দীর্ঘ নয় বছর পর নতুন নেতৃত্ব পাচ্ছে জেলা যুবলীগ

received_10155475624013806.jpeg

আজিম নিহাদ ্॥
দীর্ঘ নয় বছর পর অবশেষে খোরশেদ আলম-মাহাবুবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন কক্সবাজার জেলা যুবলীগের কমিটির অবসান হচ্ছে। নানা জল্পনা-কল্পনা শেষে আগামি ২৯ মার্চ অনুষ্ঠিত হচ্ছে জেলা যুবলীগের বহুল কাঙ্খিত সম্মেলন ও কাউন্সিল। আর এতেই নির্বাচিত হবেন নতুন নেতৃত্ব। সম্মেলনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। তবে অনেকে শঙ্কা করছেন, ভোটের লড়াইয়ে নয়, সমঝোতার ভিত্তিতে চাপিয়ে দেওয়া হবে নতুন নেতৃত্ব।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২৯ মার্চ অনুষ্ঠেয় জেলা যুবলীগের সম্মেলনের যাবতীয় প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। অতিথি নির্ধারণও হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে জেলা যুবলীগের পক্ষ থেকে সম্মেলনের পোষ্টার ও দাওয়াত পত্র বিলি করা হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামি ২৯ মার্চ কক্সবাজার শহরের পাবলিক লাইব্রেরীর শহীদ দৌলত ময়দানে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
শহর ঘুরে দেখা গেছে, সম্ভাব্য সভাপতি-সম্পাদকের ডিজিটাল ব্যানার, বিলবোর্ড, পেষ্টুনে ছেয়ে শহর। বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে ব্যানার পেষ্টুন টাঙানো হয়েছে।

কক্সবাজারে যুবলীগের রাজনীতি প্রায় ঝিমিয়ে পড়েছিল। কিন্তু সম্মেলনকে কেন্দ্র করে আবারও চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। সম্ভাব্য সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীরা টেকনাফ থেকে কুতুবদিয়া পর্যন্ত পুরো জেলায় কাউন্সিলরদের দ্বারে দ্বারে চষে বেড়াচ্ছেন। তৃণমূল পর্যায়েও নতুন নেতৃত্ব পেতে আগ্রহের যেন শেষ নেই।

এদিকে জেলা যুবলীগের হাল ধরতে ডজনাধিক প্রার্থী মাঠে চষে বেড়াচ্ছেন কয়েক মাস ধরে। কিন্তু অজানা কারণে সম্মেলন বার বার পিছিয়ে যায়। অবশেষে চলতি মাসের শুরুর দিকে স্বপ্ন পূরণের দিনক্ষণ ঠিক হওয়ায় দৌঁড়ঝাপ বেড়ে যায় সম্ভাব্য সভাপতি-সম্পাদক প্রার্থীদের। এই দুই পদে ভিন্ন প্যানেলে একাধিক প্রার্থী থাকলেও আসন্ন কাউন্সিলে কার স্বপ্ন পূরণ হবে সেটি ইতোমধ্যে প্রায় নির্ধারণ হয়ে গেছে। একারণে কাউন্সিল নিয়ে সংশয় বেড়েছে নেতাকর্মীদের মধ্যে।

নেতাকর্মীরা জানান, শুরুর দিকে সভাপতি প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালান জেলা আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি বঙ্গবন্ধুর ঘণিষ্ট সহচর মুক্তিযোদ্ধা একেএম মোজাম্মেল হকের ছেলে জেলা যুবলীগের বর্তমান সহসভাপতি শহিদুল হক সোহেল। কিন্তু ক্লিন ইমেজ, সাংগঠনিক দক্ষতা ও তৃণমূলের পছন্দের বিচারে সভাপতি প্রার্থী হিসেবে শীর্ষ অবস্থানে উঠে আসে বর্তমান কমিটির আরেক সহসভাপতি সোহেল আহমদ বাহাদুরের নাম। পরে জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগসহ দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা ঐক্যমতের ভিত্তিতে সোহেল আহমদ বাহাদুরকে সভাপতি ও শহিদুল হক সোহেলকে সাধারণ সম্পাদক করে প্যানেল চূড়ান্ত করেন। কিন্তু এর বাইরে সভাপতি পদে প্রার্থীতা তেমন না থাকলেও সাধারণ সম্পাদক পদে অন্তত এক হালি প্রার্থী এখনও মাঠে চষে বেড়াচ্ছেন।

