থাইল্যান্ডে গুহা থেকে ৪ কিশোরকে উদ্ধার

4bpr92d300632b17m9i_800C450.jpg

কক্সবাজার ডেস্ক :
থাইল্যান্ডে দুই সপ্তাহ ধরে গুহায় আটকা পড়া কিশোর ফুটবল দলটির চার সদস্যকে ডুবুরিরা নিরাপদে বের করে আনতে সক্ষম হয়েছেন। সোমবার সকাল থেকে আবারও উদ্ধার অভিযান শুরু হবে।
উদ্ধার চার কিশোরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কাছের নগরী চিয়াং থেইর একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এক সংবাদ সম্মেলনে উদ্ধার অভিযানের প্রধান নারংসাক ওসোটানাকোরন এ খবর দেন।তিনি বলেন,স্থানীয় সময় বিকাল ০৫:৪০ মিনিটে (জিএমটি ১০:৪০) প্রথম কিশোরকে বের করে আনা হয়।
“উদ্ধার করে আনা চার কিশোরের সবাই ভালো আছে। তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। “সোমবার সকাল থেকে আবারও উদ্ধার অভিযান শুরু হবে। নতুন করে উদ্ধার অভিযানের প্রস্তুতির জন্য ১০ ঘণ্টা সময় লাগবে।”
মোট ৯০ জন ডুবুরি এই উদ্ধার অভিযানে অংশ নিচ্ছে বলেও জানান তিনি। তাদের মধ্যে ৫০ জন বিদেশি এবং ৪০ জন থাইল্যান্ডের।
গত ২৩ জুন ১১ থেকে ১৬ বছর বয়সী ওই কিশোরদল ও তাদের ২৫ বছর বয়সী ফুটবল কোচ ‘থাম লুয়াং’ গুহায় প্রবেশ করেছিল। দলটি প্রবেশের পর প্রবল বৃষ্টিপাতে গুহার মধ্যে পানি জমে তাদের বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়। তারপর থেকে তারা গুহাটিতেই আটকা পড়েছিল।
থাইল্যান্ডে বর্ষা মৌসুম শুরু হয়েছে। আবহাওয়া অফিস থেকে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও ভারি বৃষ্টিপাত ও ঝড়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
সেক্ষেত্রে গুহায় আরও পানি ঢুকে কিশোর দলটির প্রাণ হারানোর ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। উদ্ধারকারীরা তাদের এ অভিযানকে ‘আবহাওয়া ও সময়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ বলে বর্ণনা করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার একজন চিকিৎসক শনিবার রাতে কিশোরদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে দলটিকে বের করে আনার অভিযান শুরু করার পরামর্শ দেন।
রোববার সকাল থেকে কিশোরদের বের করে আনতে চূড়ান্ত অভিযান শুরু হয়। যাকে নারংসাক ‘ডি-ডে’ বলে বর্ণনা করেন।
নারংসাক বলেন, “যদি আমরা আরও অপেক্ষা করি এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও ভারি বৃষ্টি শুরু হয় তবে আমরা আবারও পানি বের করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়বো এবং আমাদের প্রস্তুতিও হ্রাস পাবে।”
যদিও রোববারও উত্তরের চিয়াং রাই প্রদেশের প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ায় ‘থাম লুয়াং’ গুহা এলাকা কর্দমাক্ত হয়ে আছে। তবে পাইপের মাধ্যমে গুহার পানি কিছুটা বের করে ফেলা সম্ভব হওয়ায় আগের কয়েদিনের তুলনায় এদিন ভেতরের পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছিল। উদ্ধারের এই পরিকল্পনা সম্পর্কে আটকা পড়া কিশোর দলটির পাশাপাশি তাদের পরিবারগুলোকেও আগেভাগে জানানো হয়েছিল।
ওই কিশোররা ও তাদের কোচ ‘শারীরিকভাবে ও মানসিকভাবে খুব শক্ত আছে’ বলে জানিয়েছিলেন নারংসাক। তারা ‘দৃঢ়প্রতিজ্ঞ’ ও ‘উজ্জীবিত’ অবস্থায় আছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

Top