কক্সবাজার পৌর নির্বাচন : ৩৫ প্রার্থী বিভিন্ন মামলার আসামী

images-4.jpg

মনতোষ বেদজ্ঞ :
কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের মধ্যে ৩৫ জন মামলার আসামী। এ তালিকায় তিনজন মেয়র প্রার্থীও রয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মাঝে এক ধরনের আলোচনা-সমালোচনা দেখা দিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া প্রার্থীদের হলফনামা যাছাই করে দেখা গেছে, বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম তিনটি ফৌজদারী মামলায় অভিযুক্ত। এর মধ্যে দ্রুত বিচার আইনে ২০১৩ সালে দায়ের করা একটি মামলা বর্তমানে কক্সবাজার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালত ও দ্রুত বিচার আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ২০১৬ সালে বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা আরেকটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে কক্সবাজার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এ। এছাড়াও ২০১৩ সালে দায়ের করা একটি জি.আর মামলা কক্সবাজার মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে বিচারাধীন। এর আগে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলা ২০০২ সালে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ২০০৫ সালে একটি মামলা থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন। সাবেক মেয়র ও স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী সরওয়ার কামাল দুইটি মামলায় অভিযুক্ত। এর মধ্যে ২০১৩ সালে দায়ের করা একটি জি.আর মামলা কক্সবাজার জ্যষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালতে বিচারের জন্য অপেক্ষমান রয়েছে। একই বছরে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে দায়ের করা আরেকটি জি.আর মামলা রাষ্ট্রপক্ষের অনুমোদনের জন্য অপেক্ষমান রয়েছে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে দায়ের করা দুইটি মামলা থেকে তিনি বেকসুর খালাস ও দুইটি মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। তিনটি মামলা খারিজ করেছে আদালত। জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো: রহুল আমিন দুইটি মামলায় অভিযুক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে একটি মামলা কক্সবাজার জ্যষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালতে আমলে নেওয়া একটি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। অপর মামলাটি সমন পর্যায়ে রয়েছে।
এছাড়াও সংরক্ষিত ওয়ার্ড-১ এর নারী কাউন্সিলর প্রাথী আয়েশা সিরাজ একটি মামলায় অভিযুক্ত। ২০১১ সালে দায়ের করা ওই মামলাটি বর্তমানে কক্সবাজার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতে শুনানী পর্যায়ে আছে। ফাতেমা বেগম একটি মামলায় অভিযুক্ত। ২০১৭ সালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা ওই মামলাটি বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশেষ জজ আদালতে সাক্ষীর পর্যায়ে রয়েছে। সংরক্ষিত ওয়ার্ড-৪ এর নারী কাউন্সিলর প্রার্থী নাছিমা আকতার ২০১১ সালে দায়ের করা একটি এস.টি মামলায় অভিযুক্ত।
সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে ওয়ার্ড-১ এর প্রার্থী মোস্তাক আহমদ দুইটি মামলায় অভিযুক্ত। ২০১৬ সালে দায়ের করা এই দুটি মামলাই বর্তমানে কক্সবাজার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালতে স্বাক্ষীর পর্যায়ে রয়েছে। সিকান্দার আবু জাফর দুইটি মামলায় অভিযুক্ত। এর ২০১৪ সালে দায়ের করা একটি মামলা কক্সবাজার যুগ্ম জজ ২য় আদালতে স্বাক্ষীর পর্যায়ে রয়েছে। ২০১৫ সালে বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা আরেকটি মামলা বর্তমানে কক্সবাজার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-৪ এ বিচারাধীন রয়েছে। ওয়ার্ড-২ এর প্রার্থী মনির উদ্দীন একটি মামলায় অভিযুক্ত হয়েছেন। ২০১২ সালে দ্রুত বিচার আইনে দায়ের করা ওই মামলাটি বর্তমানে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে রিভিশন শুনানীর জন্য রয়েছে। একই বছরে দায়ের হওয়া আরেকটি মামলা থেকে তিনি খালাস পেয়েছেন। হোসাইন ইসলাম বাহাদুর একটি মামলায় অভিযুক্ত। ২০১২ সালে দ্রুত বিচার আইনে দায়ের করা মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। আবু তাহের একটি মামলায় অভিযুক্ত। ২০১২ সালে দায়ের করা একটি এস.