খাদ্য গুদামের অভ্যন্তরেই ‘খাদক’

Rice.jpg

এম. বেদারুল আলম ॥
কক্সবাজারে খাদ্য কেলেংকারি থামছে না। বিশেষ করে রোহিঙ্গা আগমনের পর থেকে প্রতিদিনই ঘটছে খাদ্য গুদাম কেন্দ্রিক বিভিন্ন ঘটনা। গেল ১ মাসের ব্যবধানে রোহিঙ্গাদের জন্য আনা চাল পাচার, পচাঁ খাবার অনুপযোগি চাল গুদাম জাতকরণ, ভেজাল চালের সাথে ভালো চাল মিশিয়ে বিক্রি, কোরোসিনের গন্ধযুক্ত চাল গুদামজাত করণ, সিন্ডিকেট ব্যবসায়িদের সাথে আতাঁেতর মাধ্যমে ভালো চাল গোপনে বিক্রি করে বাসি ও নিম্মামানের চাল কৌশলে বিক্রি এবং ঠিকাদারের সাথে হাত মিলিয়ে রোহিঙ্গাদের কাছে ভেজাল চাল প্রদান করে বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হরহামেশা ঘটছে। গেল ১ মাসে দৈনিক কক্সবাজারের অনুসন্ধানে সদর খাদ্য গুদামের যে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতি উঠে এসেছে তা রীতিমত আতঁকে উঠার মত। উক্ত অফিসের ট্রায়াঙ্গল কর্মকর্তা – কর্মচারির সরাসরি যোগসাজসে উক্ত দূনীর্তি বৃদ্ধি পেয়েছে যা তাদের চট্টগ্রাম থেকে আগত অভ্যন্তরীণ তদন্ত এবং দুদকের কাছে অভিযোগ ও রয়েছে।

ব্যবসায়ি, খাদ্য অফিসে দৈনিক শ্রমিক হিসাবে কর্মরত , কয়েকজন এনজিও কর্মী এবং গেল ১ মাসে অন্তত ৭ বার সদর খাদ্য অফিসে সরাসরি উপস্থিত হয়ে খাদ্য অফিসে যে অনিয়ম দূর্নীতি, রোহিঙ্গাদের চাল নিয়ে যে চালবাজির চিত্র পাওয়া গেছে তা বর্ণনাতীত। সদর কর্মকর্তা থোয়াই প্রেুা র্মামা উক্ত অনিয়ম এবং অফিসের কার্যক্রমের যে অস্বচ্ছতা তা স্বীকার করে বলেন আপনি যে অনিয়মের কথা বলছেন তা পুরনো কথা, সিন্ডিকেটের সাথে যোগসাজস ও অনেক পুরনো তাছাড়া অভ্যন্তরীন তদন্তের রির্পোট না পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন আরসি ফুড এসে তদন্ত করে গেছেন তা আমরা এখনো রিপোর্ট পায়নি।

সদর খাদ্য অফিসের কেলেংকারির মধ্যে অন্যতম হলো গত ২৩ মার্চ চট্টগ্রাম থেকে সদর খাদ্য গুদামে আনার জন্য ২০ মে.টন চাল পথিমধ্যে ট্রাক দূর্ঘটনায় পড়ে সব চাল পানিতে ভিজে যায়। উক্ত ভেজা চাল গুদামজাত করার নিয়ম না থাকলেও তা খাদ্য অফিসের উঠানে শুকিয়ে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে সিন্ডিকেট থেকে টাকা নিয়ে গুদামজাত করে রোহিঙ্গাদের কাছে পাঠিয়েছে। উক্ত চাল পানিতে ভেজার পর ৩ দিন শুকিয়ে যে ময়লা দূর্গন্ধ বের হয়েছে তা খাবার অনুপযোগি হলেও তা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সদর খাদ্য কর্মকর্তা ও অপর ২ জন কর্মকর্তা রোহিঙ্গাদের বিতরণের জন্য পাঠিয়েছে। উক্ত ভেজা চাল শুকানোর সময় ৩ জন শ্রমিক জানান, এ চাল থেকে কেরোসিনের গন্ধ বের হচ্ছে । রোহিঙ্গারা তো মানুষ , যে চাল গরু-ছাগল খেতে পারবেনা তা রোহিঙ্গারা কিভাবে খাবে প্রশ্ন শুকানোর কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের।

