বসলো পঞ্চম স্প্যান দৃশ্যমান হলো পৌনে এক কিলোমিটার

download-4-8.jpg

কক্সবাজার ডেস্ক:

দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে পদ্মাসেতুর কাজ। সেতুর ৪১ ও ৪২ নম্বর পিলারের ওপর ‘৭ এফ’ স্প্যান বসানোর মাধ্যমে দৃশ্যমান হলো সেতুর পৌনে এক কিলোমিটার (৭৫০ মিটার)। এর মধ্য দিয়ে শরীয়তপুরের জাজিরা পাড়ের সঙ্গে প্রথমবারের মতো সংযুক্ত হলো সেতু।
শুক্রবার (২৯ জুন) সকাল ১১টা থেকে স্প্যান বসানোর কাজগুলো শুরু হয়। দুপুর ২টায় জাজিরা প্রান্তে স্প্যানটি পিলারের ওপর বসানো হয়। সেতুর ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১ নম্বর পিলারে চারটি ধূসর রংয়ের স্প্যান বসানোর মাধ্যমে ৬০০ মিটার কাঠামো দৃশ্যমান হয়। চারটি স্প্যান বসানো হয়েছে নদীতে এবং পঞ্চম স্প্যানটি বসেছে সেতুর একেবারে শেষ প্রান্তে।
এরআগে, বৃহস্পতিবার (২৮ জুন) বেলা ১১টার দিকে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া কুমারভোগ কন্সট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে তিন হাজার ৬০০ টন ধারণ ক্ষমতার ‘তিয়ান ই’ ক্রেনে করে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূর থেকে ১৫০ মিটার দীর্ঘ ও তিন হাজার ১৪০ টন ওজনের স্প্যানটি আনা হয়। ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ভাসমান ক্রেনের মাধ্যমে স্প্যানটি জাজিরায় পৌঁছায়।
পদ্মা সেতুর সহকারী প্রকৌশলী (মূল সেতু) হুমায়ুন কবির বাংলানিউজকে জানান, ক্রেনের সহায়তায় পিলারের ওপর স্প্যান রাখা হয়েছে। স্থায়ীভাবে বসতে ২-৩ ঘণ্টা সময় লাগবে। ওয়েল্ডিংয়ের কাজসহ আরও কিছু কাজ বাকি রয়েছে।
পদ্মা সেতুর প্রকৌশলী সূত্রে জানা যায়, চারটি স্প্যান বসানোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সকাল থেকেই পিলারের ওপর স্প্যান বসানোর কার্যক্রম শুরু হয়। স্প্যান বহনকারী ক্রেনটিকে ৪১ ও ৪২ নম্বর পিলারের সামনে পজিশন অনুযায়ী আনা হয়। এরপর লিফটিং ক্রেনের সাহায্যে পিলারের ওপর রাখা হয় স্প্যানটিকে। নদীর পাড়ে অবস্থিত ৪২ নম্বর পিলারটি। পাড়ের মাটি ড্রেজার দিয়ে কাটা হয় ক্রেনটির সুবিধার্থে। এছাড়া স্প্যান ওঠানোর আগে ওয়েট টেস্ট, ট্রায়াল লোড টেস্ট, বেজ প্লেট, পাইল পজিশন, মেজারমেন্টসহ আনুষঙ্গিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়। সাময়িক সময়ের জন্য নৌরুটে নৌযানগুলোর গতি কমিয়ে চলাচল করতে বলা হয়।
২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বসানো হয় প্রথম স্প্যানটি। এর প্রায় ৪ মাস পর চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি দ্বিতীয় স্প্যানটি বসে। এর মাত্র দেড় মাস পর ১১ মার্চ শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে ধূসর রঙের তৃতীয় স্প্যানটি বসানো হয়। এরপর ২ মাস পর ১৩ মে বসে চতুর্থ স্প্যানটি। পঞ্চম স্প্যানটি বসলো ১ মাস ১৬ দিনের মাথায়।
স্প্যানের অংশগুলো চীন থেকে তৈরি করে জাহাজে করে আনা হয় বাংলাদেশে। ফিটিং করা হয় মাওয়ার কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে। সেতুটির নির্মাণ শেষ হলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২২ জেলার সঙ্গে সড়ক ও রেলপথে সরাসরি যুক্ত হবে রাজধানী ঢাকা।
৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সেতুতে ৪২ পিলারের ওপর বসবে ৪১টি স্প্যান। পদ্মা বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো।

Top