বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করাই এখনকার দায়িত্ব-আলোচনা সভায় বক্তারা

Coxs-World-Refugee-Day-Pic-01.jpg

বার্তা পরিবেশক :
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম বলেছেন, অন্যান্য সময়ের তুলনায় বর্তমানে বিশ্বে উদ্বাস্তু হওয়ার বিষয়টি রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে এবং বর্তমানে ৬ কোটি ৮৫ লক্ষ লোক বিশ্বে উদ্বাস্তু হিসেবে বসবাস করছে। উখিয়া-টেকনাফে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের অবস্থানের ফলে জনসংখ্যা, ভূমি সহ অবকাঠামোর উপর বড় চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এতে মানবিক সংকটময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের প্রথমে সরকার ও এনজিওরা প্রস্তুত ছিলনা তখন স্থানীয় জনগণ নিজেদের যা আছে তা দিয়ে রোহিঙ্গাদের সহায়তা করেছেন, প্রাণে বাঁচিয়েছেন। বাংলাদেশর মানুষ সংবেদনশীল, উদ্বাস্তুদেরকে আমরা অবশ্যই মানবিকতার দৃষ্টিতেই দেখবো। গতকাল বুধবার বিশ্ব শরণার্থী দিবস উপলক্ষে ”বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক মর্যাদা” শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কক্সবাজার জেলা পরিষদ হলরুমে কোস্ট ট্রাস্ট ও কক্সবাজার সিএসও-এনজিও-ফোরাম (সিসিএনএফ) আয়োজিত উক্ত আলোচনা সভায় শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম অরো বলেন, গত দশমাস যাবত উদ্বাস্তুদেরকে সহায়তা করতে সেনাবাহিনীসহ স্থানীয় জনগণ, এনজিও, আইএনজিও, ইউএন এজেন্সিসমূহ সকলে মিলে পরস্পরের সহযোগী ও সহযাত্রী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। সেই বহুধা বিভক্ত কার্যক্রমে আমি শুধু শৃংখলা বজায় রাখার এবং সরকারী নীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা বজায় থাকে সেটাই দেখছি। আসল কাজ করছেন আপনারা সকলে।
তিনি বলেন, উদ্বাস্তুদেরকে অবশ্যই আমরা মানবিকতার দৃষ্টিতেই দেখবো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গতবছর উখিয়ায় এসে সেকথাই বলে গেছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনামতে মায়ানমারের উদ্বাস্তু নাগরিকরা নিরাপত্তার সাথে যতদিন ফেরত যাচ্ছেননা ততদিন আমরা মানবিক মর্যাদার সাথেই তাদের সাথে আচরণ করবো। উখিয়া-টেকনাফে পরিবেশের যে ক্ষতি হয়েছে তা পুনরুদ্ধারের জন্য সরকার কার্যক্রম গ্রহণ করবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার জন্য সবকিছু করবে সরকার। স্থানীয় জনগোষ্ঠির মধ্যে যে অতৃপ্তিবোধের সৃষ্টি হয়েছে তা নিরসনের জন্য জিআরপি’তে মোট বাজেটের এক চতুর্থাংশ রাখা হয়েছে। যে কোনো সংকট শুধু ক্ষতি সৃষ্টি করে না, অনেকসময় সম্ভাবনার দুয়ারও খুলে দেয়। বিশ্ব শরণার্থী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করায় এবং রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের জন্য ইতিবাচক করণীয় বিষয়ে আরো অনেক সভার আয়োজন করায় কোস্ট ট্রাস্ট ও সিসিএনএফকে ধন্যবাদ জানান।
