কার্লাইলের ব্যাপারটিই বাংলাদেশের নয়

Qader-news-bg20180709203747.jpg

কক্সবাজার ডেস্ক :

যুক্তরাজ্যের হাউস অব লর্ডসের সদস্য ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যালেক্স কার্লাইলকে ভারতে ঢুকতে না দেওয়ার বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, কার্লাইলকে অনুমতি দেওয়ার ব্যাপারটা পুরোপুরি ভারত সরকারের। সেখানে কে যাবে, না যাবে তা আমাদের ব্যাপার নয়। এক্ষেত্রে তাই বাংলাদেশ সরকারের কোনো প্রকার সম্পৃক্ততা নেই।
শুক্রবার (১৩ জুলাই) দুপুরে গাজীপুরের চন্দ্রা এলাকায় সড়ক পরিস্থিতি পরিদর্শন করতে এসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে বুধবার (১১ জুলাই) রাতে নয়াদিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছান কার্লাইল। তবে বিমানবন্দরে কর্তৃপক্ষ তাকে জানিয়ে দেয়, তার ভিসা বাতিল হয়েছে। সেজন্য খালেদার এ আইনজীবী আর সংবাদ সম্মেলন করতে পারেননি।
ভারতে ঢুকতে না পেরে পরে কার্লাইল সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, ‘বাংলাদেশের চাপে ভারত নতি স্বীকার করেছে।’
ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ বিষয়ে বলেন, ‘এটা ভারতের নিজেদের বিষয়, এখানে বাংলাদেশ সরকার কেন মাথা ঘামাবে? এটা যদি বাংলাদেশের বিষয় হতো তাহলে কি ভারত নাক গলাতো? আমরা কেন তাহলে অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাতে যাবো? এখানে আমাদের নাক গলানোর কোনো বিষয় নেই।’
কাদের বলেন, ‘ভারতে যেতে কার অনুমতি লাগবে, কার অনুমতি নিতে হবে, এটা ভারতের নিজেদের নিয়ম-কানুনের বিষয়। তাদের নিজেদের সিদ্ধান্ত। ভারতের পররাষ্ট্র দফতর থেকে বলা হয়েছে, তার (কার্লাইল) প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ঘাটতি রয়েছে। ঘাটতি থাকার কারণে কার্লাইকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। এ অনুমতির ব্যাপারটা পুরোপুরি ভারত সরকারের সিদ্ধান্ত।’
সড়ক পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ঈদুল আযহা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক পরিদর্শন শুরু করলাম। রমজানের ঈদের সময় যাত্রা অনেক স্বস্তিদায়ক ছিল। কোরবানির ঈদে ফোরলেন সড়কে যাতায়াত অনেক সুবিধাজনক হবে এবং স্বস্তিদায়ক হবে। গাড়ির গতি রমজানের ঈদের চেয়ে কোরবানির ঈদে ভাল থাকবে। কারণ রাস্তা প্রশস্ত থাকছে। এবার কোরবানির ঈদে ২৩টি নতুন ব্রিজের ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল করবে।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে যেসব অপপ্রচার হচ্ছে, এর বাস্তবতা বা যৌক্তিকতা কতোটুকু? নির্বাচন হবে এবং যেভাবে জনগণ চাইবে, জনগণের খুশিমতো, জনগণের ইচ্ছা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন ভোট পরিচালনা করবে। নির্বাচনের নিয়ম-কানুন ও আচরণবিধির বিষয়ে সরকারি দল থেকে বলছি, আমি এর আগে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি হয়ে কোনো এলাকায় কখনো যাইনি। এখন তারা (বিএনপি) লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের কথা বলে। অথচ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মাঠে যেতে পারেন, অথচ আমরা যেতে পারি না।’
আসন্ন বরিশাল, সিলেট ও রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনও নিরপেক্ষ এবং অবাধ হবে আশাবাদ ব্যক্ত করে কাদের বলেন, ‘নির্বাচনে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো হস্তক্ষেপ করা হবে না ‘
এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সড়ক বিভাগের ঢাকা জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আব্দুস সবুর, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সবুজ উদ্দিন খান, গাজীপুর পুলিশ সুপার (এসপি) হারুন অর রশিদ, গাজীপুর সড়ক ও জনপথের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নাহিন রেজা, গাজীপুর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী গাউস উল হাসান মারুফ প্রমুখ।

Top