চুরির অপবাদ দিয়ে শিশু’র উপর বর্বর নির্যাতন

Nihad-News-Pic.jpg

কক্সবাজার রিপোর্ট :

কক্সবাজারে চুরির অপবাদ দিয়ে মো. রিয়াদ (১২) নামে এক শিশু’র উপর শারীরিকভাবে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছে। বুধবার (১১ জুলাই) দুুপুরে শহরের কলাতলীর সুগন্ধা পয়েন্টে এঘটনা ঘটে।
জানা যায়, মো. রিয়াদ নামের ওই শিশু দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে এক ব্যক্তির কীটকট (ছাতা) দেখভালের কাজ করে। সেখানে তার সাথে কাজ করে সাইফুল ইসলাম (২৮) আরও এক কর্মচারী। ওই সাইফুল প্রায় সময় কথায় কথায় তাকে (রিয়াদ) মারধর করে। সাইফুলের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে রিয়াদ সেখানে চাকরী করবে না বলে মালিককে জানিয়ে দেয়। কিন্তু সাইফুল ও কিটকটের মালিক কিছুতেই তাকে (রিয়াদ) যেতে দিচ্ছিলেন না। পরে বুধবার সকালে চুড়ান্ত চলে যেতে চাওয়ায় টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে রিয়াদকে বেদম প্রহার করে সাইফুল।
ভুক্তভোগি শিশু রিয়াদ দাবী করে, ‘সে টাকা পয়সা চুরি করেনি। শুধুমাত্র চাকরি ছেড়ে চলে যেতে চাওয়ায় তাকে চুরির অপবাদ দিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে।’ সে আরও জানায়, বুধবার দুপুর ১২ টার দিকে তাকে সুগন্ধা পয়েন্টস্থ ডেসটিনি গ্রুপের নির্মাণাধীন ভবনের নিচে নিয়ে যায় তাকে। এরপর সেখানে তাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। এক পর্যায়ে একটি কাঠের বস্তু দিয়ে তার পেটে সজোরে আঘাত করা হয়। এতে সে অজ্ঞান হয়ে যায়। পরে বিকাল তিনটার দিকে তার জ্ঞান ফিরে। তাকে হাসপাতালেও নিয়ে যাওয়া হয়নি। জ্ঞান ফিরে দেখে সে ওই ভবনের নিচতলাতেই পড়ে আছে।
রিয়াদ জানায়, শহরে তার কেউ নেই। বাবা মারা গেছে অনেক আগে। তাদের বাড়ি সদর উপজেলার ঈদগাঁওতে। প্রায় চার বছর আগে এক ব্যক্তির হাত ধরে শহরে চলে আসে। এরপর থেকে সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের শরীর মালিশ ও কাগজ কুড়িয়ে জীবন বলে তার। সর্বশেষ এক বছর আগে সে কীটকট চেয়ার দেখাশুনার চাকরি নেয়। তবে মালিকের নাম সে জানে না।
সে জানায়, ঘটনার পর বিকেলে স্থানীয় লোকজন তাকে (রিয়াদ) ও অভিযুক্ত সাইফুলকে ট্যুরিস্ট পুলিশের কাছে নিয়ে যায়। কিন্তু পুলিশ সাইফুলকে কিছুই করেনি।
এদিকে রাত সাড়ে আটটার দিকে প্রতিদিনের ন্যায় সুগন্ধা পয়েন্টে হাঁটতে যান পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কক্সবাজার শাখার সহকারী উপপরিদর্শক জহিরুল ইসলাম। সেখানে রাস্তার পাশে রিয়াদকে কাঁদতে দেখেন তিনি। এরপর তিনি রিয়াদকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় নিয়ে যান।
পুলিশ কর্মকর্তা জহিরুল বলেন, প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি সাইফুল নামে কীটকটের এক কর্মচারী রিয়াদের উপর এই বর্বর নির্যাতন চালিয়েছে। খুব অমানবিকভাবে তাকে নির্যাতন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, রিয়াদকে মারধরের ঘটনায় সদর মডেল থানা পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে।

Top