টেকনাফে ৩ লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবাসহ মো. ইদ্রিস (৪০) নামে এক মাদক পাচারকারীকে আটক করেছে
বিজিবি ও এসআরবি।
আটক মাদক কারবারি হল, মো. ইদ্রিস টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড ডেইলপাড়া এলাকার বাসিন্দার মৃত আব্দুল হাকিমের ছেলে বাসিন্দা।
সোমবার (৫ অক্টোবর)গভীর রাতে টেকনাফ পৌরসভা জালিয়াপাড়া নাফনদী সংলগ্ন এলাকা থেকে ইয়াবাসহ তাকে আটক করা হয়।
দুপুরে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্যটি জানানো হয়েছে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানিয়েছেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক, অস্ত্র চোরাচালান ও মানব পাচারসহ সবধরনের সীমান্ত অপরাধ দমনে নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) ও এসআরবির যৌথ অভিযানে ইয়াবার এই চালান জব্দ করা হয়।
বিজিবি সূত্র জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে খবর আসে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকা দিয়ে মিয়ানমার থেকে নাফ নদী অতিক্রম করে ইয়াবার একটি বড় চালান বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে। এ তথ্যের ভিত্তিতে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এর অধিনায়ক ও এসআরবি প্রতিনিধির যৌথ পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় বিশেষ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী বিজিবি ও এসআরবির যৌথ আভিযানিক দল রাত আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে টেকনাফ সদর ৮নং ওয়ার্ড নাজিরপাড়া চৌকির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার দক্ষিণে পৌরসভা জালিয়াপাড়া ৪নম্বর ব্রিজের ১ নম্বর সুইচ গেটের পশ্চিম পাশে খাল সংলগ্ন নাফ নদী এলাকায় কৌশলগত অবস্থান নেয়। এরপর ৫ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে টেকনাফ চৌকি বিশেষ টহলদল থার্মাল ইমেজারের মাধ্যমে মিয়ানমার থেকে আসা কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তির গতিবিধি শনাক্ত করে। পরে গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তাদের গতিবিধি নিবিড়ভাবে নজরদারিতে রাখা হয়। রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বস্তা নিয়ে নাফ নদী সাঁতরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেখা যায়। এসময় যৌথ আভিযানিক দলের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে পার্শ্ববর্তী কেওড়া বাগানের দিকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
তখন যৌথ দল অভিযান চালিয়ে ৩টি বড় প্যাকেটসহ মো. ইদ্রিস (৪০) নামে একজনকে আটক করতে সক্ষম হয়। পরে প্যাকেটগুলো তল্লাশি করে বিশেষভাবে মোড়কজাত অবস্থায় ৩ লাখ ৯০হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
বিজিবি জানিয়েছেন, আটক আসামি ও জব্দ করা ইয়াবার বিষয়ে নিয়মিত মামলা রুজুর মাধ্যমে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
বিজিবির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক পাচারসহ সবধরনের সংঘবদ্ধ অপরাধ প্রতিরোধে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর গোয়েন্দা নজরদারি, নিয়মিত টহল, প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।