স্কুলে সহপাঠিদের মধ্যে ঝগড়া, অভিভাবকের হাতে শিশু খুন

download-2-6.jpg

কক্সবাজার রিপোর্ট :

কক্সবাজারে স্কুলে সহপাঠিদের মধ্যে ঝগড়াকে কেন্দ্র করে অভিভাবকের হাতে এক শিশু খুন হয়েছে। তার নাম সাহাব উদ্দিন (১২)। সে শহরের বিজিবি ক্যাম্প এলাকার মৃহ ফজল হুদার ছেলে এবং লারপাড়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণির ছাত্র।
গতকাল বুধবার (১১ জুলাই) বিকেল পাঁচটার দিকে বিজিবি ক্যাম্প বিএডিসি খামার সংলগ্ন এলাকায় এঘটনা ঘটে।
সূত্র জানায়, সাহাব উদ্দিন ও তার বোনের মেয়ে সাজিয়া সুলতানা লারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩য় শ্রেণীতে পড়ে। বুধবার বিকেলে স্কুলে সাজিয়া সুলতানাকে অপর এক মেয়ে সহপাঠি মুখে বালি নিক্ষেপ করে। পরে সাহাব উদ্দিন ক্ষিপ্ত হয়ে ওই সহপাঠিকে চড় মারে। এই ঘটনা শোনে সাহাব উদ্দিনকে মারার জন্য স্কুলের বাইরে উৎপেতে থাকে ওই সহপাঠির দুলাভাই শফিকুল ইসলাম (২৮) সহ কয়েকজন যুবক। পরে স্কুল ছুটি হলে বাড়ি ফেরার পথে শিশু সাহাব উদ্দিনকে ধাওয়া করে শফিকুল ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। দৌড়ে পালানোর এক পর্যায়ে বিএডিসি খামার এলাকায় পড়ে যায় শিশু সাহাব উদ্দিন। এরপর তাকে বুকের উপর উপর্যুপরি লাথি ও ঘুষি মেরে আঘাত করা হয়। পরে এক সিএনসি ড্রাইভার তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তৃব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে।
সিএনজি ড্রাইভার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘টার্মিনাল থেকে শহরে প্রবেশের সময় বিএডিসি খামার এলাকায় রাস্তার পাশে সাহাব উদ্দিন নামের ওই শিশুকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখি। এসময় সেখানে হত্যাকান্ডে অভিযুক্ত শফিকুলও উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে হাসপাতালে আনা হলে কর্তৃব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে।’
তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থল থেকে সাহাব উদ্দিনকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় কৌশলে শফিকুলকেও নিয়ে যায়। পরে নিহতের পরিবারের লোকজন শফিকুল ইসলামকে হাসপাতাল পুলিশের সহায়তায় আটকে রাখে। এক পর্যায়ে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
নিহতের বড় বোন সেলিনা আক্তার বলেন, সাহাব উদ্দিনের অন্যান্য সহপাঠিরা বাড়িতে এসে ঘটনার খবর দেয়। এরপর হাসপাতালে এসে দেখে তার ভাই মারা গেছে। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শফিকুল ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা সাহাব উদ্দিনকে হত্যা করেছে বলে দাবী করেন তিনি। আটক শফিকুল ইসলাম লারপাড়া এলাকার মাসুদ মিয়ার ছেলে।
পুলিশ সূত্র জানায়, হাসপাতালে নিয়ে আসার সময় সিএনজি ড্রাইভারের সাথে হত্যাকান্ডে অভিযুক্ত শফিকুল ইসলামও ছিল। পরে নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে হাসপাতাল পুলিশ শফিকুলকে আটক করে। প্রকৃত ঘটনার জানার জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি (অপারেশন) মাইন উদ্দিন বলেন, নিহত শিশুর শরীরের কোন ধরণের আঘাত দেখা যায়নি। সম্ভবত শরীরের ভেতর জখম হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।

Top