খালেদার মুক্তিতে ‘কার্যকর’ কর্মসূচি আসবে

download-1-11.jpg

কক্সবাজার ডেস্ক :

খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনের ‘নিয়মতান্ত্রিক’ কর্মসূচিতে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, “বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা এবং তার জন্য প্রয়োজন হলে যে আন্দোলনের কর্মসূচি আমরা এতদিন দিয়ে এসেছি, সেটা আমাদেরকে পরিবর্তন করতে হবে। “এমন কর্মসূচি দিতে হবে, যে কর্মসূচি কার্যকর কর্মসূচি হবে। যার মাধ্যমে আমরা তাকে মুক্ত করে আনতে পারব।”
জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় দ- নিয়ে পাঁচ মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এই মামলায় আপিল করে তিনি জামিন পেলেও অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোয় তার মুক্তি আটকে আছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে কারাগারে যাওয়ার আগে খালেদা জিয়া নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি চালিয়ে যেতে বলেছিলেন দলীয় নেতাদের। এরপর বিএনপির আর কঠোর কোনো কর্মসূচি আসেনি। নির্বাচন পর্যন্ত খালেদার কারামুক্তি সরকার ঠেকিয়ে রাখবে আশঙ্কা থেকে এখন জোরালো কর্মসূচি দেওয়ার কথা বলছেন বিএনপির বিভিন্ন নেতা। পাশাপাশি নির্বাচনকালীন নিন্দলীয় সরকারের দাবি মানতে সরকারকে বাধ্য করতেও আন্দোলনের কথা বলছেন তারা।
মওদুদ বলেন, “শুধু ওই নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে কোনো স্বৈরাচারী সরকারকে পৃথিবীর কোথাও অপসারণ করা সম্ভবপর হয়নি। সুতরাং এদেশেও এটা সম্ভবপর হবে না। “এই উপলব্ধি থেকে উপযুক্ত সময়ে উপযুক্ত কর্মসূচি দেওয়া হবে, সেই কর্মসূচি সফল হবে এবং দেশে একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”
আন্দোলন গড়তে সরকারের বাধা পাওয়ার ধারণা করে সাবেক মন্ত্রী মওদুদ বলেন, “তারা (সরকার) বিএনপিকে মাঠে নামতে দেবে না, রাস্তায় নামতে দেবে না। এটাই তাদের উদ্দেশ্য। আমরা বলতে চাই, এর জবাব আমরা ইনশাল্লাহ দেব। আর অল্প কিছু দিন অপেক্ষা করতে হবে।” “যে ধরনের আন্দোলনে অতীতে স্বৈরাচারী সরকারের পতন হয়েছে ১৯৬৯ সালে এবং ১৯৯০ সালে। সেই ধরনের আন্দোলনই বাংলাদেশে হবে,” বলেন ৯০ এর আন্দোলনে পতন ঘটা সামরিক শাসক এইচ এম এরশাদের তখনকার সঙ্গী মওদুদ। নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয় ঈদের সময় নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে নিজের বাড়িতে মওদুদকে অবরুদ্ধ করে রাখার প্রতিবাদ জানাতে।
জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর পরিচালনায় এই সংবাদ সম্মেলনে বৃহত্তর নোয়াখালীর সাবেক সাংসদ বরকতউল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, জয়নুল আবদিন ফারুক, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, মাহবুব উদ্দিন খোকন, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান, রেহানা আখতার রানু, নাজিম উদ্দিন আহমেদ বক্তব্য রাখেন। নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বর্তমান সংসদ সদস্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ইন্ধনে পুলিশ মওদুদকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল বলে বিএনপি নেতাদের অভিযোগ।
তবে কাদের এই অভিযোগ নাকচ করে বলেছেন, স্থানীয় বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে মওদুদের নিরাপত্তার জন্য তার বাড়িতে পুলিশ গিয়েছিল। তাকে অবরুদ্ধও করা হয়নি, আর এতে আওয়ামী লীগেরও কোনো ভূমিকা ছিল না। সংবাদ সম্মেলনে খোকনসহ বিএনপি নেতারা বলেন, বর্ষীয়ান নেতা মওদুদ আহমদকে পুলিশ অবরুদ্ধ করে রেখেছিল ওবায়দুল কাদেরের নিন্দেশেই। রাজনীতির সহবস্থানের ঐতিহ্য নষ্ট করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। ঈদের দিনের দলীয় নেতা-কর্মী ওসাধারণ মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে না দেওয়া, বড় মসজিদের ঈদের জামাতে নামাজ পড়তে বাধা পাওয়ার অভিযোগ করেন মওদুদ।
তিনি বলেন, “পুলিশ আমাকে বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রেখে ছিলো। আমার বাড়ির সামনে একটি ট্রাক আড়াআড়ি করে রেখে দিয়েছিল। “আজকে ওবায়দুল কাদেরের পায়ের নিচে মাটি নেই। তিনি এখন মিথ্যা কথা বলছেন। ঈদের দিনের ঘটনার পেছনে ওবায়দুল কাদেরই দায়ী। পুলিশই আমাকে বলেছে যে, ‘স্যার আমাদেরকে কোনো দোষ দিয়েন না। আমরা উপরের হুকুমে করছি’।”
সাবেক মন্ত্রী মওদুদের এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে নোয়াখালীর পুলিশ সুপার মো ইলিয়াছ শরীফ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সুনিন্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিরাপত্তাজনিত কারণে মওদুদ আহমদের বাড়ির সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। উনার নিরাপত্তার স্বার্থেই উনাকে সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে বের হতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছিল।” ‘উপরের নিন্দেশের’ কথা অস্বীকার করে পুলিশ সুপার বলেন, “ব্যারিস্টার মওদুদ একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, তিনি একজন বড় রাজনৈতিক নেতা। তার নিরাপত্তার বিষয়টি আমাদের দেখতে হয়। এখানে কোনো উপরের হুকুমের ব্যাপার ছিল না।”

Top