পানি সংকট মোকাবেলায় সক্ষমতা অর্জন করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

pm-pani-107344.jpg

কক্সবাজার ডেস্ক ॥

তিস্তাসহ অভিন্ন ৫৪ নদীর পানিবন্টন নিয়ে ভারতের সাথে আলোচনা চলছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নিজস্ব পরিকল্পনা ও প্রযুক্তির মাধ্যমে নিজস্ব পানি সংকট মোকাবেলায় নিজেদেরই সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।

সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পানি দিবসের আলোচনায় একথা বলেন তিনি। বলেন, উন্নয়নের নামে পুকুর, খাল, নদীসহ জলাধার ভরাট বন্ধ করতে হবে। ব্যবহারিক কাজে যাতে পানির অপচয় না হয় সেদিকে সবাইকে সতর্ক হওয়ারও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পৃথিবীর মোট পানির মাত্র ১ শতাংশ সুপেয়। তাই ২১ শতকের পৃথিবীতেও নিরাপদ পানির অধিকার বঞ্চিত বিশ্বের প্রায় ১৯০ কোটি মানুষ। ২০৫০ সাল নাগাদ পানির এ চাহিদা বাড়বে বর্তমানের চেয়ে ৩০ ভাগ বেশি।

জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা কারণে স্বাদু পানির সংকট মোকাবিলায় বৈশ্বিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে পানির জন্য প্রকৃতি শিরোনামের আয়োজন। যোগ দেন সরকার প্রধান শেখ হাসিনা।

বক্তৃতায় বাংলাদেশের পানি কুটনীতিতে তার সরকারের বিভিন্ন সফলতার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানান পানি সংকট মোকাবিলায় আত্মনির্ভশীলতা অর্জনের।

তিনি বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আমাদের যে অভিন্ন নদীগুলি, সেসব নদী সম্পর্কে আলোচনা করতে আমরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন কাজ করেছি। যৌথ নদী কমিশন, জেআরসিও গঠন করা আছে। আর তিস্তা নিয়েও আলোচনা চলছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তবে একটা কথা আমি বলতে চাই। কারও উপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজেদের কাজ আমাদের নিজেদের করতে হবে। বর্ষাকালে যে বিশাল জলরাশি আসে, সেটা আমরা কীভাবে ধরে রাখতে পারি, আমাদেরকে সেই পরিকল্পনাটা আগে নিয়ে নিজেদেরটা দেখতে হবে।’

উন্নয়ন পরিকল্পনায় জলাধার সংরক্ষণের বিষয়টি যাতে বাদ না পড়ে সেদিকে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের পানির প্রয়োজন, পলিও প্রয়োজন। আমাদের পরিকল্পনা এমনভাবে নিতে হবে। মানুষকে শিখতে হবে বন্যার সঙ্গে বসবাস করা। বন্যার ক্ষতিটা যেন না হয়, সেদিকে যেমন দৃষ্টি দেয়া, আবার বন্যার সুফল যাতে আমরা ভোগ করতে পারি, সেদিকেও দৃষ্টি দিতে হবে। শুধু উঁচু উঁচু বাঁধ তৈরি করে দিলেই কিন্তু নদী টিকবে না’

তিনি আরও বলেন, ‘উন্নয়নের নামে আমরা দেখি প্রথমেই পুকুর ভরাট, খাল ভরাট বা নদী ভরাট হচ্ছে। এই কাজগুলো থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। দেখা যায়, যেখানে বিল ছিলো, সেখানে এমনভাবে ভরাট করা হয়, যে সেখানে আর কোনো পানিরই অস্তিত্ব থাকেনা। আগুন লাগলে পানিও পাওয়া যায় না। সবকিছু গড়ে উঠেছে পানির উপরে।’

নিজস্ব চাহিদা মিটিয়ে ভবিষতে বৈশ্বিক পানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

Top