রোহিঙ্গাদের রক্ষায় বিশ্ব ব্যর্থ ॥ গুতেরেস

image-146755-1531335674.jpg

কক্সবাজার ডেস্ক :

বাংলাদেশ সফরে কক্সবাজারে গিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা জানিয়ে একটি নিবন্ধ লিখেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত ওই নিবন্ধের বাংলা তর্জমা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম পাঠকদের জন্য প্রকাশ করা হল। ছোট ছোট শিশুদের হত্যা করা হয়েছে তাদের বাবা-মায়ের সামনে। মেয়ে শিশু ও নারীদের দলবেঁধে ধর্ষণ করা হয়েছে; পরিবারের সদস্যদের অত্যাচারের পর হত্যা করা হয়েছে। গ্রামের পর গ্রাম, ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। মিযানমারের রাখাইন রাজ্যে ব্যাপক হত্যাকা- এবং সহিংসতার মুখে বাংলাদেশে পালিযে আসা রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের কাছ থেকে গত সপ্তাহে হাড কাঁপানো যেসব ঘটনা আমি শুনেছি, তার জন্য কোনোভাবেই প্রস্তুত থাকা সম্ভব ছিল না। সেখানকার সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর একজন সদস্য তার বড় ছেলেকে নিজের সামনে গুলি করে হত্যা করার বর্ণনা দিযে কান্নায ভেঙে পডনে, ওই লোকের মাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় এবং তার বাডি পুড়িয়ে ছাই করে দেওযা হয। তিনি মসজিদে আশ্রয নিলেও মিয়ানমার সেনারা সেখানে গিয়ে তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং কোরান পুড়িয়ে দেয তারা।
সঠিকভাবেই পরিচিত ‘জাতিগত নিধনের’ শিকার এসব মানুষ এমন যন্ত্রণা ভোগ করছে যা একজন প্রত্যক্ষদর্শীর মধ্যে শুধুমাত্র বেদনা ও রাগই উসকে দিতে পারে। তাদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা বোঝার অতীত, তবু এটাই ১০ লাখ রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুর জন্য বাস্তবতা। রোহিঙ্গারা এমনি নির্যাতনের শিকার যে নিজ দেশ মিয়ানমারে নাগরিকত্ব থেকে শুরু করে নিতান্ত মৌলিক মানবাধিকার থেকে তারা বঞ্চিত। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ভেতরে ত্রাস ঢুকিয়ে দিতে গত বছর মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী পদ্ধতিগতভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। তাদের লক্ষ্য ছিল ভযঙ্কর দুটি বিকল্প বাছাইয়ে রোহিঙ্গাদের ঠেলে দেওয়া; মৃত্যুর ভয় নিয়ে অবস্থান কর নয়তো বেঁচে থাকার জন্য সবকিছু ছেডে চলে যাও। নিরাপত্তার সন্ধানে দুর্বিষহ যাত্রা শেষে এসব উদ্বাস্তুরা বাংলাদেশের কক্সবাজারে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এটা এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী সংকট। সীমিত সম্পদ নিয়ে বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। তারপরও বাংলাদেশের জনগণ ও সরকার রোহিঙ্গাদের জন্য তাদের সীমান্ত ও হƒদয় খুলে দিয়েছে, যেখানে বৃহত্তর ও সম্পদশালী দেশগুলো বাইরের মানুষের মুখের উপর দরজা বন্ধ করে দিচ্ছে।
বাংলাদেশের মানুষের মানুষের মমত্ববোধ ও উদারতা দেখিয়ে দিয়েছে মানবতার সর্বোচ্চ রূপ এবং হাজারো মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে। কিন্তু এই সংকটের অবশ্যই বৈশ্বিক সমাধান করতে হবে।

Top