দ্রুত নিস্কাশন করা না হলে ঈদে পর্যটকদের চরম দূর্ভোগে পড়তে হবে। বৃষ্টি কমলে দূর্ভোগ কমে আসবে বলে ব্যবসায়িদের ধারনা। হিল পার্কের মালিক কবির আহমেদ পৌরকর্র্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আগামি সপ্তাহে আমাদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। মানুষ ঈদ উৎযাপনে কক্সবাজার বেড়াতে আসলে সড়কের কারনে চরম দূর্ভোগে পড়বে। ঈদের আগে যেন সড়কের নির্মান কাজ করার উদ্যোগ নেন পৌরকর্তৃপক্ষ।

Top