ম্যাক্স হাসপাতালের ‘গাফিলতি মিলেছে’ তদন্তে

1530891134.jpg

কক্সবাজার ডেস্ক :

চট্টগ্রামের ম্যাক্স হাসপাতালে শিশু রাফিদা খান রাইফার মৃত্যুর ক্ষেত্রে ‘গাফিলতির প্রমাণ পেয়েছে’ সিভিল সার্জন নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটি।অবহেলায় ওই সাংবাদিককন্যার মৃত্যুর অভিযোগ ওঠার পর গঠিত এই তদন্ত কমিটি বৃহস্পতিবার প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের জিজ্ঞাসায় চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা আজিজুর রহমান সিদ্দিকী এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হননি। তবে তদন্ত কমিটির অন্য এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ম্যাক্স হাসপাতালে সেদিন কর্তব্যরত চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলা এবং গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেছে।” স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিচালক ডা কাজী মো জাহাঙ্গীর হোসেন পরিদর্শনের সময় ম্যাক্স হাসপাতালের যেসব ত্রুটি পেয়েছিলেন, সেগুলো তদন্ত কমিটির কাছেও ধরা পড়েছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, কমিটি ম্যাক্স হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, মালিক কর্তৃপক্ষ ও হাসপাতালের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলে প্রতিবেদন তৈরি করেছে।
সিভিল সার্জন ডা আজিজুর রহমান বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালায়ের মহাপরিচালকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। এর অনুলিপি বিএমএ সভাপতি, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি এবং চকবাজার থানার ওসিকে পাঠানো হয়েছে।এই তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন- সিভিল সার্জন ডা আজিজুর রহমান সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ডা প্রণব কুমার চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক সবুর শুভ।
এদিকে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উঠে আসা শিশু মৃত্যুর কারণ ও কমিটির করা সুপারিশ তুলে ধরতে শুক্রবার সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন। এর আগে একই ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিন্দেশে গঠিত অন্য একটি কমিটি মন্ত্রণালয়ের ডিজি বরাবরে যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে ম্যাক্স হাসপাতালকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে।
ওই কমিটি ম্যাক্স হাসপাতালে ১১ ধরনের ত্রুটির সন্ধান পাওয়ার কথা জানায়।দৈনিক সমকালের চট্টগ্রাম ব্যুরোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রুবেল খানের আড়াই বছর বয়সী মেয়ে রাইফা গলায় ব্যথা নিয়ে গত বৃহস্পতিবার বিকালে বন্দর নগরীর মেহেদীবাগের ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। শুক্রবার রাতে তার মৃত্যু ঘটে। সাংবাদিকরা এই মৃত্যুর জন্য কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের অবহেলাকে কারণ দেখিয়ে তাদের শাস্তি দাবিতে বিক্ষোভ করেন ওই রাতেই।
তখন পুলিশ ওই হাসপাতালের ডিউটি চিকিৎসক ও নার্সকে থানায় নিয়ে গেলেও বিএমএর চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা ফয়সাল ইকবাল গিয়ে তাদের ছাড়িয়ে আনেন। এনিয়ে সাংবাদিক ও চিকিৎসকরা পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিও পালন করেন। এরমধ্যে রাইফার মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে জেলা সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

Top