শতফুট উঁচু পাহাড় কর্তন, দুই ব্যক্তির কারাদণ্ড

Nihad-News-Pic-17-3-18-1.jpg

কক্সবাজার রিপোর্ট :

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে প্রশাসন ব্যস্ত থাকার সুযোগে শতফুট উচু পাহাড় সাবাড় করতে ৫০ জন শ্রমিক নিয়োগ করে ভুমিদস্যূ চক্র। ভূমিদস্যুরা বিশাল পাহাড়টির বড় একটি অংশ কেটে ফেলে।
খবর পেয়ে শনিবার দুপুর ১২ টায় ঘটনাস্থলে পুলিশ নিয়ে হাজির হন ইউএনও। হাতেনাতে ধরা পড়ে পাহাড়খেকো চক্রের দুই সদস্য। পরে তাদের উভয়কে দুই বছরের কারাদ- দেওয়া হয়। ঘটনাটি ঘটেছে কক্সবাজার শহরের বাইপাস সড়কের উত্তরপাশে উত্তরণ হাউজিং সংলগ্ন এলাকায়।
কক্সবাজার সদর উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, উত্তরণ সংলগ্ন বাইপাস সড়কের উত্তরপাশে বিশাল একটি পাহাড় কেটে সাবাড় করে ভূমিদস্যূরা। তাদের উদ্দেশ্যে ছিল প্রশাসনের ব্যস্ততার সুযোগে তড়িঘড়ি করে একদিনের মধ্যেই পাহাড়টি কেটে সাবাড় করে ফেলা। কিন্তু খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নোমান হোসেন প্রিন্স পুলিশ ফোর্স নিয়ে সেখানে অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় তাৎক্ষণিকভাবে ৬ জনকে আটক করে। তবে অভিযান টের পেয়ে অনেক শ্রমিক পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে মাটি কাটার বিভিন্ন ধরণের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
ইউএনও নোমান হোসেন বলেন, পাহাড়টি প্রায় এক’শ ফুট উচু। ভুমিদস্যূরা তড়িঘড়ি করে কেটে সাবাড় করার পায়তারা করেছিল। কিন্তু সফল হয়নি। তারপরও বেশকিছু অংশ কেটে ফেলেছে তারা।
তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থল থেকে আটক ছয় জনের মধ্যে চারজন শ্রমিক। বাকি দুই জন সরকারি পাহাড় দখল করে কর্তনের সাথে জড়িত। একারণে তাদের দুইজনকেই পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে দুই বছর করে বিনাশ্রম কারাদ- দেওয়া হয়। এরা হলেন, খোরশেদুল আলম (৩৮) ও শহীদুল ইসলাম (৪৬)। বাকি চারজন শ্রমিককে ৫০ টাকা করে অর্থদ- দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক সাইফুল আশ্রাব বলেন, সাজাপ্রাপ্ত আসামী খোরশেদুল আলমের বিরুদ্ধে পাহাড় কাটার অপরাধে পরিবেশ অধিদপ্তরের মামলা রয়েছে। কিন্তু তারপরও পাহাড় কাটা অব্যাহত রাখে তারা। তিনি বলেন, চক্রটি কয়েক মাস আগে একই স্থানে আরও একটি পাহাড় কেটে সাবাড় করে। ওই সময় মামলাটি দায়ের করা হয়।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ উদ্দীন খন্দকার বলেন, সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামীকে কক্সবাজার কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

Top