কুতুবদিয়ার লেমশীখালীর শাহাজির পাড়া সেতুটি এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য এক ধরনের ‘মরণ ফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। পায়ে হেঁটে কোনোভাবে চলাচল করা গেলেও প্রায় এক বছর ধরে বন্ধ রয়েছে সব ধরনের যানবাহন চলাচল। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, মারাত্মক ঝুঁকিতে থাকা সেতুটি যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে।
পিলটকাটা খালের ওপর নির্মিত ৪৫ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটি ২০০৫ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নির্মাণ করে। কিন্তু মাত্র দেড় যুগের ব্যবধানে সেতুটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ে, বর্তমানে এটি অনেকটাই পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতুর নিচ দিয়ে লবণ পরিবহন করছেন স্থানীয় চাষিরা।
স্থানীয় বাসিন্দা রবিুল হোসেন, মো. হোসেন, আবুল বশর ও দোকানদার রমজান আলী জানান, এই সেতুর ওপর নির্ভরশীল ছিল অন্তত ১০টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ। ছিদ্দিক হাজির পাড়া, হাবিব হাজির পাড়া, শাহাজির পাড়া, ঠান্ডা চৌকিদার পাড়া, মলমচর ও কৈলাসঘোনা এলাকার মানুষের প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম ছিল এটি। সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়া এবং সংযোগ সড়ক সংস্কার না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের।
শাহাজির পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমান বলেন, তার বিদ্যালয়সহ আশপাশের পাঁচটি নুরানিয়া ও হেফজখানার ছয় শতাধিক শিক্ষার্থীর প্রায় অর্ধেক এই সেতু দিয়ে যাতায়াত করে। কিন্তু সেতুর দুই পাশের সড়ক ভাঙাচোরা থাকায় বর্ষা মৌসুমে অনেক শিশু বিদ্যালয়ে আসতে পারে না।
লেমশীখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আকতার হোসেন জানান, সেতুটি পুনর্নির্মাণের জন্য এলজিইডিকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সেতু। একই কথা জানিয়েছেন কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শফিউল আলম। তিনি বলেন, বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
উপজেলা প্রকৌশলী আবুস উদ্দিন বলেন, শাহাজির পাড়া সেতুটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ৪৫ মিটার দীর্ঘ এই সেতু পুনর্নির্মাণের জন্য একাধিক প্রকল্পে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। তবে কবে নাগাদ অনুমোদন মিলবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।