অপমান করতে গিয়ে তাড়া খেলেন আ.লীগ নেত্রী : কলেজ ছাত্রলীগ

download.png

কক্সবাজার রিপোর্ট :

বিনা আমন্ত্রণে কক্সবাজার সরকারি কলেজে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গিয়ে কলেজ শিক্ষকের কাছ থেকে স্পীকার কেড়ে নিয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও দখলবাজ বলতে গিয়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের তাড়া খেলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজনীন সরওয়ার কাবেরি। শনিবার সকালে কক্সবাজার সরকারি কলেজে হল রুমে এ ঘটনাটি ঘটেছে। এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে কলেজ ছাত্রলীগ।
তবে জামায়াত-বিএনপি’র সাথে আতাত করে ছাত্রলীগকে বিতর্কিত করতেই বিনা দাওয়াতে ওই অনুষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষকের হাত থেকে স্পীকার কেড়ে নিয়ে ছাত্রলীগের বিষয়ে বাজে মন্তব্য করেছেন বলে দাবি করছেন কলেজ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।
সন্ধ্যায় কক্সবাজার প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারী কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি জাকের হোসেন বলেন, শনিবার সকালে কলেজ আয়োজিত বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের অনুষ্ঠান চলছিলো যথাযথভাবে। অনুষ্ঠানের মাঝামাঝি সময় বক্তব্যরত কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক দিদারুল আলমের কাছ থেকে স্পীকার কেড়ে নিয়ে উপস্থিত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও দখলবাজ সহ নানা অপবাদ দিতে থাকে। পরে ওই নেত্রীর আচরণে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মূখে মঞ্চ ছাড়তে বাধ্য হন কাবেরী।
কলেজ সভাপতি বলেন, জামায়াত-বিএনপি’র এজেন্ডা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যেই কোনো প্রকার আমন্ত্রণ ছাড়াই অনাকাংখিত এ ঘটনার সৃষ্টি করেছে। কোন অপশক্তির এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে আওয়ামীলীগের দায়িত্বে থেকেও বঙ্গবন্ধু’র জন্মদিনের অনুষ্ঠানে কেন ছাত্রলীগের বদনাম করলেন তা তদন্ত করতে দলের উর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।
কক্সবাজার সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘কাবেরি আপাকে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে কলেজ প্রশাসন দাওয়াত না দেয়া সত্বেও কলেজে আসেন। হঠাৎ অনুষ্ঠান স্থালে এসে মঞ্চে উঠে মাইক নিয়ে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন; কলেজ ছাত্রলীগের কর্মীরা জায়গা দখল করছে। এতে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে কলেজ প্রশাসন কাবেরি আপাকে চলে যেতে বাধ্য করেন। আমরা কাবেরী আপাকে লাঞ্চিত করি নাই এবং যে অভিযোগ তুলেছেন তার জন্য কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দিয়েছেন।’
সন্ধ্যায় কক্সবাজার প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজনীন সরওয়ার কাবেরির বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘কলেজের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু’র জন্মদিন অনুষ্ঠান পালনকালে কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল করিমের ছোট ভাই আশমত উল্লাহ সহ আরো কয়েকজনকে নিয়ে অনুষ্ঠানে অনুপ্রবেশ করেন ওই নেত্রী। ওসময় তিনি জোর করেই মঞ্চে উঠে বক্তব্যরত শিক্ষকের কাছ থেকে স্পীকার কেড়ে নিয়ে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে কূ-রুচীপূর্ণ কথা শুরু করেন। ওসময় শিক্ষকের কাছ থেকে স্পীকার কেড়ে নেওয়ায় উপস্থিত শিক্ষার্থীরা তাকে মঞ্চ থেকে নামতে বলেন। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা তাকে তাড়া দিলে তিনি কলেজ ক্যাম্পাস ছাড়তে বাধ্য হন।’
সংবাদ সম্মেলনে কক্সবাজার কলেজের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, কক্সবাজার সরকারী কলেজটি আজ থেকে কয়েক বছর পূর্বেও জামায়াত শিবিরের দখলে ছিলো। তারা সেখানে অস্ত্রবাজী ও দখল সহ নানা অপরাধ সৃষ্টি করে আসছিলো দীর্ঘ সময় ধরে। বর্তমান কলেজ ছাত্রলীগ কলেজকে শিবির মুক্ত করে সকল অপরাধ দমন করে আসছে। ঠিক সেই মূহুর্তেই নাজনীন সরওয়ার কাবেরি ছাত্রদল ও শিবির ক্যাড়ারদের সাথে আতাত করে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে নেমেছেন।’
কলেজ ছাত্রলীগের সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন-জসিম উদ্দিন, উৎপল বড়ুয়া, শরীফ হোসাইন সিকদান, সাব্বিরুল হক জুলাইব, নুরুল আবরার শাকিব, সালাহ উদ্দিন জাশেদ, মো: আনাস ও মো: রায়হান।
কক্সবাজার সরকারি কলেজের বিবৃতি ঃ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৮তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সৃষ্ট অনাঙ্খাংকিত ঘটনায় বিবৃতি দিয়েছে কক্সবাজার সরকারি কলেজ শিক্ষক পরিষদ। গতকাল শনিবার কক্সবাজার সরকারি কলেজ শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক মুজিবুল আলম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়- জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৮তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে অত্যন্ত আনন্দ ও গাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে সুষ্ঠু এবং সুন্দরভাবে সম্পাদিত হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানস্থলে জনাব নাজনীন সরওয়ার কাবেরী স্বেচ্ছায় প্রবেশ করলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মৃদু উত্তেজনার ভাব লক্ষ্য করা যায়। উপস্থিত সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্ঠায় কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়া অনুষ্ঠান নিরবচ্ছিন্নভাবে সুন্দর ও সুচারুরূপে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে কলেজ ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের সক্রিয় সহযোগিতা ছিল।

Top