এদিকে রোহিঙ্গাদের জন্য বিশ্বখাদ্য সংস্থার দেওয়া চাল বদলিয়ে ভেজাল চাল চট্টগ্রাম থেকে আনার সময় ২০ মে.টন চাল আটক করা হয় গত ১৪ ফেব্রুয়ারি। সরবরাহকারি প্রতিষ্ঠান আসাদ ট্রেডার্সের সাথে সদর খাদ্য অফিসের উক্ত ৩ জন কর্মকর্তা মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে চাল কোনমতে গুদামজাত করতে পারলেই পোয়াবারো হত। উক্ত ভেজাল চালের ট্রাক আটক হওয়ার পর থলের বিড়াল বেরিয়ে আসতে শুরু করে। উক্ত চালের বিষয়ে তদন্তে আসেন চট্টগ্রাম আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মাহবুবুর রহমান, সহকারি খাদ্য নিয়ন্ত্রক চন্দ্রশেখর মল্লিক। গত সপ্তাহে তা তদন্ত করে গেলেও তার প্রতিবেদন এখনো আসেনি । তবে সরবরাহকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে সদর খাদ্য কর্মকর্তার আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি এখন ওপেন সিক্রেট। সদর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা নোমান হোসেন প্রিন্স সদর উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন খাদ্য গুদাম থেকে ৪শ বস্তার ভেজাল চালের চালানটি আটক করেন।
অপরদিকে সদর খাদ্য গুদামে চাল প্যাকেটজাত করার সময় ৫০ কেজির বস্তায় কোন বস্তায় ৪৭/৪৮ কেজি চাল ভরে প্যাকেট করে রোহিঙ্গাদের কাছে বরাদ্দের সময় তা সরবরাহ করছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। শ্রমিকদের গোপনে নির্দেশনা নিয়ে বস্তায় কম চাল ভরে বাইরে বিক্রি করছে একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন।

এছাড়া ২০১৫ সালের ২৩ আগষ্ট বর্তমান খাদ্য কর্মকতার আমলে ৪৩ মে.টন চালসহ টি ট্রাক জব্দ করার ঘটনা ঘটে রামুতে। এর সাথে সদর খাদ্য গুদামের কর্মকর্তারা জড়িত বলেও অনেকে জানান সে সময়। কৃষকদের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে চাণ সংগ্রহ করার সময় তা কালোবাজারে চলে গেলে তা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আটক করা হয়। এছাড়া ২০১৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বও উক্ত চাল জব্দ করা হয় ।

সদর খাদ্য কর্মকতার মাধ্যমে চট্টগ্রামের কোয়ালিটি চাল কক্সবাজারে আনার পথে বিশাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মোটা টাকায় বিক্রি করে নিম্নমানের কম দামের চাল ঢুকিয়ে গুদামজাত করে কোটি টাকা পর্যন্ত উপরি ইনকাম করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানিয় সরকারের বিশেষ বরাদ্দের চাল চেয়ারম্যান – মেম্বারদের না দিয়ে সিন্ডিকেটকে বিক্রি করে নিম্নমানের চাল পরে চেয়ারম্যানদের সরবরাহ করার কারনে তারা ন্যায্য মূল্য বঞ্চিত হচ্ছে। সরকারের বিশেষ প্রকল্প ১০ টাকার চাল, ওএমএস এর চালের ডিলারদের কাছ থেকে হাতিয়ে মোটা অংকের টাকা।

এদিকে খাদ্য অফিসের মজা ছাড়তে পারছেনা সদর অফিসের উক্ত তিন কর্মকর্তাই। উক্ত অফিসের পরির্দশক হিসাবে ১১ বছর যাবৎ বহাল রয়েছেন রিজিয়া পারভিন। তাকে গত বছর মহেশখালী খাদ্য গুদামে বদলী করা হলেও উক্ত মজার কারনে তিনি বদলী হননি অজ্ঞাত কারনে। একই অবস্থা উপ পরিদর্শক হিসাবে ৮ বছর যাবৎ ঘাপটি মেরে থাকা কামরুল ইসলামের ও। সরকারি চাকুরীতে একই জায়গায় ১১বছর, ৮ বছর কেন বহাল আছে বা কিভাবে বহাল আছে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই ভালো জানেন। তবে সদর খাদ্য কর্মকর্তা গতকাল বলেছেন মহিলা এ জন্য রিজিয়া পারভিন এখানে কাজ করছেন তা ছাড়া এখানে কর্মকর্তা সংকটের ও তিনি অজুহাত দেখান।

খাদ্য গুদামের অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন যাবৎ খাদকদের কারনে নানা অনিয়ম দূর্ণীতি বাসা বেধেঁ আছে সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়টি। ৭/৮ জন খাদ্য সিন্ডিকেট বিশেষ করে রফিক, বুলবুল, মুজিব, সাগর, আবদুর রহিম, আলম সিন্ডিকেট তাদের যে কোন বদলীর আদেশ বাতিলের জন্য প্রয়োজনে কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে প্রস্তুত বলেও জানা গেছে। খাদ্য গুদামের অভ্যন্তরে খাদক হিসাবে পরিচয় পাওয়া সিন্ডিকেট ভাংতে না পারলে জেলার গুরুত্বর্পূণ সরকারের এ প্রতিষ্ঠানটির কাংখিত সেবা আকাশকুসুম হয়ে দাড়াবে। এ সব দূর্ণীতিবাজ কর্মকর্তাদেও অনিয়ম তদন্ত পূর্বক দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগিরা।

Top