মাদক ব্যবসায় পৃষ্ঠপোষকতায়ও সর্বোচ্চ সাজা : প্রধানমন্ত্রী

download-2-9.jpg

কক্সবাজার ডেস্ক :

নতুন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মাদক ব্যবসায় পৃষ্ঠপোষকদের সর্বোচ্চ সাজা, অর্থাৎ মৃত্যুদ-ের বিধানের প্রস্তাব করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে বুধবারের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি বলেন, “সংশোধিত আইনে মাদক ব্যবসায় পৃষ্ঠপোষক ও মাদকের গডফাদারসহ মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ-ের বিধান রাখার প্রস্তাব করা হবে।”
পিরোজপুর-৩ আসনের সাংসদ মো রুস্তম আলী ফরাজীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মাদক ব্যবসায় পৃষ্ঠপোষকতাকারী ও মাদকের গডফাদারসহ মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের লক্ষ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ প্রণয়ন করা হচ্ছে।” মাদক ব্যবসার পৃষ্ঠপোষক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আইনের আওতায় আনতে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মুদ্রাপাচার সংক্রান্ত অপরাধ তদন্তের ক্ষমতাও নতুন আইনে রাখা হচ্ছে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান।
মাদকদ্রব্য ও মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে সরকার সবসময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মাদকের আগ্রাসন প্রতিরোধে মাদক চোরাকারবারি, মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী, মাদক চোরাচালান সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। “মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। যানবাহন ও মাদক স্পটগুলোতে তল্লাশী অভিযান চলছে।”
প্রধানমন্ত্রী জানান, গত ১৮ মে থেকে এ পর্যন্ত চলমান মাদক বিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণে মাদকদ্রব্য, অস্ত্র, গোলাবারুদ এবংযানবাহন জব্দ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত মাদকদ্রব্য সংশ্লিষ্ট ১৫ হাজার ৩৩৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মোট ২০ হাজার ৭৬৭ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে বিচারে সোপন্দ করা হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, “মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৯০ এর অধীনে সংঘটিত অপরাধের বিচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পৃথক আদালত গঠনের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে মাদক অপরাধীদের তাৎক্ষণিক সাজা দেওয়া হচ্ছে।” মাদক অপরাধ সংক্রান্ত মামলার বিচার কার্যক্রম আলাদা কোনো আদালতের মাধ্যমে পরিচালনার বিষয়টি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় খতিয়ে দেখছে বলেও প্রধানমন্ত্রী জানান।
সরকারি দলের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। সে নীতি বাস্তবায়নে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাবসহ অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা মাদক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”
তিনি বলেন, ২০১৭ সালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ সব সংস্থা এক লাখ ৩২ হাজার ৮৮৩ জন মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে এক লাখ ৬ হাজার ৫৩৬টি মামলা দায়ের করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাদক সমস্য নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে মহাপরিচালক পর্যায়ে নিয়মিত ফলপ্রসূ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।পাশাপাশি ইয়াবা পাচার রোধে বাংলাদেশ ও মিয়ানমরের মধ্যে তিনটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়েছে। তিনি বলেন, “প্রতিটি বৈঠকেই মিয়ানমারকে ইয়াবার উৎপাদন ও প্রবাহ বন্ধ করার জন্য এবং মিয়ানমার সীমান্তে ইয়াবা তৈরির কারখানা সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করে প্রয়োজনীয় ব্যস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়েছে। মিয়ানমারের সঙ্গে ডিসি-ডিএম পর্যায়ে সভা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কক্সবাজার জেলায় ৯৪ জনবলের বিশেষ জোন স্থাপন ও বর্ডার লিয়াঁজো অফিস স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

Top