নাইক্ষ্যংছড়ির বনাঞ্চল কাঠচোরের হাতে কর্মকর্তারা ঈদের ছুটিতে, দেড় কোটি টাকার কাঠ পাচার

nc-hill-tree18-6-18-1.jpg

মাঈনুদ্দিন খালেদ :
বান্দরবানের লামা বনবিভাগের আওতাধিন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দু’রেঞ্জের কর্মকর্তারা চোরের হাতে বনাঞ্চল তুলে দিয়ে ঈদের ছুটিতে গেছেন। দারা পরিবার নিয়ে আনন্দে ঈদ কাটাতে গত এক সপ্তাহ ধরে বন বিভাগের দায়িত্বশীলরা কর্মস্থলে না থাকায় নানামাধ্যমে সড়ক ও নদী পথে অন্তত দেড় কোটি টাকার কাঠ পাচার করে নিয়ে গেছে কাঠ চোরের দল। আর এখানে বাগান মালি ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জকর্মকর্তা।
অভিযোগে প্রকাশ,নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় বন রেঞ্জ অফিস রয়েছে দু’টি। একটি বাইশারীর সাঙ্গু রেঞ্জ আর অপরটি নাইক্ষ্যংছড়ি সদরের নাইক্ষ্যংছড়ি রেঞ্জ। বর্তমানে এ দুটো অফিস চলছে ভারপ্রাপ্ত দিয়েই- কোনো মতে জোড়াতালি দিয়ে। এখানে কর্মরত রয়েছে সীমিত সংখ্যক স্টাফ। এরই মাঝে ঈদুল ফিতর চলে আসায় এই-কম সংখ্যংক কর্মকর্তা বা বন কর্মচারীরা সকলে (৩ জন বাদে) ঈদের ছুটির নাম দিয়ে চলে যায় স্ব-স্ব বাসা-বাড়িতে। এ কারণে অফিস শূন্য। কেননা রেঞ্জাররা নাইক্ষ্যংছড়ি ছেড়েছেন ১১ জুন। ১৮ জুন পর্যন্ত তারা কর্মস্থলে ফিরেননি। সরেজমিন গিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
আর সুযোগটি কাজে লাগিয়ে উপজেলার নানা প্রান্ত দিয়ে সক্রিয় ১টি নদী ও ২টি খাল এবং ১৬টি সংযোগ সড়ক দিয়ে কোটি টাকার কাঠ পাচার করে ফেলে কাঠ চোরের দল। অবশ্য পাল্লা দিয়ে চাদাঁবাজিও চলেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,উপজেলার যে সব সড়ক দিয়ে এ কাঠ পাচার হয়েছে এবং হচ্ছে সে গুলো হলো:আশারতলী-নাইক্ষ্যংছগি সড়ক, চাকঢালা-নাইক্ষ্যংছড়ি সড়ক, লেবুছড়ি-কচ্ছপিয়া সড়ক,বাকঁখালী-নারিচবুনিয়া ও থিমছড়ি সড়ক, আলিক্ষ্যং-ঈদগড় বাজার সড়ক, কাগজিখোলা-খুটাখালি সড়ক, সোনাইছড়ি-রাজারকূল ও নাইক্ষ্যংছড়ি সড়ক এবং ঘুমধুমের বড়ইতলী-পাতাবাড়ি সড়ক, ফাত্রাঝিরি-ভালুকিয়া সড়ক, বৈদ্যছড়া-পাতাবাড়ি-মরিচ্যা সড়ক, কুতুপালং-বড়–য়াপাড়া সড়ক ও রেজু আমতলী-টাইপালং সড়ক। আর নাইক্ষ্যংছড়ির প্রধান সড়কে বিজিবির তদারকি থাকায় রাতে রেষ্ট হাউজ সড়ক দিয়ে কাঠ পাচার হয়েছে এবং হচ্ছে নির্র্বিঘেœ ।
আর বাকঁখালী নদী এবং ঈদগড় খাল ও রেজু খাল দিয়েই সব চাইতে বেশী এবারের ঈদে কাঠ পাচার হয়েছে। সব মিলে অন্তত দেড় কোটি টাকার বিভিন্ন প্রজাতির কাঠ ও লাকড়ি এবারের ঈদে পাচার হয়েছে বন রেঞ্জ কর্মর্কতাদের অনুপস্থিতি ও অবহেলার কারণে।
তারা আরো জানান,আর বাইশারীর সাঙ্গু ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা ও একই চরিত্রের। চোরাই কাঠের চাঁদা আদায়ের জন্যে নিয়োজিত কাশেম ও ফরিদ নামের দু’জন এফজি ছাড়া আর কেই নেই এ রেঞ্জেও। আর এ দু রেঞ্জ অফিস এলাকায় রয়েছে অন্তত ২৫টি র অধিক করাত কল। যে গুলো রাতদিন অবৈধ কাঠ চিরাই কাজে নিয়েজিত। যেখান থেকে মাসিক মাশোহারা নেন এ বন বিভাগ।
বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে নাইক্ষ্যংছড়ির রেঞ্জ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) নূরে আলম জানান,তার অফিসে লোকবল রয়েছে ৫ জন। এবারের ঈদে তিনি সহ স্টাফরা ছুটিতে আছেন। তবে তার এ বনবিভাগ দেখবাল করার জন্যে একজন স্টাফ রয়েছে। তার নাম আবদুল করিম। তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া তিনি আজ কালের মধ্যে ফিরবেন বলেও জানান এ সময়। পরে খবর নিয়ে জানা যায়, এ আবদুল করিম বয়সে ষাট পার হয়ে গেছে। তিনি একজন বাগান মালি। যিনি ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা।
এবিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম সরওয়ার কামাল এ প্রতিবেদককে জানান,এ বিষয়ে তিনি খোজঁ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেবেন। তিনি আরো বলেন, এ দু’অফিসে সরাসরি রেঞ্জার না থাকায় সমস্যা একটু বেশী হয়ে গেছে।

Top