প্রতীক নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রার্থী ও সমর্থকরা

images-3.jpg

মাহাবুবুর রহমান :
বোতল, গাজর, ঢেড়স, টিউবলাইট, ব্ল্যাক বোর্ড, স্ক্রুডাইভার সব অসংখ্য অগ্রহণযোগ্য প্রতীক নিয়ে বিপাকে পড়েছে পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থীরা। তারা এসব প্রতীক র্নিধারন করায় চরম ক্ষোব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তাদের সমালোচনা করেন এবং অনেকে প্রতীকের কারনে নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার আশংকা প্রকাশ করেন। এদিকে অনেক প্রার্থীর সমর্থকরা ছাড়াও সাধারণ ভোটাররা প্রতীক নিয়ে সমালোচনা করেন।
কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচনে ২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলার প্রার্থী মিজানুর রহমানের সমর্থক আবদুল কাদের বলেন, আমাদের প্রার্থী বর্তমান পৌর কাউন্সিলার এলাকায় তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে তবে বর্তমানে যে প্রতীক পেয়েছে সেটা নিয়ে সাধারণ ভোটারদের সামনে গেলে অনেকে হাসাহাসি করে কারন আমাদের প্রতীক পানির বোতল, অনেকে চায়ের দোকানে বসে বোতল প্রতীক নিয়ে নানান মুখরোচক কথাবার্তা বলে এটা খুবই অপমান জনক। আমার মতে নির্বাচন কমিশনের পৌরসভা নির্বাচনের মত গুরুত্বপূর্ন নির্বাচনে এ ধরনের প্রতীক র্নিধারন করা উচিত হয় নি।এটা খুবই বাজে প্রতীক হয়েছে।
এ ব্যাপারে কাউন্সিলার প্রার্থী মিজানুর রহমান বলেন নির্বাচনে প্রতীক অনেক বড় ফেক্টর এটা ভোটারদের মনে প্রভাব ফেলে। এবারে আমরা দেখেছি সেখানে সব আজে বাজে প্রতীক। পানির বোতল ছাড়াও আছে গাজর, ঢেড়স, স্ক্রুডাইভার, টিউবলাইট, ব্লেক বোর্ড ইত্যাদি। আমার মতে এটা প্রার্থীদেরকে তাচ্ছিল্য করেছে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা।
একই ভাবে পৌরসভার ১১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলার প্রার্থী আবু সায়েম ডালিমের ভাই আবু নাঈম পাপ্পু বলেন, ২৫ জুলাই নির্বাচনে আমাদের প্রার্থীর বিজয়ের সম্ভবনা অনেক বেশি তবে আমাদের প্রতীকটি মনের মত হয়নি। আমাদের প্রতীক গাজর এটা আসলে মানুষকে পরিচিত করতে একটু বেগ পেতে হচ্ছে। আর সব চেয়ে বড় কথা ব্যালটে গাজর কিভাবে উঠে বা সেখানে দেখা যায় কিনা সেটাই এখন চিন্তা করছি। তবে আরো ভাল মার্কা হলে আমাদের জন্য ভাল হতো। ৪নং ওয়ার্ডের টিউবলাইট নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্ধন্ধি প্রার্থী নুরুল আবছার বলেন, টিউবলাইট আগে কোন নির্বাচনে প্রতীক হিসাবে দেখিনি,আর টিউবলাইট ব্যানার পোস্টার এবং ছবিতে ও তেমন ভাল আসে না। তাই আমার প্রতীক নিয়ে সত্যি আমি খুব চিন্তায় আছি। এটা কোন ভাবেই গ্রহনযোগ্য নয়। তিনি বলেন, আমার মতে ঢাকাতে নির্বাচন কমিশনে যারা এসব প্রতীক নির্ধারন করেছে তারা প্রার্থীদের চরম ভাবে অবহেলার চোখে দেখে এসব প্রতীক নির্ধারন করেছে। আমি এর তিব্র নিন্দা জানাই।
একই ওয়ার্ড থেকে পানির বোতল মার্কা নিয়ে নির্বাচন করছেন বর্তমান কাউন্সিলার সিরাজুল হক। তিনি বলেন আমি এ পর্যন্ত আগে ৩ বার নির্বাচন করে জিতেছি কিন্তু কোন সময় এ ধরনের তাচ্ছিল্যকরা প্রতীক দেখিনি। এটা আমাদেরকে তাচ্ছিল্য করেছে। না হলে নির্বাচন কমিশনের বোঝা উচিত অনেক প্রতীকের পার্শপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। এ ব্যাপারে কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র আবদুল খালেক বলেন,আসলেই কাউন্সিলার নির্বাচনের প্রতীক গুলো খুবই বাজে হয়েছে,আর প্রতীক যে কোন প্রার্থীকে সাহস এবং মনোবল বাড়াতে কমাতে সহায়তা করে। সেখানে প্রতীকের কারনে অনেক ভাল প্রার্থীও নির্বাচনের পরাজিত হতে পারে। আগে কত সুন্দর সুন্দর প্রতীক ছিল, তালাচাবি, কাপ পিরিচ, টেবিল, চেয়ার, উড়োজাহাজ, মোরগ, হরিন, গরু, মটর সাইকেল, বাই সাইকেল সহ অনেক ভাল ভাল প্রতীক ছিল। সে হিসাবে বর্তমান প্রতীক গুলো আসলেই খুব বাজে হয়েছে যা ভোটারদের উপর প্রভাব ফেলবে। কক্সবাজার পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের ভোটার মোহাম্মদ আলী বলেন, আমার জীবনে পৌরসভা নির্বাচনে এধরনের প্রতীক দেখিনি। এবারের প্রতীক গুলো খুবই হাস্যকর এবং প্রার্থীদের জন্য অপমান জনক। অনেক মহিলা ভোটার বা বয়স্ক মানুষ আছে যারা ব্যালট প্যাপারে ঠিকমত এসব প্রতীক চিনতে পারবে না। আর সব চেয়ে বড় অসুবিধা হচ্ছে প্রচারনা চালাতে এসব প্রতীক খুবই অসুবিধা সৃস্টি করবে।
এ ব্যাপারে জেলা নির্বাচন অফিসার মোজাম্মেল হক বলেন, প্রতীক নির্ধারনে আমাদের কোন হাত নেই, এগুলো বহু আগে ঢাকাতে নির্ধারন করা হয়। আমি ও ব্যক্তিগতভাবে মনে করি অনেক প্রতীক তেমন শোভনিয় নয়। তবুও এখানে আমাদের করার কিছুই নেই।

Top