আ. লীগকে ভোট দিলে কেউ খালি হাতে থাকবে না: শেখ হাসিনা

e319538e341d1215165d6b78c3135f84-5a9ff6d7ac0ec-108063.jpg

কক্সবাজার ডেস্ক ॥

আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে কেউ খালি হাতে থাকেননি, থাকবেও না। বললেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি আরও বলেন, লুটপাট আর ধ্বংস করাই বিএনপির চরিত্র। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় নৌকায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার বিকেলে চাঁদপুর জেলা স্টেডিয়ামে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতিহাস বিকৃত করেছে বিএনপি। তারা (বিএনপি) যুদ্ধাপরাধীর হাতে বাংলাদেশের পতাকা দিয়েছে, তাদেরকে মন্ত্রী বানিয়েছে। বিএনপি বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। ক্ষমতা থাকাকালে জিয়া ও এরশাদ দেশের উন্নয়ন করতে পারেন নি। বরং দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছেন। বিএনপির রাজনীতি জ্বালাও-পোড়াওয়ের রাজনীতি।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ মানুষকে শান্তি দেয়, আওয়ামী লীগকে ভোট দিলে গ্রাম-পর্যায়ে উন্নয়ন হয়। দেশের দারিদ্র দূর করেছে আওয়ামী লীগ। এছাড়াও বয়স্ক ও বিধবা-ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ও দুস্থ মুক্তিযোদ্ধা ভাতার ব্যবস্থা করেছে আওয়ামী লীগ।

তিনি আরো বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এছাড়াও অভিভাবকের উদ্দেশে আওয়ামী লীগ প্রধান বলেন, আপনাদের সন্তানরা কী করেন, একটু খোঁজ খবর নিবেন। তারা কী করছে, কোথায় যাচ্ছে, খেয়াল রাখুন।

বেগম খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া এতিমের টাকা লুট করার কারণে সাজা ভোগ করছেন। এতিমের টাকা লুটপাট করলেই স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা করেন না।

এছাড়াও নানা উন্নয়নের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রবাসীদের কল্যাণে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক করেছি। যাতে তারা এখান থেকে ঋণ নিয়ে বিদেশে যেতে পারেন। এতে তাদের নিজেদের বাড়ি-ঘর, জায়গা-জমি বিক্রি করতে হবে না।
তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার আমলে প্রায় ১০ লাখ লোক বিদেশে গিয়েছে।

এর আগে ৪৮টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন করা প্রকল্পগুলো হচ্ছে – চাঁদপুর জেলা পরিষদের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য ৬তলা ভিত্তির ওপর নির্মিত ৪তলা স্টাফ কোয়ার্টার, চাঁদপুর পৌরসভায় পুরানবাজার ভূগর্ভস্থ পানি শোধনাগার ও উচ্চ পানি সংরক্ষণাগার, পুরানবাজার ইব্রাহিমপুর সাখুয়ায় মেঘনার ভাঙন থেকে চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের সুরক্ষা প্রকল্প (প্রথম পর্যায়), মেঘনা নদীর (হাইমচর) ভাঙন থেকে চাঁদপুর সেচ প্রকল্প এলাকা সুরক্ষা ও বাঞ্ছারামপুর উপজেলা সংরক্ষণ প্রকল্প (প্রথম পর্যায়), চাঁদপুর সরকারি কলেজের বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গার্লস হোস্টেল, চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের চারতলা একাডেমিক ভবন।

মতলব উত্তর সুজাতপুর ডিগ্রি কলেজের ৪ তলা একাডেমিক ভবন, মতলব উত্তর উপজেলার কলিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ৪তলা একাডেমিক ভবন, কচুয়া উপজেলায় কচুয়া বঙ্গবন্ধু ডিগ্রি কলেজের ৪তলা একাডেমিক ভবন, ফরিদগঞ্জ উপজেলার লাউতলীতে ড. রশিদ আহমেদ উচ্চ বিদ্যালয় ও ৪তলা একাডেমিক ভবন, শোল্লা উচ্চবিদ্যালয় একাডেমিক ভবন, মতলব উত্তর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, জেলার আট উপজেলায় ৬০ ভূমিহীন ও অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আবাসন, হাইমচর থেকে চর ভিরিবি সড়ক উন্নয়ন, চাঁদপুর সদর উপজেলায় হোসেনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সম্প্রসারণ, আমিনুল হক পৌরসভা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সম্প্রসারণ, কদমতলা পৌর সুপার মার্কেট, ১৯৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী গণআন্দোলনে নিহত ছাত্রলীগ নেতা শহীদ জিয়াউর রহমান রাজু স্মরণে নির্মিত ‘রাজু চত্বর’, চাঁদপুর মেরিন টেকনোলজি ইনস্টিটিউট ও ধনাগোদা নদীর ওপর মতলব সেতু।

প্রধানমন্ত্রী যেসব প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন সেগুলো হচ্ছে- মতলব দক্ষিণ উপজেলার গলিমখানে চাঁদপুর-কুমিল্লা সংযোগস্থলে বাউন্ডারি গেট নির্মাণ, কচুয়া উপজোর জগতপুর অংশে চাঁদপুর-কুমিল্লা সংযোগস্থলে বাউন্ডারি গেট নির্মাণ, ফরিদগঞ্জ উপজেলার চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর সংযোগস্থলের চরমান্দারিতে বাউন্ডারি গেট নির্মাণ, মতলব দক্ষিণ উপজেলা প্রাঙ্গণে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ফলক নির্মাণ, মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ফলক নির্মাণ, কচুয়া উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি নির্মাণ, হাইমচর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিফলক নির্মাণ।

হাজিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিফলক নির্মাণ। কচুয়া পৌরসভায় আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়ার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মাণ, চাঁদপুর জেলায় মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষায় হারুনা ফেরিঘাট ও কাটাখাল বাজার রক্ষা প্রকল্প, ফরিদগঞ্জ উপজেলার বাশারাও হাইস্কুল শিক্ষা ভবন নির্মাণ। ফরিদঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় শিক্ষা ভবন নির্মাণ, মতলব দক্ষিণ উপজেলার হযরত শাহজালাল হাইস্কুল শিক্ষা ভবন নির্মাণ।

মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁ দক্ষিণ ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণ, মতলব দক্ষিণ উপজেলায় মতলব পৌর ভূমি অফিস নির্মাণ, মতলব দক্ষিণ উপজেলায় নারায়ণপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণ, চাঁদপুর সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণ, শাহরাস্তি উপজেলার রাগই ইউনিয়ন ভূমি অফিস উদ্বোধন, কচুয়া উপজেলার কচুয়া দক্ষিণ ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণ, কচুয়া উপজেলার কাদলা ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণ, হাইমচর উপজেলার স্নাবালা জিসি- শরিয়তপুর- চন্দ্রপুর আরঅ্যান্ডএইচ সড়ক উন্নয়ন, মতলব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩১-শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নয়ন এবং চাঁদপুর পরিবার পরিকল্পনা অফিস ও চাঁদপুর পৌর অফিস ভবন নির্মাণ।

Top