শরীরে সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, জীবাণুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধী ব্যবস্থা গড়ে তোলে টনসিল। মুখ-নাক দিয়ে যেন কোনো জীবাণু শরীরে প্রবেশ করতে না পারে সে প্রহরীর কাজ করে। এটি শরীরে অনেকটা প্রথম প্রতিরক্ষা ব্যূহর মতো। কিন্তু এ কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় নিজেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ এ উপাদান।
টনসিলের প্রধান কাজ হলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো। নানা ধরনের ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, জীবাণু যেন শরীরে সংক্রমণ তৈরি করতে না পারে সেটিও খেয়াল রাখে টনসিল।
এ কাজ সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য টনসিলে প্রচুর পরিমাণে শ্বেত রক্তকণিকা থাকে। এগুলো শরীরে থাকা জীবাণু ধ্বংস করতে সাহায্য করে। এটি লিম্ফ্যাটিক সিস্টেমের অংশ।
কোনো কারণে যখন টনসিল এর কাজ করতে ব্যর্থ হয় তখনই শরীরে প্রবেশ করা জীবাণু, ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাসের আক্রমণের শিকার হয় এটি। আর টনসিল ক্ষতিগ্রস্ত হলেই শরীরে দেখা দেয় ঢোক গিলা ও কথা বলতে না পারার মতো অসুবিধাগুলো।
অনেক সময় গলাব্যথার কারণে কাশি দিতে রোগীর কষ্ট হয়। টনসিলের ব্যথায় কান, গাল ব্যথাও করে অনেক ক্ষেত্রে। এ সমস্যার প্রতিকারে চিকিৎসা শাস্ত্রে নানা ওষুধ রয়েছে। তবে আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অনুযায়ী, ঘরোয়া উপায়েও এর প্রতিরোধ সম্ভব।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের প্রতিবেদন অনুযায়ী আসুন এক নজরে জেনে নিই, টনসিলের ব্যথা দ্রুত কমানোর কার্যকরী কিছু ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে-
১। লেবু-মধু: এক গ্লাস গরম পানিতে একটা পাতিলেবুর রস, এক চামচ মধু ও একটু লবণ মিশিয়ে খান। টনসিলে ব্যথা হলে দিনের মধ্যে মাঝেমাঝেই তা পান করুন।
২। লবণ পানি: এক গ্লাস গরম পানিতে একটু লবণ দিয়ে তা থেকে ভাপ নিলে সহজেই দূর হয় টনসিলের ব্যথা। ভাপ নেয়ার সময় কান-মাথা জড়িয়ে বসুন। লবণ পাণি মিশ্রিত পানি দিয়ে দিনে দু’বার অন্তত গারগেল করুন।
৩। গ্রিন টি ও মধু: আধা চামচ গ্রিন টি ও এক চামচ মধু দিয়ে মিনিট দশেক ফুটিয়ে নিন। দিনে বার তিনেক এই চা খান। গ্রিন টি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, এটি জীবাণুর সঙ্গে লড়তে সাহায্য করে। মধুর অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল শক্তি টনসিলে সংক্রমণ ঠেকায়।
৪। হলুদ ও দুধ: এক কাপ গরম দুধে সামান্য হলুদ মিশিয়ে নিন। হলুদ অ্যান্টি ইনফ্লেমটরি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। গলা ব্যথা দূর করতে এর জুড়ি মেলা ভার। তাই হলুদ মেশানো গরম দুধ যেমন সর্দি-কাশি দূর করে, তেমনই টনসিলের ব্যথা দূর করতে বিশেষ কার্যকরী।