অনিশ্চিত রোহিঙ্গাদের ঈদ আনন্দ

Rohingga-pic.jpg

ওমর ফারুক হিরু :
মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা সাড়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গার মাঝে মাত্র ৫০৭ জন হিন্দু ছাড়া বাকী সবাই মুসলিম। এদিকে আর কদিন পরেই শুরু হচ্ছে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। এই ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে সারা দেশে কেনাকাটা থেকে শুরু করে চলছে নানা প্রস্তুতি। সবাই আনন্দে মেতে উঠবে ঈদের দিন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেই আনন্দ থেকে বঞ্চিত রয়েছে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া মুসলিম রোহিঙ্গারা। তারা পাচ্ছেনা ঈদ সামগ্রী। তাদের ভাগ্যে মিলছেনা নতুন পোষাক। এমনটাই জানা গেছে রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলে।
এনিয়ে তাদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র বক্তব্য, কেউ বলছে ঈদ সামগ্রী আর নতুন পোষাক না পেয়ে মন খারাপ। আবার অনেকে বলছে আর যাই হোক বাংলাদেশে শান্তিতে ঈদের নামাজ পড়া যাবে। যা তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে পারেনি।
এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, ঈদ নিয়ে আপাত রোহিঙ্গাদের জন্য বাড়তি কোন ব্যবস্থা নেই। তবে ব্যক্তিগতভাবে এবং বিভিন্ন এনজিও সংস্থার পক্ষ থেকে অল্প সংখ্যক ঈদ সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ঈদের নামাজের জন্য বিশেষ কোন ব্যবস্থা না থাকলেও পর্যাপ্ত মসজিদ রয়েছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। জোরদার রয়েছে নিরাপত্তা।
কুতুপালং ক্যাম্পের রজিম উদ্দিন নামে এক রোহিঙ্গা জানান, ‘এখনো পর্যন্ত কোন ঈদ সামগ্রী পাইনি। ৯ সন্তান আর স্ত্রী নিয়ে ঠিকমত খাবার খেতে কষ্ট হচ্ছে তার মধ্যে ঈদ সামগ্রী পাবে কিনা নিশ্চিত না। আর ঈদের নামাজ নিয়ে বলেন, আর যাই হোক বাংলাদেশে ঠিকমত ঈদের নামাজটা পড়তে পারব। আমরা মিয়ানমারে ঠিকমত ঈদের নামাজ পড়তে পারতামনা’।
বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের রাবেয়া খাতুন নামে এক রোহিঙ্গা নারী জনান, বাংলাদেশের আশ্রয়ে থেকে ঈদ সামগ্রী ও নতুন জামা না পেলেও মন খারাপ নেই। মিয়ানমারে গত কয়েক বছর ধরে বাচ্চাদের জন্য নতুন জামা কিনলেও ওই জামা পড়ে বাইরে বেড়াতে যাওয়ার সুযোগ ছিলনা। ঈদের নামাজে যাওয়ার সুযোগ ছিলনা। সেদেশের সেনাবাহিনী আর রাখাইনরা প্রতিনিয়ত নির্যাতন করত। শান্তিতে ঈদ আনন্দ করা যেতনা। কিন্তু এইখানে সেই ভয় নেই।
বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এফ ব্লকের মাঝি নুরুল ইসলাম জানান, ‘ঈদের জন্য আমাদের আলাদাভাবে কিছু দেওয়া হয়নি। এখনও জানিনা ঈদে সেমাই-চিনি পাবকিনা। আমাদের না দিলেও বাচ্চাদের জন্য একটা নতুন জামা পেলে খুব ভাল লাগত’।
কুতুপালং ক্যাম্প ইনচার্জ রেজাউল করিম জানান, ঈদ নিয়ে রোহিঙ্গাদের জন্য আলাদা কোন ব্যবস্থা না থাকলেও ব্যক্তি উদ্যোগ সহ বিভিন্ন এনজিও’র পক্ষ থেকে এখনো অল্প সংখ্যক ঈদ সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে। ঈদের নামাজের ব্যাপারে তিনি জানান, এখন থেকে মাস খানেক আগের জরিপে দেখা গেছে, শুধু কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ২ হাজারের বেশি মসজিদ। পর্যাপ্ত মসজিদ রয়েছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। আর সাড়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গা ওসব মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উখিয়া সার্কেল) চাইলাউ মারমা জানান, যতটুকু জানা রয়েছে তা হল রোহিঙ্গারা ক্যাম্পের মসজিদগুলোতে ঈদের নামাজ পড়বে। রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা প্রদানে ৭ টি পুলিশ ক্যাম্প রয়েছে। যেখানে সাড়ে ৩ শত পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে ২৪ ঘন্টা।
জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন জানান, রোহিঙ্গাদের জন্য আলাদাভাবে কোন ব্যবস্থা নেই। তবে রোহিঙ্গাদের খাদ্য সরবরাহের যে তালিকা রয়েছে যেখানে ঈদের জন্য তাদের ব্যবস্থা রয়েছে। তিনি আশা করেন দেশের অন্যান্য মানুষের মত রোহিঙ্গারা ভালভাবে ঈদ উৎযাপন করতে পারবে।
শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবুল কালাম আজাদ জানান, আপাত রোহিঙ্গাদের জন্য আলাদাভাবে ঈদ আয়োজন নেই। অন্যরা সাধারণত যেভাবে ঈদ করে তারাও তাই করবে। তবে ডব্লিউএফপি থেকে তাদের যেসব খাবার-দাবার দেওয়া হচ্ছে তা অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া সকল এনজিওগুলোকে বলা আছে রমজান এবং ঈদ নিয়ে রোহিঙ্গাদের গুরুত্ব দিতে।

Top