আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও কউকের চূড়ান্ত নোটিশ উপেক্ষা করে বাহারছড়ায় ভবন নির্মাণ অব্যাহত : নিস্ক্রিয় কউক

16.jpg

বার্তা পরিবেশক :
আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এবং কউকের চুড়ান্ত নোটিশও উপক্ষো করে এখনো ভবন নির্মান অব্যাহত রেখেছে শহরের বাহারছড়ার এক প্রভাবশালী। এত কিছুর পরও কউক বা জেলা প্রশাসন অনুমতি ছাড়া বিরোধপূর্ণ জমিতে ভবন নির্মান বন্ধ করতে না পারা এবং নির্মানাধীন ভবন উচ্ছেদ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাহারছড়ার স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবী কউক দ্বিমুখী নীতি অবলম্বন করছে। কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক এবং বর্তমানে চকরিয়া পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা ছৈয়দুল হক আজাদ ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোন প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করেই এই ভবন নির্মান করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, শহরের বাহারছড়া এলাকার আব্দুস সামাদের মালিকাধীন ২০ শতক জমি রয়েছে। তাঁর চার ছেলে চার মেয়ে। তিনি মারা যাওয়ার পর ওই সম্পত্তি সকলের মধ্যে বণ্টন না করে আব্দুস সামাদের ছেলে গোলাম রহমানের দুই ছেলে ছৈয়দুল হক আজাদ ও ওমর ফারুক জোরপূর্বক ভোগ দখলে নেয়। পরে সবার অংশীদারিত্ব আদায়ের জন্য সামাজিকভাবে অনেক বিচার শালিস হয়। কিন্তু এসব তোয়াক্কা না করে ছৈয়দুল হক আজাদ উল্টো ভবন নির্মাণ শুরু করে। এরপর আদালতে মামলা করে আব্দুস সামাদের মেয়ে রহিমা খাতুন। তার পক্ষে মামলা পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় তাঁর ছেলে রফিকুল আলমকে। ওই মামলার প্রেক্ষিতে এডিএম কোর্টে আবেদন করলে পর পর দুইবার নিষেধাজ্ঞা দেয় আদালত। ওই নিষেধাজ্ঞায় জমিতে কোন ধরণের স্থাপনা বা অবস্থান না করার জন্য বলা হয়। জমির মালিকানার পক্ষে খতিয়ানসহ যাবতীয় কাগজপত্র না থাকায় কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) পর পর তিনবার নোটিশ করে। সর্বশেষ কউকের পক্ষ থেকে ছৈয়দুল হক আজাদকে নির্মাণাধীন ভবন নিজ দায়িত্বে উচ্ছেদ করার নোটিশ করা হয়। সবকিছু তোয়াক্কা না করে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ভবন নির্মাণ অব্যাহত রেখেছে ছৈয়দুল হক আজাদ।
এর আগে ২০১৫ সালের ৫ মার্চ পারিবারিকভাবে আপোষনামা হয়। সেই আপোষনামাতে উভয়পক্ষের মধ্যে মোটামুটি সমঝোতা হয়। আপোষনামাতে ২য় পক্ষ অর্থাৎ রহিমা খাতুন তথা রফিকুল আলমকে জমি প্রাপ্য অনুযায়ী ভোগ দখল করতে দেয়ার অঙ্গিকার করেন ছৈয়দুল হক আজাদ। কিন্তু বৈঠক শেষ হওয়ার পর পরই সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন আজাদ। সমঝোতায় উল্লেখিত কোন শর্তই মানেননি।
এরই মধ্যে ছৈয়দুল হক আজাদ গং গোপনে জাল খতিয়ান তৈরী করে। পরে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সেই খতিয়ান বাতিল করেন।
এদিকে প্রথম নিষেধাজ্ঞার পর গত ২২ মে ওই জমিতে পূণরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আদালত। রফিকুল আলমের আবেদনের প্রেক্ষিতে অতিরিক্তি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খালেদ মাহমুদ এক আদেশে এই নিষেধাজ্ঞা দেন। ১৪৪ ধারার পরিবেশ বজায় রাখার জন্য সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ও আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভবন নির্মাণ অব্যাহত রেখেছে আজাদ।
ছৈয়দুল হক আজাদের ভবন নির্মাণের অনুমোদনের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২০১৭ সালের ২০ নভেম্বর কউকের সভাকক্ষে গণশুনানী অনুষ্ঠিত হয়। ওই গণশুনানীতে ছৈয়দুল হক আজাদের আবেদনের বিরুদ্ধে রফিকুল আলম আপত্তি দেওয়ায় তাঁকে (আজাদ) অনুমোদন দেওয়া হয়নি। এরপর কউকের পক্ষ ছৈয়দুল হক আজাদ ও তার ভাই ওমর ফারুককে নোটিশ করা হয়। কউকের ওই নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ‘আপনাকে মৌখিকভাবে বারবার ইমারতের অনুমোদনপত্র ও অনুমোদিত নকশা দাখিলের জন্য অনুরোধ করা হলেও আপনি/আপনারা উক্ত ইমারতের/জায়গার কোন বৈধ কাগজপত্র দেখাতে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং আপনি/আপনারা স্বীকার করেছেন যে, বৈধ কোন কাগজপত্র নেই। এমনকি নির্মাণাধীন ইমারতের কোন অনুমোদিত নকশা নেই।’
এরপর নানা কারণ দেখিয়ে পর পর আরও দুটি নোটিশ দেয় কউক। সর্বশেষ নোটিশে আজাদকে নিজ দায়িত্বে ভবন ভেঙ্গে ফেলার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু কউকের নির্দেশনা অমান্য করে ভবন নির্মাণ অব্যাহত রাখে আজাদ। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত চালিয়ে ভবনটি ভেঙ্গে দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসক বরাবরে চিঠি লিখেন কউকের অথরাইজড অফিসার। কিন্তু এখন পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান চালায়নি জেলা প্রশাসন অথবা কউক। কউক নিজেদের দায়িত্ব এড়িয়ে চলায় বারবার নিষেধাজ্ঞার পরও ভবন নির্মাণের সুযোগ পাচ্ছে আজাদ।

Top