সিসিএনএফ’র কো-চেয়ার আবু মোরশেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় কোস্ট ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক ও সিসিএনএফ’র সদস্য-সচিব মকবুল আহমদের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন কোস্ট ট্রাস্ট-এর পরিচালক সনত কুমার ভৌমিক।
মায়নমারের বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে এবং বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে যারা এই সভায় উপস্থিত হয়েছেন তাদেরকে সিসিএনএফ ও কোস্ট ট্রাস্ট-এর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানান কোস্ট ট্রাস্ট’র পরিচালক সনত কুমার ভৌমিক।
সিসিএনএফ’র সদস্য-সচিব মকবুল আহমেদ বলেন, ইতিহাসের নানা পর্বে সামরিক জান্তা ও ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রের নির্যাতনে জনগণ যেভাবে নির্যাতিত হন এবং বাস্তুচ্যুত হন তা নানা সময়ে নানাস্থানে ঘটে চলেছে। বাঙালিদেরকেও ১৯৭১ সালে এক কোটি লোককে শরণার্থী হতে হয়েছিল। তখন অনেক বাঙ্গালিকেও আরাকানের রোহিঙ্গাদের বাড়িতে বাস্তুচ্যুত হয়ে আশ্রয় নিতে হয়েছিল, তা যেন আমরা ভুলে না যাই।
সভায় বিশেষ অতিথির ভাষণে ইউএনএইচসিআর’র ওপারেশন প্রধান এলিজাবেথ স্থানীয় জনগণ ও স্থানীয় সংস্থাসমূহ রোহিঙ্গাদের সর্বপ্রথম সহায়তাকরায় তাদেরকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, স্থানীয় জনগণের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে ইউএন সংস্থাসমূহ এবং ইউএনএইচসিআর চেষ্টা করে যাচ্ছে। স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য বিশ্ব ব্যাংক ও এশিয়ান ডেভেলেপমেন্ট ব্যাংক ইতোমধ্যে বরাদ্দ করেছে, শীঘ্রই তার কাজ শুরু হবে। আগামী ২০১৯ সালে টঘঐঈজ ঈধষষ ভড়ৎ রহঃবৎবংঃ আহবান করবে এবং তাতে স্থানীয় সংস্থাদেরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
কোস্ট ও সিসিএনএফকে বিশ্ব শরণার্থী দিবস স্মরণে কক্সবাজারে আলোচনা সভা অনুষ্ঠোনের আয়োজন করায় ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ইউএনএইচসিআর বিশ্ব শরণার্থী দিবস পালন করে থাকে এবং যারা শরণার্থীদের প্রতি সহানুভূতি ও সহমর্মিতা জানাতে এগিয়ে এসেছেন তাদের সকলকে আমি ধন্যবাদ জানাই।
সভাপতির ভাষণে আবু মোরশেদ চৌধুরী বলেন, আমরা বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ দেই, কারণ অনেক বছর পর বাস্তুচ্যুতদের প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ ইউএনএইচসিআর’র সাথে চুক্তি করেছে এবং বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে রোহিঙ্গাদের বিষয়টি তুলেছে। সিসিএনএফ গত বছর প্রথমে স্থানীয় পরিবেশের ও স্থানীয় জনগণের ক্ষতির বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করে।
সভায় বক্তব্য রাখেন, কউক সদস্য ইঞ্জিনিয়ার বদিউল আলম, দৈনিক বাঁকখালী সম্পাদক সাইফুল ইসলাম চৌধুরী, পিটিআই সাবেক সুপারিন্টেন্ডেন্ট মো: নাসির উদ্দিন, কক্সবাজার সাহিত্য একাডেমীর সহসভাপতি নাসিরুদ্দিন, মুক্তি প্রতিনিধি অশোক সরকার, এনটিভি প্রতিনিধি ইকরাম চৌধুরী টিপু, দৈনিক জনকন্ঠ প্রতিনিধি এইচ.এম এরশাদ, ব্রাক প্রতিনিধি অজিত নন্দী, পরিকল্পিত কক্সবাজার আন্দোলন সমন্বয়ক আবদুল আলীম নোবেল, কক্সবাজার পরিবেশ মানবাধিকার ও উন্নয়ন ফোরাম পরিচালক ইলিয়াচ মিয়া।

Top