জয়ের পূর্বাভাস পেল আ’লীগ

download-2-8.jpg

কক্সবাজার ডেস্ক :

বিএনপি বরাবরই বলে আসছে দুর্নীতির দায়ে দলটির চেয়ারপারসন বেগম জিয়া কারাগারে থাকায় তাদের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। দলটির একাধিক নেতা অনেকবারই এমন বক্তব্য দিয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে দুর্নীতির দায়ে কারান্তরীণ বেগম জিয়ার কারণে বিএনপির জনপ্রিয়তা বাড়েনি বরং কমেছে। বর্তমানে জনসমর্থনে নিরঙ্কুশ ভাবেই বিএনপির চেয়ে এগিয়ে আওয়ামী লীগ। শুধু এগিয়ে থাকাই নয়, আগামী নির্বাচনে এই জনসমর্থনে বিপুল ব্যবধানে জয়ের সম্ভাবনা আওয়ামী লীগেরই। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমন তথ্যই উঠে এসেছে।
বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গবেষণা করে আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিজনেস মনিটর ইন্টারন্যাশনাল (বিএমআই ) রিসার্চ। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জনসমর্থন এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে এর প্রভাব নিয়ে গবেষণা করেছে তারা। শুক্রবার প্রকাশিত বিএমআই রিসার্চের গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জিয়া অরফানেজ দুর্নীতি মামলায় দুর্নীতিবাজ প্রমাণিত হয়ে বেগম খালেদা জিয়া কারান্তরীণ হওয়ায় দলটির শক্তি যেমন হ্রাস পেয়েছে, জনপ্রিয়তাও কমেছে। বর্তমান বিএনপির ‘দুর্বল নেতৃত্ব’ শক্তিশালী আওয়ামী লীগের সামনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে পারবে না। বিএনপি নেতাকর্মীরা গত কয়েক মাস ধরে অনশন, মানববন্ধনের মত যেসব কর্মসূচি পালন করে আসছেন, তাতে বেগম জিয়ার মুক্তি যেমন সম্ভব হয়নি, তেমনি চলতি বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনেও এর কোনো প্রভাব পড়বে না।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিদেশে থাকায় এবং দেশে বহু নেতা মাঠে না থাকায় বিএনপিতে নেতৃত্বের সংকট তৈরি হয়েছে বলে মনে করে বিএমআই রিসার্চ। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের অবস্থা বিএনপির ঠিক বিপরীত। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৮১ সাল থেকে দলের নেতৃত্বে আছেন। বর্তমান বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী নেতা হিসেবেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন শেখ হাসিনা। বিএনপির দুর্বল নেতৃত্ব আওয়ামী লীগের দুর্বার নেতৃত্বের সামনে কতটুকু দাঁড়াতে পারবে তা প্রশ্ন সাপেক্ষ।
চলতি বছরের মে ও জুন মাসে খুলনা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের বড় জয়ের কথা উল্লেখ করে বিএমআই প্রতিবেদনে বলেছে, এটিই বিএনপির সমর্থন কমারই আভাস।
চলতি বছরের বাজেটে গ্রামের কৃষিজীবী মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য যেসব সুবিধা দেওয়া হয়েছে, তার ফলও আওয়ামী লীগ নির্বাচনে পাবে বলে জানায় বিএমআই। উল্লেখ্য, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে ভর্তুকি, কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন খাতে বরাদ্দের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় যথাক্রমে ২৭.৯, ২৪.৮ ও ৮.৯ শতাংশ বাড়িয়েছে।
২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচনের পর দেশজুড়ে সহিংসতায় মেতে ওঠে বিএনপি। ভোটের মাঠে অনুপস্থিত বিএনপি দেশজুড়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের চেষ্টা করে। এবারও এমন সহিংসতার আশঙ্কা করছে বিএমআই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন এক সময়ে বিএমআই রিসার্চের প্রতিবেদন পাওয়া গেল যখন দুটি নির্বাচনে পরাজিত বিএনপি অপর তিন সিটিতেও পরাজয়ের প্রহর গুনছে। তিন সিটিতেই ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগের সামনে বিচ্ছিন্ন, কোন্দলে বিভক্ত, শরিকে শরিকে গ-গোল নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছে বিএনপি। এমন অবস্থায় বিএনপি প্রতিবেদন যেন আওয়ামী লীগে জয়ের পূর্বাভাস আর বিএনপির দৈনতার প্রতিফলন।

Top