মাদকবিরোধী অভিযানে সহায়তা করুন : প্রধানমন্ত্রী

download-8.jpg

কক্সবাজার ডেস্ক :

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাদকবিরোধী অভিযানে সহায়তা করতে আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের আহ্বান জানিয়েছেন দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার গণভবনে আওয়ামী লীগের এক বর্ধিত সভায় তিনি এই আহ্বান জানানোর পাশাপাশি ভোটের আগে স্থানীয় পর্যায়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে ফেলতেও বলেন।
এই সভায় রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের প্রতিটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত দলীয় চেয়ারম্যান, মহানগরের অধীন সংগঠনের প্রতিটি ওয়ার্ডের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও দলীয় নির্বাচিত কাউন্সিলর এবং জেলা পরিষদে নির্বাচিত দলীয় সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরাও সভায় ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এখন মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ মাদক মানুষের জীবনই ধ্বংস করে না, একটা পরিবার ধ্বংস করে দেয়। কাজেই এই মাদকের বিরুদ্ধে আপনাদের সহযোগিতা চাই।
“জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সকলে ঐক্যবদ্ধ এভাবে মাদকের বিরুদ্ধেও সবাই মিলে আপনারা অভিযান চালাবেন। সকলকে বোঝাবেন, যাতে ছেলেরা পড়াশোনা করে।” প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বলেন, “মাদকের কথা আসলে আমাদের উখিয়া-টেকনাফের মানুষের মাথা হেট হয়ে যায়। আপনার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানাই।”
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বছরে তৃণমূল পর্যায়ে দলের অবস্থা সরাসরি স্থানীয় নেতাদের কাছ খেকে শুনতে এই সভা ডাকেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। তৃণমূল নেতারাও দলীয় প্রধানের কাজে তাদের সমর্থন প্রকাশ করেন। ঝালকাঠীর কৃত্তিপাশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শঙ্কর মুখ্যার্জি বলেন, “আমি একজন সাধারণ মানুষ। হাঁস-মুরগি পালি। আজকে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী বলে আমাকে এখানে কথা বলার সুযোগ দিয়েছেন। এ সুযোগ অন্য কেউ দিত না।” সরকারের উন্নয়নের ছোঁয়া গ্রাম পর্যায়েও যাওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “উন্নয়ন দেখতে হলে গ্রামে আসেন। আমাদের গ্রামে কোনো ছনের ঘর নেই।” নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার নগরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিলুফার ইয়াসমিন প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খো কো মারমা পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির ফলে পাহাড়ি মানুষের জীবন-মান উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আমির আলী বলেন, “আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেটের ১৯টি সিট আমরা আপনাকে উপহার দেব। সিলেট সিটি কর্পোরেশনে আপনি যাকে মেয়র পদে মনোনয়ন দিয়েছেন, আমরা আপনাকে সিটি মেয়র উপহার দেব।”
বরিশাল মহানগরের ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আবুল ফারুক হুমায়ুন বলেন, “আগামী সিটি নির্বাচনে আপনাকে বরিশাল থেকে একটা নতুন উপহার দিব। সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহকে মেয়র নির্বাচিত করে আপনাকে উপহার দেব।” পাবনার সাদুল্ল্যাহপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস মন্ডল স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রশংসা করে বলেন, “আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি, নৌকার জয়ের জন্য কাজ করে যাব।”
অন্যদিকে জাতীয় পার্টির স্থানীয় সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আমির আলী। তিনি বলেন, “এখানে টাকা ছাড়া কোনো নিয়োগ হয় না। সিলেটের ওই আসন থেকে শফিকুর রহমান চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়ার অনুরোধ জানাই। আমাদের নৌকা আমাদের ফিরিয়ে দিন।”
সুনামগঞ্জের মোহনপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হেমন্ত তালুকদার বলেন, “আমরা গ্রাম থেকে এসেছি, আমাদের কোনো কথা বলার সুযোগ নাই। আওয়ামী লীগের শত্রু আর কেউ নাই। নির্বাচন আসলেই আওয়ামী লীগের শত্রু আওয়ামী লীগ হয়ে যায়।” বক্তব্যে শেখ হাসিনা কোন্দল মিটিয়ে ফেলার পরামর্শ দিয়ে বলেন, “যেসব জায়গায় ইউনিয়ন কমিটি নিয়ে দ্বন্দ¦ আছে, খুব দ্রুত সেগুলো মিটিয়ে ফেলতে হবে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকবে হবে।”
নতুন কর্মী সৃষ্টির তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ”নিজেদের গ্রুপ করতে গিয়েযারা আমাদের মানুষ হত্যা করেছে, নির্যাতন করেছে, তাদেরকে টানাটানি না করে আপনারা নতুন নতুন কর্মী সৃষ্টি করেন।” তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। “মনোনয়নের ক্ষেত্রে আমরা সবসময় তৃণমূলের মতামত নিয়ে থাকি। সকলের মতামত নিয়েই আগামী মনোনয়ন দেব। আমরা ইতোমধ্যে জরিপ করে যাচ্ছি।” নৌকা প্রতীকে ভোট চাওয়ার তাগিদ দিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, “কাকে নমিনেশন দেব, সেটা বড় কথা নয়, নৌকা মার্কায় আপনরারা ভোট চাইবেন। সেইভাবেই আপনারা ঘরে ঘরে যাবেন, আমাদের উন্নয়নের কথা তুলে ধরতে হবে।”
স্থানীয় পর্যায়ের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যেন ভালোভাবে বাস্তবায়িত হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে দলীয় নেতাদের বলেন তিনি। “অনেক কষ্ট করে আমরা বাজেট করি, টাকা দেই। এই রাস্তাগুলো যেন ভালোভাবে তৈরি হয়, সেদিকে আপনারা একটু বিশেষভাবে দৃষ্টি দেবেন। ওখানে কোনোরকম দুর্নীতি যেন না হয়।” সরকারের দেওয়া ভাতা নিন্দিষ্ট নাগরিকরাই যেন পায়, সেদিকেও তৃণমূল নেতাদের দৃষ্টি দিতে বলেন শেখ হাসিনা। তৃণমূলের নেতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্তী বলেন, “আমাদের উন্নয়নের কথাগুলো আপনারা প্রতি গ্রামে, প্রতি ঘরে ঘরে, প্রতি পরিবারের কাছে পৌছে দেবেন, সেটাই আমি চাই। “কারণ মানুষকে বলতে হবে, মানুষ সুখ পেলে কিন্তু দুঃখের দিনের কথা ভুলে যায়। এই সুখটা পেলো কীভাবে, সেটা তাদেরকে মনে করিয়ে দিতে হবে।”

Top