মাহে রমজানের সওগাত

images-2.jpg

কক্সবাজার ডেস্ক :

আজ পবিত্র মাহে রমযানের ২৯তম দিবস। আজ বা কাল সন্ধ্যায় পশ্চিমাকাছে রূপালী চাঁদ দেখা দিলেই বিশ্ব মুসলিম সমাজের দুয়ারে করাঘাত করবে এক মহা আনন্দোৎসব ‘ঈদ-উল-ফিতর’। চারিদিকে বয়ে যাবে আনন্দের ঢেউ। ঈদ মানেই আনন্দ ও খুশির উৎসব। ঈদ মানে উচ্ছল, উচ্ছ্বাসে হারিয়ে যাওয়ার মুহূর্ত। সদ্য ভুমিষ্ট শিশু থেকে আবাল বৃদ্ধ বণিতা সবার দেহ-মনে ঈদের ছোঁয়া লাগে।
‘ঈদ’ শব্দটির আরবি শব্দমূল ‘আউদ’। এর অর্থÑ যা বার বার ফিরে আসে। ‘ফিতর’ শব্দের অর্থ ভেঙ্গে দেওয়া, ইফতার করা। ঈদুল ফিতর মানে সে আনন্দঘন উৎসব, যা দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর আসে। এক মাস রোযার সাধনার পর এই দিনে সেই সাধনার পুরস্কার হিসেবে ক্ষমা পাওয়াই সেই আনন্দের কারণ্
হযরত আনাস (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (দ.) ইরশাদ করেন, আল্লাহ্ তা’আলা ঈদের দিন ফেরেশতাদের মধ্যে রোযাদারদের নিয়ে গর্ব করে বলেন, ‘হে ফেরেশ্তারা আমার কর্তব্যপরায়ণ প্রেমিক বান্দার বিনিময় কী হতে পারে? ফেরেশ্তারা বলেন, ‘হে প্রভু! পূর্ণরূপে পুরস্কার দান করাই তো তার প্রতিদান।’ আল্লাহ্ বলেন, আমার বান্দারা তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছে।
অতঃপর দোয়া করতে করতে ঈদগাহে গমন করেছে। সুতরাং আমার মর্যাদা, সম্মান, দয়া ও বরকতের কসম: আমি তাদের দোয়া কবুল করব এবং তাদের মাফ করে দেব। (বায়হাকি-৩/এ৪৩)
ঈদের রাত মুমিনদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি রাত। এ রাতের ইবাদত ও জেগে থাকার ফলে মুমিনের জন্য জান্নাত ওয়াজিব হওয়ার সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি দুই ঈদের রাতে সাওয়াবের নিয়তে ইবাদত করবে, তার অন্তর সেদিন মরবে না, যে দিন অন্যদের অন্তর মরে যাবে।’ (ইবনে মাজাছ)
হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করিম (স.)-কে বলতে শুনেছি যে আল্লাহ তা’আলা চার রাতে সব ধরনের কল্যাণের দরজা খুলে দেন। যেমন: ঈদুল আযহার রাত, ঈদুল ফিতরের রাত, ১৫ শাবানের রাত ও আরাফাত রাত। আর এভাবে ফযরের আযান পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। ঈদের রাতটি Ñ (চাঁদরাত) মুমিনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ রাত। এ রাতে ইবাদতের মাধ্যমে জীবন্ত রাখার ফলে ফলে মুমিনের জন্য জান্নাত ওয়াজিব হওয়ায় সুসংবাদ রয়েছে। তাই এ রাতে অনর্থক কোনো কাজে লিপ্ত না হয়ে তার যথাযথ মর্যাদা দেওয়াই একজন প্রকৃত মুমিনের জন্য বাঞ্ছনীয়।
ঈদের দিনের সুন্নাত হলো যথাসাধ্য সুসজ্জিত হওয়া, গোসল করা, নিজের উত্তম কাপড় পরিধান করা, প্রত্যুষে ঘুম থেকে ওঠা, সকাল সকাল ঈদগাহে যাওয়া, ঈদগাহে যাওয়ার আগে মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়া, ঈদগাহে হেঁটে যাওয়া ইত্যাদি।
ঈদের দিন নতুন বা উত্তম পোশাক পরিধান করা প্রয়োজন। ইবনুল কায়্যিম বলেন, ‘রাসূল (দ.) দুই ঈদেই ঈদগাহে যাওয়ার আগে সর্বোত্তম পোশাক পরিধান করতেন।
ইসলাম বিনোদনকে সমর্থন করে কিন্তু অশ্লীলতাকে মোটেই প্রশ্রয় দেয় না। ইসলামের উৎসবে ঢোল-তবলা নেই। বিনোদনের নামে অসামাজিকতা ও নগ্নতা নেই। নারী-পুরুষের অবাধ বিচরণ ইসলামে নিষিদ্ধ। ঈমানদারদের ঈদের আনন্দ উত্তম পোশাক পরিধান, ঈদের দিন মিষ্টিমুখ করা, সাদকাতুল ফিতর আদায় ও ঈদের নামায আদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। উৎসবের সঙ্গে মানুষের রুচি ও চাহিদার বিষয়টি জড়িত। অন্যদের উৎসব ও আমাদের উৎসবের মধ্যে পার্থক্য আকাশ-পাতাল।
মুসলমানদের উৎসব অপ-সংস্কৃতি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। উৎসবের নামে অনাচার, কদাচার, পাপাচার, আর নৈতিকতা বিবর্জিত বল্গাহীন অনুষ্ঠান আড়ম্বরের অবকাশ নেই ইসলামে। আবার বৈধ ও নির্দোষ আনন্দ-ফূর্তি, শরীরচর্চামূলক খেলাধুলা, নৈতিক মূল্যবৈাধ ও ইমানী ব্যঞ্জনা সমৃদ্ধ শিল্প সংগীত এগুলোও ঈদের দিনের বৈধ আনুষ্ঠানিকতার বাইরে না। সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছাÑ ঈদ মোবারক।

Top