দলকে না জানিয়ে ভারতে প্রতিনিধি পাঠান তারেক

BNP-Leaders-in-India.jpg

কক্সবাজার ডেস্ক :

আজন্ম ‘ভারতবিরোধী’ বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল সম্প্রতি ভারত সফর করেছেন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রতিনিধি দলের এই ভারত সফর বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও সফরের বিষয়টি জানতেন না দলটির শীর্ষ নেতারা। দলীয় সূত্রমতে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবীরকে ভারত সফরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত ছিল তারেক রহমানের একার।
লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তার রাজনৈতিক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীরকে লন্ডন থেকে দিল্লিতে পাঠান। আর ঢাকা থেকে দিল্লি যাওয়ার নির্দেশ দেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও আব্দুল আউয়াল মিন্টুকে। দিল্লি সফর শেষে এরই মধ্যে লন্ডনে ফিরে গেছেন হুমায়ুন কবীর। এই সফর সম্পর্কে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘দলের পক্ষ থেকে কেউ ভারত সফরে গেছেন বলে আমি জানতাম না। পরে পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে জেনেছি।’ দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও বলেন, “বিএনপির প্রতিনিধি দলের ভারত সফর সম্পর্কে আমি কিছু জানতাম না। আমি শুধু ‘দ্যা হিন্দু’তে দেখেছি। যাওয়ার আগে-পরে এ বিষয় নিয়ে দলীয় ফোরামে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না সেটাও আমি জানি না।” সফরকালে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবীর ভারতের প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক দ্য হিন্দুকে বলেছেন, “পেছনে না তাকিয়ে আমাদের সামনের দিকে তাকানো উচিত। গত শতকের ৮০ ও ৯০-এর দশকের রাজনীতি এখন বাতিল হয়ে গেছে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময় ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যে খারাপ সম্পর্ক ছিল, তা ‘ভুল ও বোকামিপূর্ণ’ নীতির ফসল। তারেক রহমান চান, আমরা ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে চলি।”
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, হুমায়ুন কবীরের এই বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়েছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। তারা বলছেন, ৮০ ও ৯০ দশকে বিএনপি’র বারবার রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার নেপথ্যে ছিল ‘ভারতবিরোধী’ অবস্থান। সেটাকে সরাসরি ‘ভুল ও বোকামিপূর্ণ’ বলে হুমায়ুন কবীরের মন্তব্য এখতিয়ার বহির্ভূত।হুমায়ুন কবীরের বক্তব্য সম্পর্কে ড খন্দকার মোশাররফ হোসেন সারাবাংলা’কে বলেন, ‘তাকে আমি চিনি না। কে কোথায় কী বললো, তার ব্যাখ্যা আমি দেবো না। ওই সফরে তো আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ছিলেন। আপনি তার সঙ্গে কথা বলুন।’ অবশ্য বিএনপির কোনো কোনো নেতা বলছেন, হুমায়ুন কবীর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠজন। সুতরাং তার বক্তব্যকে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। তার বক্তব্য প্রকারান্তরে তারেক রহমানেরই বক্তব্য। আর তারেক রহমানের অবস্থানই বিএনপির অবস্থান।
এ প্রসঙ্গে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘তিনি কী পরিপ্রেক্ষিতে কী বলেছেন পত্র-পত্রিকায় অনেক কথা আসে। আমরা খতিয়ে না দেখা পর্যন্ত কিছু বলতে পারব না।’ বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতা বলেন, মোটা দাগে আমরা যেটা বলতে পারি ভারত অভ্যন্তরীণভাবে গণতান্ত্রিক একটি দেশ এবং নিঃসন্দেহে এই অঞ্চলের বৃহত্তর গণতন্ত্রের দেশ। সেখানে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সরকারের পালাবদল হয়। তাদের প্রতি আমাদের যথেষ্ট সম্মান-শ্রদ্ধাবোধ আছে। সে কারণেই আমাদের বিশ্বাস, বাংলাদেশ প্রশ্নে দলভিত্তিক নীতিতে তারা অনড় থাকবেন না। তাদের অবস্থান বদলাবে। বিএনপির এই নেতা আরো বলেন, ভারতের প্রধান দু’টি রাজনৈতিক দল বিজেপি ও কংগ্রেসের কাছে দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করেছে বিএনপি। যেসব বিষয়ে তাদের উদ্বেগের বিষয় ছিল, সেগুলো দূর করেছে। কিছু আশ্বাসও দিয়েছে। দেশটির থিংকট্যাংক হিসেবে পরিচিত কয়েকটি সংগঠনের কাছেও নিজেদের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, ভারতের রাজনৈতিক দলগুলোও চায় বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হোক। উল্লেখ্য, ভারত-বিরোধিতাকে পুঁজি করেই বিএনপির প্রতিষ্ঠা। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দলটির রাজনীতির একটি বড় অনুষঙ্গ ভারত-বিরোধিতা। দলটির প্রতিদিনের রাজনৈতিক ভাষণ-বক্তৃতা-বিবৃতিতেও এ বিরোধিতা স্পষ্ট। জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া দলটির অন্যতম ভিত্তিই ছিল ভারতবিরোধী অবস্থান।

Top