ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার ও প্রশাসনের গাফেলতির অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার বিতরণে স্বজনপ্রীতি

download-1-9.jpg

রফিকুল ইসলাম :
প্রায় ১১লক্ষাধিক রোহিঙ্গাদের কারনে ক্ষতিগ্রস্থ উখিয়া, টেকনাফ সহ পুরো কক্সবাজারের লোকজন। স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্থ লোকজনের পাশে সহায়তার হাত নিয়ে দাঁড়ানোর জন্য সকলকে সরকারের পক্ষ থেকে উৎসাহ যোগানো হচ্ছে। খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষতিগ্রস্থ কক্সবাজর বাসীকে ঈদ আনন্দ দিতে ১০ কোটি টাকার ঈদ উপহার সামগ্রী অনুদান দিয়েছেন। এসব ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরনে ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার ও উপজেলা প্রশাসনের ব্যাপক গাফেলতি ও অবহেলার অভিযোগ উঠছে। এ নিয়ে সর্বত্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক এড. রাসেল বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান সরকার যদি আওয়ামীলীগের হয়ে থাকে তাহলে প্রধানমন্ত্রী দেওয়া ঈদ উপহার সামগ্রী ও টাকা বিতরনে বিএনপি-জামায়াত জঘন্য স্বজনপ্রীতি, দলীয়করন, দুর্ণীতি করে কিভাবে। রাজাপালং ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক নুরুল আলম, উখিয়ার ছাত্রলীগ সভাপতি মকবুল হোসেন মিথুন, উখিয়া যুবলীগ সভাপতি মুজিবুল হক আজাদ সহ অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শত শত আওয়ামীলীগ ঘরনার দুঃস্থ, অসহায়, দিনমজুর, খেটে খাওয়া দিন মজুর শ্রম জীবি মানুষদের বাদ দিয়ে মেম্বার, চেয়ারম্যানরা তাদের আত্মীয় স্বজন ও দলীয় লোকজনদের দিয়ে কৌশলে আওয়ামীলীগ ও সরকার প্রধান শেখ হাসিনার প্রদত্ত ঈদ উপহারের নগদ অর্থ পণ্য সামগ্রী লুটে নিয়েছে। তারা বলেন, উখিয়ার ৫ ইউপি চেয়ারম্যানের মধ্যে দুইজন আওয়ামীলীগের তবে তারাও জানিনা দলের নেতা কর্মীদের এড়িয়ে জামায়াত বিএনপির লোকজন নির্ভর হয়ে আওয়ামীলীগের উন্নয়ন ও রাজনৈতিক দর্শন বাস্তবায়ন করছে।
একমাত্র ভারপ্রাপ্ত মহিলা উপজেলা চেয়ারম্যান বিএনপি দলীয়। তা ছাড়া সংরক্ষিত মহিলা সহ ৬০ জন ইউপি সদস্যের মধ্যে ৪৪জনই বিএনপি-জামায়াতের নেতা কর্মী। এসব বিরোধী মনোভাবাপন্ন বিএনপি জামায়াত দলীয় মেম্বার চেয়ারম্যানরা কৌশলে তাদের স্বজন ও দলীয় সমর্থকদের নামের টোকেন দিয়ে নগদ টাকা ও ঈদ পন্য সামগ্রী লুটে নিয়েছে। তারা বলেন, বিএনপি জামায়াতের ঘরে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহার সামগ্রী যাচ্ছে অবাধে। আর আওয়ামী ঘরনার দুঃস্থ লোকজন আমাদের কাছে এসে নালিশ করবে এ দুঃখ কোথায় রাখা যাবে। রোহিঙ্গা ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা উখিয়া ও টেকনাফের ক্ষতিগ্রস্থ লোকজনের সহায়তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ত্রাণ ভান্ডার থেকে পুরো কক্সবাজারবাসীর ১৩ হাজার ৩৫০ জনকে এ বিশেষ ঈদ উপহারের আওতায় আনা হয়েছে। উখিয়ায় প্রায় ৯ লাখ রোহিঙ্গার অবস্থান।
সে অনুযায়ী উখিয়ার লোকজন বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় উখিয়ায় ১২ হাজার ৫শ জন, টেকনাফে ৬ হাজার, চকরিয়ায় ৩ হাজার ৫৮০ জন, পেকুয়ায় ১ হাজার ৮৩৪, কুতুবদিয়ায় ১ হাজার ৭৯০, মহেশখালীতে ২ হাজার ৮৩০, রামুতে ২ হাজার ৬৩০ ও কক্সবাজার সদরে ২ হাজার ১৭০ জনের মাঝে জন প্রতি নগদ ২ হাজার টাকা ও প্রতিজন বা পরিবারকে ২ কেজি সুগন্দ্বি চাল, এক কেজি চিনি, ৫শ গ্রাম গুড়ো দুধ, ২শ গ্রাম করে ৪ প্যাকেট সেমাই, এক লিটার সয়াবিন তেল, একটি সরবতের বোতল ও একটি করে শাড়ি বা লুঙ্গি বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে। যে গুলো গত মঙ্গলবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া উখিয়া ও টেকনাফে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিতরন কার্যক্রম উদ্বোধন করেছে। উখিয়া আওয়ামীলীগের সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ঈদ উপহার সামগ্রী নগদ টাকা বিতরনে মেম্বার চেয়ারম্যান ও উপজেলা প্রশাসন আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দকে কোন ধরনের সম্পৃক্ত করেনি।
এতে প্রকৃত দুঃস্থ লোকজন যারা পাওয়ার উপযোগী তারা বাদ পড়েছে। এতে প্রধানমন্ত্রী যে মহানুভবতা নিয়ে এটি দিয়েছেন তা এখানে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। আমরা এগুলোর ব্যাপারে নিরপক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। এ ব্যাপার উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ঈদ উপহার সামগ্রী ও নগদ টাকা বিতরনে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। গতকাল বুধবার রত্মপালং ইউনিয়নে প্রাথমিক ভাবে এধরনের কিছু অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। গতকাল সন্ধ্যায় উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যানদের সমম্বয়ে এ ব্যাপারে বৈঠক করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরনে কোন অনিয়ম বা দুর্ণীতি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

Top