বিনামূল্যে মূল্যবান সেবা দিচ্ছে প্রতিবন্ধি সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র

prtibondisab-kandr.jpg

?

কক্সবাজার রিপোর্ট ॥
কক্সবাজার সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় প্রতিবন্ধি সেবা সাহায্য কেন্দ্র কক্সবাজারের মানুষের জন্য আশির্বাদ হয়ে উঠেছে। সম্পূর্ন বিনামুল্যে সেবা পেয়ে দারুণ খুশি স্থানীয় মানুষ। বিশেষ করে দরিদ্র জটিল রোগে আক্রান্ত মানুষ সরকারের এই সেবা কেন্দ্রকে তাদের জন্য সরকারের বিশেষ উপহার বলে মনে করছেন। এ জন্য অনেকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

সম্প্রতি কক্সবাজার বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সের পাশে প্রতিবন্ধি সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে বেশ কয়েকজন রোগি নানানভাবে এই কেন্দ্রে সেবা নিচ্ছে তাদেরই একজন সাজেদা বেগম (৪৫)। আলাপ কালে তিনি বলেন, আমি কিছুদিন আগে একটি দুর্ঘটনাবশত হাতে এবং কোমরে প্রচন্ড ব্যাথা পেয়েছিলাম। ০আমার স্বামী নিজে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে কর্মরত শুরুর দিকে সেখানে চিকিৎসা করেছি পরে ডাক্তাররা বলেছে নিয়মিত থ্যারাপি দিতে হবে। সে জন্য প্রথমে আল-ফুয়াদ হাসপাতালের পাশে থেরাপী সেন্টারে গিয়েছিলাম। সেখানে থেরাপী দিতে প্রতিবারে ৩০০ টাকা নিত। কিন্তু মান তেমন ভাল না, পরে এক স্কুল শিক্ষকের কাছে এই সরকারি সেবা সেন্টারের কথা শুনে এখানে এসে দেখি আমি যেটা কল্পনা করিনি তার চেয়ে বেশি এখানে সুযোগ সুবিধা আছে। আমি কয়েক মাস ধরে এখানে নিয়মিত চিকিৎসা করাচ্ছি সম্পূর্ন বিনামুল্যে। তাও এখানকার চিকিৎসা এত উন্নত যা বলার ভাষা নেই। আর এখানকার যন্ত্রপাতি এবং ডাক্তারদের ব্যবহার খুবই ভাল। ঘরের কাছে এরকম একটি সেবাকেন্দ্র সত্যি আমার খুবই খুশি। এক কথায় এটি আমাদের জন্য আল্লাহর রহমত। আরেক রোগি লাইটহাউজ পাড়ার নুর জাহান (৫৬) বলেন, আমি ১ বছর ধরে এখানে চিকিৎসা করাচ্ছি ।কোন দিন এক টাকাও দিতে হয় নি। আর এখানে থেরাপী দিয়ে আমি এখন সম্পূর্ন সুস্থ অনুভব করছি। এর আগে আমি হাসপাতালের পাশের একটি থেরাপী সেন্টার পরে চট্টগ্রাম থেকে থেরাপী দিয়েছিলাম। সত্যি বলতে আমার এখানেই বেশ ভাল লেগেছে। এই সেবা সেন্টারের আধুনিক যন্ত্রপাতি রয়েছে। কর্মকর্তা কর্মচারীরাও খুব সুন্দরভাবে আমাদের থেরাপী দেয় এবং ভাল ভাবে পরামর্শ এবং চিকিৎসা করে। শহরের টেকপাড়া এলাকার বাসিন্দা আবছার কামাল বলেন, আমার এক মেয়ের মানসিক কিছুটা সমস্যা দেখা যাচ্ছিল। সে জন্য আমরা ঢাকা চট্টগ্রাম সহ অনেক জায়গায় চিকিৎসা করিয়েছি। পরে কক্সবাজারের এই সেবা কেন্দ্রের খবর পেয়ে সেখানে নিয়ে যাই। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন আছে, সেখানে অটিজম সহ নানান বিষয়ে খুব ধর্য্য সহকারে এবং ভালভাবে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। আমি খুবই সন্তুষ্ট।

এ ব্যাপারে কক্সাবজার প্রতিবন্ধি সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের কর্মকর্তা ডাঃ সাহেদুজ্জামান মজুমদার বলেন, ২০১২ সালে এই সেবা কেন্দ্রের যাত্রা শুরু থেকে এই সেবাকেন্দ্র সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করে আসছে। শুরু থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৪০ হাজার রোগি সেবা পেয়েছে। ৩ হাজার রোগি সেবা সাহায্য পেয়েছে। এছাড়া এখানে হুইল চেয়ার, সাদাছড়ি, হেয়ারিং এইড, ট্রাই সাইকেল, স্ক্রাচ, ওয়াকার, অর্থস্মিম সহ অনেক প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে এপর্যন্ত ২৫৮ টি হুইল চেয়ার দেয়া হয়েছে। তবে সেগুলো দেওয়া হয় দরিদ্র এবং অসহায় রোগিদের। তিনি বলেন, যে কোন রোগির প্রথম বারে আইডি কার্ড বা জন্মনিবন্ধন এবং সাথে ২ কপি ছবি নিয়ে এখানে রেজিস্ট্রেশন করানো হয়। এর পরে তিনি যতবার চাইবেন এখানে সেবা নিতে পারবেন। তাও সম্পূর্ন বিনামূল্যে। এখানে কোন রোগির কাছ থেকে এক টাকাও নেওয়া হয় না। সেবার মধ্যে এখানে প্রতিবন্ধি বা প্রতিবন্ধি হতে যাচ্ছে এই ধরনের সেবা ও পরামর্শ দেওয়া হয়। আমার জানা মতে, এ পর্যন্ত কোন রোগিকে এই সেন্টার থেকে মন খারাপ করে যেতে হয়নি। আমি মনে করি সরকার আমাদের এখানে দায়িত্ব দিয়েছে সাধারণ মানুষের সেবা করার জন্য। আমি মনে প্রাণে সেই কাজই করছি। তবে এখানে ১২ টি পদের বিপরীতে ৩ টি পদ খালী রয়েছে। আর বিদ্যূৎ সমস্যার কারনে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে । সেগুলো সমাধান হলে মানুষ আরো সেবা পেত। এ ব্যাপারে কক্সবাজার সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক প্রীতম কুমার চৌধুরী বলেন, প্রতিবন্ধি সেবা সাহায্য কেন্দ্র ইতোমধ্যে মানুষের মন জয় করেছে। সেখানে সেবাও খুব ভাল দিচ্ছে। তবে কিছু জনবল সংকট আছে। সেগুলো পূরন করার জন্য আমরা উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে লিখেছি। আমি মনে করি জনবল বাড়লে সেবার মান আরো বাড়বে। কক্সবাজারের মানুষ সেবা পাবে।

Top