টি মামলা বর্তমানে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ওয়ার্ড-৩ এর প্রার্থী মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম চারটি মামলায় অভিযুক্ত। এর মধ্যে ২০০৯ সালে দায়ের করা একটি মামলা কক্সবাজার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালতে, ২০১৩ সালে দায়ের করা একটি মামলা কক্সবাজার মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে এবং একই বছর দ্রুত বিচার আইনে দায়ের করা আরেকটি মামলা জেলা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। চলতি বছরে একটি মামলা আমলে নিয়েছে কক্সবাজার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালত। সেটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। এর আগে ২০০২ সালে তার বিরুদ্ধে জননিরাপত্তা আইনে দায়ের করা দুইটি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। একটি ২০০০ সালের জি.আর মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। ওয়ার্ড-৩ এর মাহবুবুর রহমান চৌধুরী একটি মামলায় অভিযুক্ত। ২০০৭ সালে দায়ের করা ওই মামলাটি উচ্চ আদালতের আদেশের অনুবলে স্থগিত রয়েছে। এর আগে ২০০৯ সালের একটি জি.আর মামলা থেকে তিনি খালাস পেয়েছেন। ওয়ার্ড-৪ এর প্রার্থী মিজানুল করিম একটি মামলায় অভিযুক্ত। ২০১৪ সালে দায়ের হওয়া এস.টি মামলাটি বর্তমানে কক্সবাজার যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালতে স্বাক্ষীর পর্যায়ে রয়েছে। ওয়ার্ড-৫ এর প্রার্থী সাইফুল ইসলাম চৌধুরী সাইফুল্লাহ একটি মামলায় অভিযুক্ত হয়েছেন। ২০১০ সালে দায়ের হওয়া ওই জি.আর মামলাটি বতর্মানে কক্সবাজার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালতে অভিযোগপত্র গৃহিত হওয়ার জন্য শুনানীর পর্যায়ে রয়েছে। সাহাব উদ্দীন ২০১৬ সালে দায়ের হওয়া একটি জি.আর মামলায় অভিযুক্ত। ওই মামলাটি কক্সবাজার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালতে চার্জ শুনানীর পর্যায়ে আছে। ছালামত উল্লাহ বাবুল দুইটি মামলায় অভিযুক্ত। এর মধ্যে ২০১৭ সালে দায়ের করা একটি এস.টি মামলা কক্সবাজার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আদালত ২ এ চার্জ গঠনের শুনানীর জন্য আছে। ২০১৩ সালে দায়ের হওয়া আরেকটি এস.টি মামলা কক্সবাজার যুগ্ম জজ আদালতে স্বাক্ষীর পর্যায়ে রয়েছে। এর আগে ২০১৩ সালে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা আরেকটি এস.টি মামলা চলতি বছর নিষ্পত্তি হয়েছে। ওয়ার্ড-৬ এর প্রার্থী সুবদত্ত বড়–য়া একটি মামলায় অভিযুক্ত। ২০১১ সালে দায়েরকৃত ওই মামলা বর্তমানে কক্সবাজার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালতে চলমান রয়েছে। মোশারফ আজাদ (মনছুর) একটি মামলায় অভিযুক্ত। ২০১৩ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা মামলাটি বর্তমানে স্বাক্ষীর পর্যায়ে রয়েছে। ওমর ছিদ্দিক দুইটি মামলায় অভিযুক্ত। এর মধ্যে একটি জিআর মামলা কক্সবাজার মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে স্বাক্ষীর পর্যায়ে রয়েছে। কক্সবাজার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালতে আমলে নেওয়া অপর জি.আর মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। ওয়ার্ড-৭ এর প্রার্থী জাফর আলম চারটি মামলায় অভিযুক্ত। এর মধ্যে ২০১১ সালে দায়ের হওয়া দুইটি এবং ২০১২ সালে দায়ের হওয়া একটি মামলা কক্সবাজার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালতে স্বাক্ষীর পর্যায়ে রয়েছে। ওয়ার্ড-৮ এর প্রার্থী বেলাল হোসেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে দায়ের করা পাঁচটি মামলাসহ মোট ১০ টি মামলায় অভিযুক্ত। