সংবাদ সম্মেলনে খুরুশকুল ইউপি’র মেম্বাররা চেয়ারম্যান জসিমকে ষড়যন্ত্র করে হত্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে

Press-Confarece.jpg

কক্সবাজার রিপোর্ট :

খুরুশকুলের ইউপি চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিনকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হয়রানি করতেই আবছার কামাল হত্যার ঘটনায় জড়ানো হয়েছে। নিজ দলের অভ্যন্তরে থাকা রাজনৈতিক ও নির্বাচনী প্রতিপক্ষ ষড়যন্ত্র করে তাকে এ ঘটনায় ফাঁসিয়েছে। গতকাল বুধবার কক্সবাজার প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবী করেছেন খুরুশকুল ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বাররা।
সংবাদ সম্মেলনে ইউপি সদস্যদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-১ মোর্শেদ আলম কাজল। এসময় তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘চেয়ারম্যানের হামলায় যদি আবছারের মৃত্যু হয়, তাহলে সেই চেয়ারম্যান পালিয়ে না গিয়ে কেন আহত আবছারকে নিয়ে হাসপাতালে ছুটে গেলেন?’
তিনি বলেন, ‘আবছার নামের ওই ব্যক্তিকে গুরুতর আহত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে চেয়ারম্যান তাৎক্ষনিক চিকিৎসার জন্য তাকে নিজের গাড়িতে করে দ্রুত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন। ওই গাড়িতে কালাপুতুর ভাই দিদারও ছিলো। হাসপাতালে এনে দ্রুততার সাথে চিকিৎসককে দেখানোসহ তাকে বাঁচানোর জন্য সব ধরনের চেষ্টাই করেছেন তিনি। কিন্তু তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।’
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, চেয়ারম্যান জসিম উদ্দীন ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই আবছার প্রকাশ কালাপুতু হামলার শিকার হয়। চেয়ারম্যান গিয়ে দু’পক্ষকে নিবৃত্ত করে এবং তার গাড়িতে করে অতিদ্রুত আহত আবছারকে হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু নির্বাচনে নিজ দলের একটি প্রতিপক্ষ একটি চক্র ওই ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে চেয়ারম্যান জসিম উদ্দীনকে মামলায় আসামী করেছে। চেয়ারম্যান জসিমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন নানা অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে একটি মহল। মূলত তারই অংশ হিসেবে এই হত্যার সাথে সম্পূর্ণ নির্দোষ হওয়ার পরও চেয়ারম্যান জসিমকে জড়ানো হয়েছে। তিনি যদি ওই ঘটনায় জড়িত থাকতেন তাহলে তিনি অবশ্যই পালিয়ে যেতেন। কিন্তু নির্দোষ বলেই পালিয়ে যাননি। এটাই সত্য ঘটনা।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ‘জসিম উদ্দীন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে খুরুশ্কুলে আইন-শৃঙ্খলাসহ সব সমস্যা অত্যন্ত সফলতার সমাধান করে যাচ্ছেন। এছাড়াও নানা ধরণের উন্নয়ন কর্মকান্ড সম্পন্ন করেছেন। যা আগে কখনো কেউ পারেনি। অন্যদিকে চেয়ারম্যান জসিম উদ্দীন দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সাথে জড়িত। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি রাজনীতি করতে গিয়ে সর্বসাধারণের জন্য সমানভাবে কাজ করেছেন। তাঁর সফলতায় ঈর্ষান্বিত হয়ে তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। আমরা তার বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্রের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সাথে মিথ্যা অভিযোগ দায়েরকৃত মামলা থেকে চেয়ারম্যান জসিম উদ্দীনকে অব্যাহতি দিয়ে তাকে মুক্তি দেয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।’
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার আবু মোহাম্মদ জাহেদ উদ্দীন, ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বার এহতেশামুল হক জওয়ান, ৫নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোহাম্মদ সোহেল, ৬নং ওয়ার্ডের মেম্বার মো: শফিউল আলম, ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার জয় বর্ধন দে, ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোরশেদ আলম, ৯নং ওয়ার্ডের মেম্বার মাখন চন্দ্র দে, সংরক্ষিত ১, ২, ৩ নং ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার সাজেদা বেগম, ৪, ৫, ৬ নং ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার সুফিয়া নূর ও ৭, ৮, ৯ নং ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার বুলবুল আকতার। সংবাদ সম্মেলনে একাত্মতা জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল করিম মাদু। এছাড়াও এলাকার মান্যগণ্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে ঘোষনা করা হয় জসিম চেয়ারম্যানকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর প্রতিবাদে ও তার মুক্তির দাবিতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করা হবে। একই সাথে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দেয়া হবে।

Top