কক্সবাজার সদর উপজেলা যুবলীগের এক নেতা বলেন, তাদেরকে কয়েকদিন আগে বর্তমান কমিটির সভাপতি-সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা সভাপতি হিসেবে সোহেল আহমেদ বাহাদুর ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শহিদুল হক সোহেলকে ইঙ্গিত করেছেন। সমঝোতার ভিত্তিতে এই প্যানেল নির্ধারণ করা হয়েছে। এবং এ প্যানেলই আগামি ২৯ মার্চ জেলা যুবলীগের দায়িত্ব নিচ্ছেন বলে তিনি দাবী করেন।

প্রার্থীদের বিষয়ে কয়েকজন নেতাকর্মীর সাথে কথা হয়। তারা জানান, বর্তমান কমিটির সহসভাপতি সোহেল আহমদ বাহাদুর কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমএলএ অ্যাড. নুর আহমেদের সন্তান। তিনি দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রীর অধিকারী। অত্যন্ত ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন এই নেতা দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে থেকে জেলা জুড়ে যুবলীগকে সুসংগঠিত করেছেন। জেলা জুড়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সুখে-দুঃখে সব সময় পাশে আছেন তিনি। তাই কাউন্সিল হলে সোহেল আহমেদ বাহাদুরের সভাপতি পদে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া হাইকমা-ও সোহেল আহমদ বাহাদুরের কর্মকা-ে অত্যন্ত সন্তুষ্ট।

তারা আরও জানান, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শহিদুল হক সোহেল যথেষ্টযোগ্য। সোহেল আহমদ বাহাদুর ও শহিদুল হক সোহেল জেলা যুবলীগের নেতৃত্বে আসলে যুবলীগে নতুন প্রাণের সঞ্চার হবে। এবং কক্সবাজারে সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী সংগঠন হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা যুবলীগের এক নেতা বলেন, যেহেতু কাউন্সিলের আগ মুহুর্তে এসে সমঝোতা প্যানেল হয়েছে, তাই কাউন্সিল আশা করা যায় না। তাঁর শঙ্কা, মঞ্চ থেকে চাপিয়ে দেওয়া হতে পারে দীর্ঘ নয় বছর পেতে যাওয়া জেলা যুবলীগের নতুন কমিটি। তাঁর অভিমত, সভাপতি-সম্পাদক হিসেবে সোহেল আহমদ বাহাদুর ও শহিদুল হক সোহেল যথেষ্ট গ্রহণযোগ্য হলেও এ দুই পদে কাউন্সিলদের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করা উচিত।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজেকে জেলা যুবলীগের সভাপতি প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি নুরুল আজিম কনক।
সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন জেলা যুবলীগ নেতা আশরাফ উদ্দিন, সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ইফতেখার উদ্দিন পুতু, পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক শোয়েব ইফতেখার ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আলী আহমেদ।

কক্সবাজার জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান চৌধুরী গণমাধ্যমে বলেছেন, সম্মেলনকে ঘিরে কোন ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে দেয়া হবে না। কাউন্সিলরেরা নির্ভয়ে যথাসময়ে সম্মেলন স্থলে আসতে পারবেন।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ উদ্দীন খন্দকার বলেন, যুবলীগের সম্মেলন ও কাউন্সিলকে ঘিরে সকল ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ দেয়া হবে না।

জেলা যুবলীগের দাওয়াতপত্র অনুযায়ী আগামি ২৯ মার্চের সম্মেলন উদ্বোধন করবেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কক্সবাজার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদ সদস্য খান বাহাদুর মোস্তাক আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় সাংসদগণ ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

উল্লেখ্য, নয় বছর পূর্বে খোরশেদ আলমকে সভাপতি ও মাহাবুবুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা যুবলীগের কমিটি গঠিত হয়। তাদের বিরুদ্ধে এখন অবধি বিতর্কিত কোন কর্মকা-ের অভিযোগ নেই। গেল বছর জেলা আওয়ামী লীগের গঠিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে খোরশেদ আলম প্রচার সম্পাদক হিসেবে ও মাহাবুবুর রহমানের ঠাঁই হয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে।

Top