বিপাকে প্রবাসী ও ব্যবসায়ীরা পৌরসভার নির্বাচনী খরচ যোগাতে চাঁদা দাবী

download-14.jpg

মাহাবুবুর রহমান :
কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচনে কতিপয় প্রার্থী খরচ যোগাতে চাঁদা দাবী করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পৌর এলাকার অনেক ধর্ণাঢ্য ব্যবসায়ি ও প্রবাসীদের কাছ থেকে নানান কৌশলে চাঁদা দাবী করছে প্রার্থীরা। ব্যবসায়িও প্রবাসীদের দাবী চক্ষুলজ্জার কারনে কোন প্রার্থীকে আর্থিক সহযোগিতা করলে সেটা খবর পেয়ে অন্য প্রার্থীরাও চাঁদা দাবী করছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন অনেকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হোটেল মালিক জানান কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাচনী তফসীল ঘোষনা করার পর থেকে মনের মধ্যে একটি আশংকা ছিল কখন চাঁদার জন্য প্রার্থীর কাছ থেকে ফোন আসে। সে চিন্তায় অস্তির ছিলাম শেষে আমার ধারনায় ঠিক হলো ১২ নং ওয়ার্ডের এক কাউন্সিলার প্রার্থী নির্বাচনী খরচ বলে আমার কাছে চাঁদা দাবী করেছে। তিনি জানান শুধু আমি নয় আরো কয়েকজন হোটেল মালিকের কাছে চাঁদা দাবী করেছে। এখন সমস্যা হচ্ছে যদি কোন কারনে চক্ষু লজ্জায় সেই প্রার্থীকে কিছুটা আর্থিক সহায়তা করলে অন্য প্রার্থীরাও একই ভাবে চাঁদা করছে কিনা। এদিকে ফোনে ২ জন কটেজ মালিক বলেন আমাদের কাছ থেকেই একই ভাবে পৌরসভার নির্বাচনী খরচ বলে টাকা চাওয়া হয়েছে। তারা বলেন শুধু নির্বাচন নয় এখানে ব্যবসা করতে গেলে একটি পক্ষকে খুশি করে ব্যবসা করতে হয়। আর আমরা বাইরে থেকে এখানে এসে ব্যবসা করছি তাদের সাথে ঝামেলায় যেতে চাইনা।
এদিকে কক্সবাজার পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডে বসাবাসকারী এক প্রবাসী জানান আমাদের আসল বাড়ি ঈদগাওতে ৩ বছর আগে জমি কিনে এখানে বাড়ি করেছি এখন পৌরসভার নির্বাচন হচ্ছে তাই এখানে অনেকে প্রার্থী হয়েছেন। আমি ঈদের সময় সৌদি আরব থেকে দেশে এসেছি আরো কিছুদিন থাকবো কিন্তু ইতি মধ্যে ২ জন কাউন্সিলার প্রার্থী আমার কাছে সরাসরি নির্বাচনী খরচ বলে টাকা দাবী করেছে। এমনকি একজন বলেছে ভোটে জিতি বা হারি এখানে বসবাস করতে হলে টাকা দিতে হবে না হলে এখানে বসবাস করা কঠিন হবে। তাই বাধ্য হয়ে একজনকে টাকা দিয়েছি এখন আরো একজন পিছু নিয়েছে তাদের সমর্থকরা আমাকে খুব বিরক্ত করছে। বিষয়টি আমার পরিচিত কয়েকজনকে বলেছি তারাও বলেছে কিছু টাকা দিয়ে দফারফা করতে।
একই ভাবে ফোনে ৭ নং ওয়ার্ডের এক প্রবাসীর ছেলে বলেন, আমাদের ওয়ার্ডে নির্বাচন করার জন্য বেশ কয়েক জন প্রার্থী হয়েছে,এখানে ইসুলুঘোনা এলাকাতে এখন বাড়ি থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে গেছে, প্রার্থীর সামনে পড়লেই তার সাথে হাটতে বাধ্য করা হচ্ছে,যদি কেউ তাদের সাথে হাটতে অস্বিকার করে তাহলে তাকে নানান ভাবে নাজেহাল করা হচ্ছে। আর এক প্রার্থী সরাসরি চাঁদা দাবী করছে প্রার্থীর ভাইরা এসে বলেছে তাদের ভাই নির্বাচন করছে তাই নির্বাচনী খরচ জোগাতে বেশ টাকা দরকার তাই আমাদের নাকি টাকা দিতে হবে। তিনি বলেন শুধু আমাদের কাছে নয় এরকম পরিবেশ দেখে আরো অনেকের কাছে চাঁদা দাবী করেছে।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক কমিশনার ও ভারপ্রাপ্ত মেয়র আবদুল খালেক বলেন, আগে নির্বাচনে প্রার্থী হতো মানুষের সেবায় নিবেদিত প্রাণ ব্যক্তিরা একই সাথে যাদের সামাজিক মর্যাদা এবং আর্থিক ভাবে সংগতি ছিল এমন ব্যক্তিরা। কিন্তু এখন অনেক জায়গায় দেখা যাচ্ছে অনেক ড্যামি প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে প্রথমে থাকে পরে তারা অন্যপ্রার্থীদের কাছে ম্যানেজ হয়ে আর মাঠে থাকে না। এতে সে সব ব্যক্তির যে আত্বসম্মানবোধ কতটা কমে যাচ্ছে সেটা তারা কেউ খেয়াল করে না।
এ ব্যাপারে জেলা সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন জেলা সভাপতি প্রফেসর এম এ বারী বলেন, নির্বাচন বা ভোট গনতন্ত্রের প্রথম শর্ত কিন্তু এখন ভোট একটি আতংক এবং মানুষের চিন্তার কারন হয়ে দাড়িয়েছে। যারাই রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকে তারা নির্বাচনকে প্রভাবিত করছে। আর নির্বাচনে এক সময় প্রার্থী হতো এলাকার সব চেয়ে ভাল মানুষগুলো এখন তার বিপরীত চিত্র। তাই সর্বক্ষেত্রে বিরুপ অবস্থা বিরাজ করছে। আর কেউ চাঁদা চাইলে তাকে উৎসাহিত না করে তাকে আইনের আওতায় আনার পরামর্শ দেন তিনি।
এদিকে কক্সবাজার সদর থানার ওসি ফরিদ উদ্দিন খন্দকার বলেন,নির্বাচনে চাঁদা চাওয়ার কোন অভিযোগ এ পর্যন্ত পায় নি। যদি কেউ এ ধরনের অভিযোগ করে সাথে সাথে আইনী সহায়তা করা হবে। উল্লেখ্য আগামী ২৫ জুলাই কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্টিত হবে।

Top