দামী পোশাকে বিক্রি কম

Nihad-News-Pic-4.jpg

আজিম নিহাদ :
কক্সবাজারে জমে উঠেছে ঈদবাজার। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সরগরম থাকে শহরের বিপনীবিতান গুলো। তবে নি¤œ ও মাঝারী দামের পোশাকের ক্রেতাদের উপস্থিতি সন্তোষজনক হলেও দামী পোশাকের বিক্রি কম।
ব্যবসায়ীরা জানান, কয়েকবছর ধরে দেখা যাচ্ছে, রমজানের ঈদে টেকনাফের লোকজন (নারী-পুরুষ উভয়) সবচেয়ে দামী পোশাক গুলো ক্রয় করে। তারা ১৫ রমজান থেকে কেনাকাটা শুরু করে। সেখানকার নারী-পুরুষেরা পোশাক ক্রয়ের ক্ষেত্রে দামের বাচ-বিচার করে না। কিন্তু মাদক বিরোধী অভিযানের কারণে টেকনাফের লোকজন তেমন দেখা যাচ্ছে না। তাই দামী পোশাক বিক্রয়ে ভাটা পড়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার দামী পোশাক ৪০ শতাংশও বিক্রি হচ্ছে না।
জানা গেছে, প্রথম রমজান থেকে কক্সবাজারে মাদক বিরোধী অভিযান শুরু হয়। অভিযান শুরুর পর থেকেই গা ঢাকা দিয়েছে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা। আর তাদের পরিবার গুলোতেও বিরাজ করছে চরম আতঙ্ক। এর ফলে এবারের ঈদের আনন্দ আঁচ করতে পারেনি উখিয়া-টেকনাফের বেশিরভাগ মানুষকে।
শহরের ফিরোজা শপিং মল, আলো শাড়িজ, এ. ছালাম শপিং কমপ্লেক্স, সমবায় সুপার মার্কেট, পৌরসভা মার্কেট, মেঘামার্ট, সানাসহ বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে ক্রেতাদের পছন্দ ভীড়। প্রতিটি শপিং মলে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে ক্রেতারা। বেলা ১১ টা থেকে জমে উঠে কেনাকাটা। এটি চলে প্রায় সেহেরী খাওয়া পর্যন্ত। এবার মেয়েদের ভারতীয় সিরিয়ালের সাথে মিল রেখে কোন পোশাক বাজার দখল করেনি।
ফিরোজা শপিং মলের ‘বৈঠক বাজার’ শো-রুমে দেখা গেছে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভীড়। দোকানের কর্মচারিরা জানান, থ্রী-পিচ, ওয়ান-পিচ, লেহেঙ্গা ও শাড়ির প্রতি আগ্রহ সব ক্রেতাদের। এরমধ্যে সবচেয়ে দাবী লেহেঙ্গা। লেহেঙ্গা ৩ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত রয়েছে। তবে এবার বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা দামের গুলো। এর চেয়ে বেশি দামের লেহেঙ্গা গুলোর বিক্রি কম। এছাড়াও এলটি ফ্যাশনের থ্রী-পিচও ৩ হাজার থেকে ১১ হাজার টাকার রয়েছে। কিন্তু বিক্রি হচ্ছে মোটামুটি চার হাজার টাকার নিচের পোশাক গুলো। শাড়ির মধ্যে জর্জেট ও কাতানের দাম অন্যান্য গুলোর চেয়ে একটু বেশি। এগুলো ৪ থেকে ১৬ হাজার টাকা দামের রয়েছে। কিন্তু এবার এগুলোর বিক্রিও কম।
বৈঠক বাজারের মালিক জুয়েল দে সবুজ বলেন, বিক্রি মোটামুটি সন্তোষজনক। কিন্তু অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর মেয়েদের দামী পোশাকের বিক্রি কম। টেকনাফের লোকজন মার্কেটে না আসার কারণেই মূলত দামী পোশাক বিক্রি হচ্ছে না। এর ফলে লভ্যাংশেও কিছুটা ভাটা পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে যে’কদিন বাকি রয়েছে, টেকনাফের লোকজন বাজার করতে আসলে তেমন একটা অসুবিধা আর থাকবে না।
এ.ছালাম শপিং মলের রামু বস্ত্র বিপনীর মালিক গিয়াস উদ্দিন বলেন, বিক্রি মোটামুটি ভাল। তবে মনে হচ্ছে এবারের ঈদবাজারে মাদকবিরোধী অভিযানের প্রভাব পড়েছে। তিনি ধারণা করছেন, সবাই মাদক ব্যবসায়ী না হলেও অনেকে অহেতুক হয়রানির শঙ্কায় বাড়ি থেকে বের হচ্ছে না।
ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিবছর ঈদবাজারে উঠতি বয়সী ছেলেরা মোটর সাইকেল নিয়ে এসে মার্কেটের সামনে ঝামেলা সৃষ্টি করতো। মেয়েরা তাদের হাতে যৌন হয়রানির শিকার হতো। কিন্তু এবছর সেসব উঠতি বয়সী ছেলেদের দেখা যাচ্ছে না। মাদক বিরোধী অভিযানের কারণে অন্তত বখাটেদের বাইক যন্ত্রণা থেকে রেহায় পাচ্ছে ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা।
ফিরোজা মার্কেট দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল মান্নান বলেন, ঈদের কেনাকাটা করতে এসে যাতে কেউ ছিনতাই বা পকেটমারের শিকার না হন সেদিকে প্রশাসনের নজরদারি বাড়াতে হবে। তবে পুলিশ বেশ তৎপর রয়েছে। আশাকরি আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক থাকবে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ উদ্দীন খন্দকার বলেন, প্রতিটি মার্কেটের সামনে ২৪ ঘন্টা পুলিশ মোতায়েন থাকে। এখন পর্যন্ত ঈদবাজারে কোন ধরণের বিশৃঙ্খলা দেখা যায়নি। ক্রেতারা নির্ভয়ে কেনাকাটা করতে পারবে।

Top