‘রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে পাশে রয়েছে মালয়েশিয়া’

1-2.jpg

রফিকুল ইসলাম :
মালয়েশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী হাজী মোহাম্মদ বিন সাবু বলেছেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া বিপুল সংখ্যক মিয়ানমার নাগরিক রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের মাধ্যমে প্রত্যাবাসন করায় অন্যতম সমাধান। আর এ প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের পাশে রয়েছে ভ্রাতৃপ্রতিম মালয়েশিয়া। বাংলাদেশের সাথে মালয়েশিয়ার দীর্ঘদিনের খুব সৌহাদ্যপূর্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশের মত একটি ছোট্র জনবহুল দেশে বিশাল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবতার যে দৃষ্টান্ত রেখেছেন তা বিশে^ বিরল। মালয়েশিয়ার সরকার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও জনগনের উচ্ছসিত প্রশংসা করে তিনি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
গতকাল বৃস্পতিবার বিকেলে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবির পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সাথে ব্রিফিংকালে মালয়েশিয়া প্রতিরক্ষামন্ত্রী হাজী মোহাম্মদ বিন সাবু বলেন, এসব রোহিঙ্গাদের খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা, আশ্রয় সহ নানাবিধ মানবিক সেবাসহ আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখার জন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তিনি বলেন, বিশ্বের নিপীড়িত উদ্বাস্তু জনগোষ্টির দুর্দিনে যখন অনেকে মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছিল তখন বাংলাদেশ নানা সীমাবদ্ধতার মাঝেও মানবতার দরজা খুলে দিয়ে রোহিঙ্গা জনগোষ্টির জানমাল ও ইজ্জত রক্ষা করেছে।
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য জাতিসংঘসহ আর্ন্তজাতিক বিশ^ কাজ করছে। তাই যত দ্রুত সম্ভব এখানে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মর্যদা সহকারে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোই সব চেয়ে উত্তম সমাধান বলে তিনি মনে করেন। এ ব্যাপারে মালয়েশিয়া সরকার সব ধরনের বাংলাদেশকে সহযোগীতা করে যাবে। রোহিঙ্গারা এদেশে আশ্রয় নেওয়ার শুরু থেকে মালেশিয়া সরকার সহযোগিতা দিয়ে আসছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩ টার দিকে কুতুপালং ডিÑ ৫ ব্লকের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের স্থাপনা গুলো ঘুরে দেখেন এবং রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলে তাদের সুখ দুঃখের কথা জানতে চান।
পরে তিনি উখিয়ার টিএন্ডটি এলাকায় মালয়েশিয়া পরিচালিত ফিল্ড হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বলেন রোহিঙ্গারা যাতে চাহিদামত স্বাস্থ্য সেবা পায় সেজন্য প্রয়োজন বশত এ হাসপাতালকে আরো সম্প্রসারন করা হবে। তিনি হাসপাতাল পরিদর্শনকালে হাসপাতালের দায়িত্বরত সংশ্লিষ্টদের স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের আরো আন্তরিক হওয়ার নির্দেশ দেন। মালয়েশিয়া প্রতিরক্ষামন্ত্রী বিকাল সাড়ে ৩ টা থেকে সন্ধা প্রায় সাড়ে ৬ টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় করেন। প্রায় ১৮ সদস্যর মালয়েশিয়া প্রতিনিধিদল সাড়ে ৬ টার দিকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্য কুতুপালং ত্যাগ করেন। এসময় তাদের সাথে ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ সরওয়ার কামাল, অতিরিক্ত শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার শামশু দ্দৌহা, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জাামান চৌধুরীসহ বিমান ও সেনাবাহিনীর উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Top