ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় থেকে আশ্রয় কেন্দ্রে ৮৫১ পরিবার

download-12.jpg

কক্সবাজার রিপোর্ট :
টানা বৃষ্টিতে কক্সবাজার শহরের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধ্বসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিংসহ নানা তৎপরতা চালানো হলেও কেউ ঝুঁকিপূর্ণ বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাচ্ছে না। এরফলে প্রাণহানির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রাণহানি ঠেকাতে শেষ পর্যন্ত প্রশাসন ‘জোরপূর্বক’ পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারিদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিচ্ছে।
বুধবার বিকাল থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়ার তৎপরতা শুরু করে জেলা প্রশাসন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণের নেতৃত্বে বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে শহরের ছয়টি ওয়ার্ডের পাহাড়ে বসবাসকারি লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
জানা গেছে, সম্প্রতি কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বিভিন্ন এনজিও সংস্থার মাধ্যমে শহরের পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসতির তালিকা তৈরী করে। সেখানে পৌরসভার ৬, ৭, ৮, ৯, ১০ ও ১২ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করা ৮৫১ টি পরিবার চিহ্নিত করা হয়। বুধবার বিকেল সাড়ে চারটায় শুরুতে ১২ নং ওয়ার্ডের পাহাড়ে ঝুকিপূর্ণভাবে বসবাসকারিদের নিরাপদে সরানোর তৎপরতা শুরু হয়। এতে নেতৃত্ব দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কাজী আব্দুর রহমান ও সদর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) নাজিম উদ্দিন।
নাজিম উদ্দিন বলেন, ১২ নং ওয়ার্ডে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারি পরিবার রয়েছে ১৫৩ টি। এরমধ্যে বিকাল সাড়ে চারটা থেকে সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে প্রায় ৫০টি পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে আনা হয়। তাদেরকে রাখা হচ্ছে লাইটহাউজপাড়া মাদ্রাসায়। সেখানে খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আজ রাতের মধ্যে সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে আনা হবে।
তিনি আরও বলেন, লোকজনকে বুঝিয়ে কোনভাবেই নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে আনা যাচ্ছে না। লোকজন সহজে পাহাড়ের বাড়ি ছেড়ে যেতে চাচ্ছে না। তাদেরকে জোর করে সরিয়ে আনা হচ্ছে। কিন্তু অনেকে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে পূণরায় পাহাড়ের বসতিতে চলে যেতে যাচ্ছে। তাই আশ্রয় কেন্দ্রে পাহারাও দিতে হচ্ছে।
শহরের অন্যান্য পাঁচটি ওয়ার্ডের বিভিন্ন পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারিদের নিরাপদে সরিয়ে আনার অভিযান শুরু হয় রাত আটটায়। ৯নং ওয়ার্ডে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারিদের সরানোর কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এনডিসি লুৎফুর রহমান আজাদ। তিনি মুঠোফোনে বলেন, ওই ওয়ার্ডে ঝুঁকিপূর্ণভাবে পাহাড়ে বসবাস করছে ১০৭ টি পরিবার। তাদেরকে অনেক কষ্টে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে আনতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বাধ্য করা হচ্ছে।
এদিকে গত মঙ্গলবার (১২) উখিয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঈদ উপহার বিতরণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসককে ইঙ্গিত করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী বলেন, পাহাড় ধসে আর কোন প্রাণহানির খবর তিনি শুনতে চান না। প্রথমে বুঝিয়ে বলবেন পাহাড় বাড়ি ছেড়ে নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য। কিন্তু যদি না বুঝে তাহলে জোরপূর্বক আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসবেন। কোন অবস্থাতে ছাড় নয়।
মন্ত্রীর ওই বক্তব্যের পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আজ (বুধবার) বিকেল থেকে পাহাড়ে বসবাসকারিদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, পাহাড় ধসের ঝুঁকি এড়াতে লোকজনকে জোর করে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে আনা হচ্ছে। বুধবার রাতে ৩০০ পরিবারের প্রায় ১ হাজার লোকজনকে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়েছে। তাদেরকে যেখানে রাখা হচ্ছে সেখানে খাওয়া দাওয়া ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের একটাই লক্ষ্য পাহাড় ধসে যেন কোন অবস্থাতে প্রাণহানি না ঘটে।

Top