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে দায়ের করা মামলাগুলো মধ্যে তিনটি কক্সবাজার যুগ্ম দায়রা জজ ২য় আদালতে, একটি যুগ্ম দায়রা জজ ১ম আদালতে ও একটি অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতে স্বাক্ষীর পর্যায়ে রয়েছে। এর আগে দুইটি মাদক সংক্রান্ত মামলা থেকে তিনি খালাস পেয়েছেন। ডালিম কুমার বড়–য়া বর্তমানে একটি মামলায় অভিযুক্ত। ২০১১ সালে দ্রুত বিচার আইনে দায়ের হওয়া মামলাটি উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে। এর ২০০২ সালের বিস্ফোরক দ্রব্যাদি আইনের একটি মামলা থেকে গত ২০১৫ সালে তিনি খালাস পেয়েছেন। রাজবিহারী দাশ ২০১৭ পরিবেশ আইনে দায়ের করা একটি মামলায় অভিযুক্ত। কক্সবাজার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালতে আমলে নেওয়া মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। মোাহম্মদ রফিকুল ইসলাম ৮টি মামলায় অভিযুক্ত। এর মধ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে দায়ের করা একটি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। মামলাটি আমলে নিয়েছে ঢাকার সি.এম.এম আদালত। এছাড়াও কক্সবাজারের বিভিন্ন আদালতে দায়ের হওয়া ছয়টি মামলা স্বাক্ষীর পর্যায়ে এবং একটি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। এর আগে বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা একটি মামলা থেকে তিনি খালাস পেয়েছেন। ওয়ার্ড-১০ এর প্রার্থী জাবেদ মো: কায়সার নোবেল একটি মামলায় অভিযুক্ত। ২০১৭ সালে পরিবেশ আইনে দায়ের হওয়া মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। এর আগে দায়ের হওয়া তিনটি মামলা থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন। নুরুচ্ছফি মো: সাগর সাতটি মামলায় অভিযুক্ত। এর সন্ত্রাস বিরোধী আইন ও বিস্ফোরক উপাদানাবলী আইনের মামলাও রয়েছে। সবগুলো মামলায় বর্তমানে বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন। সালাহ উদ্দীন একটি মামলায় অভিযুক্ত। পরিবেশ আইনে ২০১৭ সালে দায়েরকৃত মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। ওয়ার্ড-১১ এর প্রার্থী আহম্মদ হোসেন একটি মামলায় অভিযুক্ত। বিশেষ ক্ষমতা আইনে ২০১৩ সালে দায়ের হওয়া মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালে দায়ের হওয়া একটি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। মোহাম্মদ জরিপ আলী একটি মামলায় অভিযুক্ত। ২০১৭ সালে দায়ের করা ওই এস.টি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন। ওয়ার্ড-১২ এর প্রার্থী মো: জসিম উদ্দীন একটি মামলায় অভিযুক্ত। ২০১২ সালের ওই মামলা বর্তমানে কক্সবাজার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। কাজী মোরশেদ আহম্মদ বাবু তিনটি মামলায় অভিযুক্ত। এর মধ্যে একটি এসটি মামলা স্বাক্ষীর পর্যায়ে, আরেকটি মামলা যুক্ততর্ক ও ৩৪২ ধারায় আসামী পরীক্ষার পর্যায়ে আছে। তার বিরুদ্ধে শ্রম আইনে দায়ের করা আরেকটি মামলা আমলে নিয়েছে চট্টগ্রামের ১ম শ্রম আদালত। সেটি বিচারাধীন। এর আগে ২০১৬ সালে দায়ের হওয়া একটি মামলা থেকে তিনি খালাস পেয়েছেন। কাজী রাসেল আহমেদ দুইটি মামলায় অভিযুক্ত। এর মধ্যে ২০১২ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে দায়ের করা একটি মামলা বিচারাধীন। একই বছরে দায়ের হওয়া আরেকটি জি.আর মামলা বর্তমানে কক্সবাজার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালতে বিচারাধীন। মো: মিনারুল কবির তিনটি মামলায় অভিযুক্ত। এর মধ্যে সন্ত্রাসী বিরোধী আইনে একটি ও বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা একটি মামলা রয়েছে। সন্ত্রাসী বিরোধী আইনে দায়ের করা মামলাটি বর্তমানে স্থগিত রয়েছে।

Top