লামায় ২০ বসত ঘর গুঁড়িয়ে দিয়েছে বন্য হাতির পাল

Lama-newsk-13-7-18.docx.jpeg

এস.কে খগেশপ্রতি চন্দ্র খোকন :

লামার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ফকিরা খোলা পাড়ায় গত ১০দিন ধরে বন্য হাতির দল আক্রমন চালিয়ে ২০ টি বসত ঘর গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এ কারণে বসবাসরত প্রায় সহশ্রাধিক লোকজন ভয়ে আতংকে দিনযাপন করছে। গ্রামের লোকজন এখন রাত কাটচ্ছে মশাল জ্বালিয়ে।
এলাকার ইউপি সদস্য মোঃ হোসাইন মামুন বলেন, বন্য হাতির দল তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে উপজলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ফকিরা খোলা, পূর্ব হারগাজা এলাকায় গত ১০ দিন ধরে আক্রমন চালাচ্ছে। বুধবার রাতে একটি বসত ঘরসহ গত ১০ দিনে ১৯টি বসত ঘর সম্পূর্ন ভাবে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। সন্ধা নেমে আসলে এলাকার হাজার খানেক মানুষেরর হাতির আতংক শুরু হয়ে যায়। বন্য হাতির দল গত দশ দিনে এলাকার ফখিরাখোলার গ্রাম সর্দার আবদুল গণি, আব্দুর রহিম, নুুর ছিদ্দিক, সাহাব উদ্দিন, নুরুল কাদের, অলি আহমদ, নুরুল আলম, মো. শফি, জয়নাল আবেদিন, আনোয়ার হোসেন, মোঃ জামাল, নুর হোসেন, গিয়াস উদ্দিন, মোঃ আবছার, ইমাম হোসেন, হুমায়ুন, সানাউল্লাহসহ জসিম উদ্দিনের বসতবাড়ি সম্পূর্ন গুড়িয়ে দেয়।
এ ছাড়া গত ৯ জুলাই একই ইউনিয়নের কুমারী এলাকায় আব্দুল গফুরের বসত ঘর গুঁড়িয়ে দেয় বন্য হাতির দল।
কামারী এলাকার ওয়ার্ড মেম্বার মোঃ আলমগীর চৌধুরী বলেন, গত সোমবারে বন্য হাতির আক্রমনে মোঃ শাহিন নামের এ ব্যক্তিকে আহত হয় এবং একই এলাকার গফুরের বসত ঘর ভেঙ্গে দেয়।
বুধবার রাত দু’টার সময় হাতির আক্রমনের শিকার জসিম উদ্দিন বলেন, বুধবার রাত দু’টার সময় আমার বাড়িতে ১০ থেকে ১২ টি বন্য হাতির দল হানা দেয়। বাড়ির পেছনে অংশ ভাঙ্গতে শুরু করলে তখন আমার সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি থেকে সরে গিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়ে কোন রকম জীবন রক্ষা করি।
এ বিষয়ে উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ জাকের হোসেন মজুমদার বলেন, ফকিরা খোলা এলাকায় বন্য হাতির আক্রমন অব্যহত রয়েছে। এলাকার মানুষ আতংকে জীবন যাপন করছে। রাতে মশাল জ্বালিয়ে রাত কাটাচ্ছে এখন।
লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে কয়েক দিন ধরে বন্য হাতি দল বসত বাড়িতে আক্রমন চালাচ্ছে শুনেছি। ঘটনাস্থলে আমাদের লোক পাঠিয়েছি। রাতে দল বেঁধে মশাল জ্বালিয়ে হাতি তাড়ানো পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরে জান্নাত রুমি বলেন, বন্যহাতির আক্রমনের ঘটনাস্থলে বৃহস্প্রতিবার এলাকার চেয়ারম্যানকে পাঠানো হয়েছে। তাদের মশাল জ্বালিয়ে দল বেঁধে নিরাপদে থাকার জন্য বলা হয়েছে।

Top