জয়-পরাজয় ঠিক করবে ১৬ হাজার তরুণ ভোটার

download-10.jpg

মনতোষ বেদজ্ঞ :
কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৫ জুলাই। পৌর এলাকায় এবার ভোটার বেড়েছে ১৬ হাজারেরও বেশি। তাদের মধ্যে অধিকাংশই তরুণ এবং বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী। এ কারণে নির্বাচনে প্রার্থীদের জয়-পরাজয়ে বড় ‘ফ্যাক্টর’ হবে তরুণ ভোটাররা। তাই নতুন ভোটারদের কাছে টানতে এখন থেকেই ছক কষছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।
জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার পৌরসভার সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১১ সালের ২৭ জানুয়ারি। তখন ভোটার ছিল ৬৭ হাজার ৫৭৭ জন। বর্তমানে ভোটার ৮৩ হাজার ৭২৮ জন (২৯ মে ২০১৮ পর্যন্ত হালনাগাদ তালিকার তথ্য)। সে হিসেবে বিগত সাড়ে ৭ বছরে ভোটার বেড়েছে ১৬ হাজার ১৫১ জন।
জানা গেছে, ২০১১ সালের ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মেয়র পদে বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধান ছিল মাত্র ২ হাজার ২১৪ ভোট। নির্বাচিত জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী সরওয়ার কামাল পেয়েছিলেন মোট ২১ হাজার ১৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী তৎকালীন কক্সবাজার পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান পেয়েছিলেন ১৮ হাজার ৮০২ ভোট। সেই পরিসংখ্যান বিবেচনায় নতুন ভোটার হওয়া ১৬ হাজারের বেশি তরুণ-তরুণীকে জয়-পরাজয়ের অন্যতম ‘হাতিয়ার’ মনে করা হচ্ছে।
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, গত নির্বাচনে যেখানে মাত্র ২ হাজার ২১৪ ভোটে মেয়র প্রার্থীর জয়-পরাজয় নির্ধারণ হয়েছে, সেখানে আরও ১৬ হাজার ১৫১ নতুন ভোটার অনেক বড় ‘ফ্যাক্টর’। মূলত এ তরুণদের উপরই প্রার্থীদের ভাগ্য নির্ভর করছে। যারা এই তরুণদের কাছে টানতে পারবেন তাদের মুখেই ফুটতে পারে বিজয়ের হাসি।
কক্সবাজার পৌরসভার সর্বশেষ নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ৮ জন প্রার্থী। সরওয়ার কামাল ও মুজিবুর রহমান ছাড়াও অন্য প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদুল ইসলাম পেয়েছিলেন ৫১৫১ ভোট, আবদুল খালেক ১৩৬৪ ভোট, রুহুল আমিন সিকদার ৮০৮ ভোট,জুলফিকার আলী ২৩৩ ভোট, জগদীশ বড়–য়া ৩৬ ভোট, রনজিত কুমার দে ৭০ ভোট ও রোকসানা পারভীন ১৪৫ ভোট।
সূত্রমতে, জেলা শহরে বর্তমানে কলেজ রয়েছে ৫টি। এসব কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই পৌরসভার ভোটার। তাদের বড় একটি অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক ধ্যান-ধারনা লালন করেন। অনেকেই সরাসরি বিভিন্ন রাজনীতির কর্মকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত। অধিকাংশ ভোটার জীবনে প্রথম বারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে অপেক্ষাকৃত সৎ ও যোগ্য প্রার্থীদের বেছে নিতে তারা মুখিয়ে আছেন। কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাচনের তপসীল ঘোষনা করা হয় গত ১০ জুন। পরদিন জেলা নির্বাচন কার্যালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। ঘোষিত তপসীল অনুসারে, নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় নির্ধারন করা হয়েছে ২৪ জুন। মনোনয়ন পত্র বাছাই করা হবে ২৬ জুন। মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ৩ জুলাই।
সংশ্লিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার পৌরসভার সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচন ২০১১ সালের ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হলেও নানারকম নাটকীয়তা, আইনী জটিলতার অবসান ঘটিয়ে নির্বাচিত মেয়র সরওয়ার কামালের নেতৃত্বাধীন পৌর পরিষদের মেয়র ও কাউন্সিলররা শপথ গ্রহণ করেন নির্বাচনের ২ বছর ৫ মাস ২৩ দিন পর ২০১৩ সালের ২০ জুলাই। মন্ত্রণালয় বিগত ২০১৫ সালে ২৪ নভেম্বর এক আদেশে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন ২০০৯ এর ৩১(২) উপধারা অনুযায়ী জামায়াত সমর্থিত মেয়র সরোয়ার কামালকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। সেই সাথে একই আদেশ প্রাপ্তির তিন দিনের মধ্যে প্যানেল মেয়র-১ এবং জেলা যুবদল সাধারণ সম্পাদক জিসান উদ্দিনকে কক্সবাজার পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্বভার হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্বভার গ্রহণের আগেই গত ২৫ নভেম্বর প্যানেল মেয়র-১ জিসান উদ্দিন ও প্যানেল মেয়র-২ রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে চকরিয়া থানায় নাশকতা ঘটানোর প্রচেষ্টার অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। ফলে নির্ধারিত ৩ কার্যদিবস অর্থাৎ ২৯ নভেম্বর পার হয়ে গেলেও জেলা যুবদল সাধারণ সম্পাদক জিসান উদ্দিন দায়িত্বভার গ্রহণ করতে পারেননি। অবশেষে কক্সবাজার পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র হন তৎকালীন পৌর কাউন্সিলর ও জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মাবু (বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক)। জামায়াত নেতা সরোয়ার কামালকে মেয়রের পদ থেকে সাময়িক বরখাস্তের এক সপ্তাহ পর ৩০ নভেম্বর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব খলিলুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ দেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, কক্সবাজার পৌরসভা দেশের প্রাচীনতম পৌরসভার মধ্যে একটি। ১৮৬৯ সালে গঠিত হয় এ পৌরসভা। অর্থাৎ আর ১ বছর পর এ পৌরসভা দেড়শত বছরে পদার্পণ করবে। পৌরসভার বর্তমান আয়তন ৩২.৯০ বর্গকিলোমিটার এবং লোকসংখ্যা ২ লাখেরও বেশি।

Top