বাঁকখালী ব্রিজ নির্মাণের অযুহাতে প্যারাবন নিধন, মামলা: তদন্তে পিবিআই

Nihad-News-Pic-1.jpg

কক্সবাজার রিপোর্ট :
বাঁকখালী নদীতে ব্রীজ নির্মাণকাজে নিয়োজিত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্যারাবন নিধনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আদালতে ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
সূত্রে জানা গেছে, বাঁকখালীর নদীর উপর দিয়ে কস্তুরাঘাট থেকে খুরুশকুল সংযোগ সেতু নির্মাণের কাজ চলছে। ওই সেতু নির্মাণের কাজ করতে গিয়ে গত ২৫ জুন বাঁকখালী নদীর খুরুশকুল অংশে ব্যাপক প্যারাবন নিধন করে সেতু নির্মাণের নিয়োগকৃত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এতে প্রায় ২ হাজারটি কেরবা ও বাইন গাছ নিধন করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি। পরে গত ২৭ জুন এঘটনায় মিডওয়ে সাইন্টিফিক ফিশারী লিমিটেডের পক্ষে ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এম.এম গ্রুপ অব কোম্পানীজ লিমিটেডের এমডি মো. মহিউদ্দিন মঈনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে পিবিআই।
মিডওয়ে সাইন্টিফিক ফিশারী লিমিটেড সূত্র জানায়, বাঁকখালী নদীর বেড়িবাঁধ রক্ষার স্বার্থে বাঁধের সাথে লাগোয়া নিজস্ব খতিয়ানভুক্ত জমিতে ২০০৬ সালে প্যারাবনটি সৃজন করে মিডওয়ে সাইন্টিফিক ফিশারী কর্তৃপক্ষ। সেখানে সুন্দরবন থেকে হাইব্রিড এর উন্নত প্রজাতির কেরবা, বাইন গাছের চারা এনে রোপন করা হয়। দৃষ্টিনন্দন এই প্যারাবনটি একদিকে যেমন বেড়িবাঁধ রক্ষায় কাজ করে, অপরদিকে পরিবেশ রক্ষায় সহায়ক ভুমিকা পালন করে। কিন্তু দুর্বৃত্তের মত প্রকাশ্যে শ্রমিক নিয়োগ করে সেতু নির্মাণের অযুহাতে ব্যক্তি মালিকাধীন জায়গার উপর সৃজিত প্যারাবন নিধন করেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি। এতে আনুমানিক ১০ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে মিডওয়ে সাইন্টিফিক ফিশারী কর্তৃপক্ষের।
প্যারাবন নিধনের দায়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের এমডি মো. মহিউদ্দিন মঈনকে আসামী করে কক্সবাজার সিনিয়র জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করে মিডওয়ে সাইন্টিফিক হ্যাচারীর সহকারী ম্যানেজার ওসমান সরওয়ার। পরে আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে গত ১১ জুলাই পিবিআইকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আদালতের নির্দেশনা পাওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি সেখানে প্যারাবন নিধনের যথেষ্ট প্রমাণ পান।

Top