স্মার্টফোনে শিক্ষিত হবে সুবিধা বঞ্চিত কিশোরীরা

download-1-7.jpg

আজিম নিহাদ :
কিশোরীর হাতে থাকবে একটি স্মার্টফোন। পাঠ নেওয়ার জন্য তার বিদ্যালয়ে যাওয়ার দরকার নেই। শিক্ষকরাই বাড়িতে এসে পাঠদান করে যাবে। আর বাড়িতে বসে স্মার্টফোনের মাধ্যমে পড়াশোনা শিখবে কিশোরীরা।
বিষয়টি গল্পের মত মনে হলেও বাস্তব। এই পদ্ধতির শিক্ষা ব্যবস্থা চালু হয়েছে কক্সবাজার সদর উপজেলায়। এই শিক্ষা পদ্ধতিতে ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী অশিক্ষিত, যারা কখনো বিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়নি তাদেরকে শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
সম্প্রতি কিশোরীদের স্বাক্ষরতা ও দক্ষতা উন্নয়নে ‘অগ্নি’ নামে একটি নতুন প্রকল্প শুরু করেছে এনজিও সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন। প্রথমবারের মত কক্সবাজার সদর উপজেলায় গবেষণা কর্মসূচি হিসেবে প্রকল্প চালু করা হয়েছে। ৬ মাস মেয়াদী এই প্রকল্পটি সফলভাবে সম্পন্ন হলে, সারাদেশে এটি চালু হবে। গতকাল বুধবার (১১ জুলাই) বিকেল সাড়ে পাঁচটায় জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
সেভ দ্য চিলড্রেন সূত্র জানায়, গবেষণা কর্মসূচি হিসেবে শহরের সমিতিপাড়া, পাহাড়তলী ও সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নে প্রকল্পটির কার্যক্রম চলবে। এতে অংশ নেবে ৩০০ জন কিশোরী।
সূত্র আরও জানায়, অগ্নি প্রকল্পের মাধ্যমে ১২ থেকে ১৮ বছরের ৩০০ কিশোরী সাক্ষরতা, জীবন-দক্ষতা ও গানিতিক সমস্যা সমাধানের পারঙ্গমতা অর্জন করবে, যা তাদেরকে কর্মজীবনের উপযোগী প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করবে। স্মার্টফোন ব্যবহার করে উন্নত পদ্ধতিতে তাদের অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা দেওয়া করা হবে। প্রতি ২০ জন কিশোরীর জন্য একজন সহায়ক টিউটর দায়িত্ব পালন করবেন। কক্সবাজার সদর উপজেলার স্কুল থেকে ঝরেপড়া কিশোরীরা এবং যেসব কিশোরীরা কখনও স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পায়নি, তারা এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রয়োজনীয়তা অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা ও দক্ষতা লাভের সুযোগ পাবে।
গবেষণার উদ্বৃতি দিয়ে উদ্বোধনী সভায় জানানো হয়, প্রাথমিক শিক্ষায় মেয়েদের ভর্তির হার ছেলেদের তুলনায় বেশী হলেও অনেক মেয়ে পরবর্তীতে ঝরে পড়ে। এছাড়াও উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তির ক্ষেত্রে মেয়েরা বেশ পিছিয়ে আছে। ঝরেপড়া এসব মেয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্যের ও অনেক ক্ষেত্রে বাল্যবিবাহের শিকার হয়। এই প্রকল্পের মাধ্যমে মেয়েরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবে।
অগ্নি প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিউল আলম, সেভ দ্য চিলড্রেনের শিক্ষা কর্মসূচির পরিচালক বুশরা জুলফিকার, অগ্নি প্রকল্পের পরিচালক মেহেরুন নাহার, অগ্নি প্রকল্পে সেভ দ্য চিলড্রেনের টেকনিক্যাল পার্টনার লাইট অব হোপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়ালিউল্লাহ ভুইয়া, কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহেদ সরওয়ার সোহেল। অনুষ্ঠানে অগ্নি প্রকল্পের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্প পরিচালক মেহেরুন নাহার
জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ঝরেপড়া কিশোরীদের শিক্ষা ও জীবনমানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য কিশোরীদের অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা দরকার। যাতে করে তারা বুঝতে সক্ষম হয় যে, তাদের কিশোরী মেয়েটির শিক্ষার্জন প্রয়োজন।

Top