কক্সবাজার জেলা লিগ্যাল এইড অফিস ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর হতে ২০২৬ সালের ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত ৪ মাসে মোট ৪৫ লক্ষ ৮২ হাজার ৭০০ টাকা বিভিন্নখাতে অর্থ আদায় করা হয়েছে। একই সময়ে মামলা (আবেদন) নিষ্পত্তি করা শতকরা ১০৭ ভাগ। যা কক্সবাজার জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের বছরের এক তৃতীয়াংশ সময়ের মধ্যে এ যাবৎ কালের সর্বোচ্চ অর্থ আদায় ও মামলা নিষ্পত্তির রেকর্ড।
কক্সবাজার জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিনিয়র সিভিল জজ অভিজিৎ চৌধুরী এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি আরো জানান, গত ৪ মাসে কক্সবাজার জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে মোট আবেদন এসেছে ৬৫৬ টি। তারমধ্যে, প্রি-কেইস এডিআর (Alternative Dispute Regulation)
আবেদন ৬৪২ টি এবং পোস্ট-কেইস এডিআর (Alternative Dispute Regulation) আবেদন এসেছে ১৪ টি। প্রি-কেইস এডিআর সফল মীমাংসা হয়েছে ১৩৫ টি। মিমাংসা হয়নি ৫৫২ টি। নিস্পত্তির হার শতকরা ১০৭ ভাগ। পোস্ট-কেইস এডিআর সফল মীমাংসা হয়েছে ৪ টি। মিমাংসা হয়নি ৭টি। নিস্পত্তির হার শতকরা ৭৯ ভাগ। এছাড়া আইনগত সহায়তা মামলা প্রদান করা হয়েছে ১৯৮ টি।
কক্সবাজার জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার অভিজিৎ চৌধুরী আরো জানান, জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির সভাপতি এবং কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আবদুর রহিমের নির্দেশনায় জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের কার্যক্রমকে ক্রমাগত গতিশীল ও জনবান্ধব করা হচ্ছে। ফলে এ বিশাল অর্জন সম্ভব হয়েছে।
কক্সবাজার জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার অভিজিৎ চৌধুরী বলেন, লিগ্যাল এইড এর মূল উদ্দেশ্য হলো, বিরোধীয় বিষয় নিয়ে মামলা দায়ের না করে বিকল্প পন্থায় আপোষ মিমাংসার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করা। তাঁর মতে, সরকারের বিভিন্ন ইতিবাচক উদ্যোগের ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে লিগ্যাল এইড এর মাধ্যমে বিরোধীপূর্ণ বিষয় আপোষ মিমাংসা করার আগ্রহ ও প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। দিন দিন সেবা গ্রহীতার সংখ্যাও বেড়ে যাচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির সভাপতি ও কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা মোহাম্মদ আবদুর রহিম এর নেতৃত্বে, বিচারক, আইনজীবী, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তর ও সংস্থা, জনপ্রতিনিধি, সেবাপ্রার্থী, গণমাধ্যম সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে কক্সবাজারের লিগ্যাল এইড কার্যক্রমকে একটা "মডেল লিগ্যাল এইড কার্যক্রম" হিসাবে গড়ে তুলতে প্রাণান্তকর চেষ্টা চালাচ্ছি। যাতে সরকারের লিগ্যাল এইড কার্যক্রম এর সুফল অতি সহজে সকলের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে দেওয়া যায়।
জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের প্রধান সহকারী খোকন মাহমুদ জানান, গত ৪ মাসে কক্সবাজার লিগ্যাল অফিসের উদ্যোগে আপোষ মিমাংসার মাধ্যমে মোট ৪৫ লক্ষ ৮২ হাজার ৭০০ টাকা বিভিন্নখাতে অর্থ আদায় করা হয়েছে। আদায়কৃত অর্থের মধ্যে মোহরানার অর্থ, ক্ষতিপূরণের অর্থ, চিকিৎসা খরচ, জমি জমার অর্থ, বিদেশে নেওয়ার জন্য দেওয়া অর্থ ফেরত নেওয়া, সন্তান ও স্ত্রীর ভরনপোষণের অর্থ সহ আরো বিভিন্ন খাতের অর্থ রয়েছে।
কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবদুল মন্নান বলেন, কক্সবাজারে লিগ্যাল এইড এর কার্যক্রম গতিশীল থাকায় নিয়মিত আদালতে মামলার জট কিছুটা হলেও কমছে। লিগ্যাল এইড অফিসে অধিকাংশ ক্ষেত্রে আপোষ মিমাংসার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ায় বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগও কমছে। বিচারপ্রার্থীরা মামলা চালানোর অর্থ ও দীর্ঘসুত্রীতার বিড়ম্বনা থেকে রেহাই পাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে সেবাপ্রার্থী নাগরিকদের সুবিধার জন্য সিটিজেন চার্টার প্রদর্শন, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, মাতৃদুগ্ধ কর্ণার, ওয়েটিং চেয়ারের ব্যবস্থা, টিভি মনিটরে লিগ্যাল এইড বিষয়ক ডকুমেন্টারি প্রদর্শন, পৃথক মিডিয়েশন রুম, নাগরিকদের ধারণা লিপিবদ্ধ করতে লিগ্যাল এইড রেজিস্ট্রার, পরামর্শ বক্স স্থাপন ইত্যাদি কক্সবাজার লিগ্যাল এইড অফিসকে অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে গেছে এবং সেবার মান বাড়িয়েছে। সরকারের উদ্যোগে বিনামূল্যে আইনী সেবা পাওয়ার বিষয়টি অবস্থাপন্ন পরিবারের লোকজন অবহিত হতে পারছে।
কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আখতার উদ্দিন হেলালী বলেন, কক্সবাজার জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির কার্যক্রম খুবই গণমূখী এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝেও এর প্রভাব ফেলেছে। তবে, কক্সবাজারের লিগ্যাল এইড কার্যক্রমকে আরো অধিকতর গতিশীল করতে হলে প্রয়োজনীয় জনবল সাপোর্ট দিতে হবে। বিশেষ করে লিগ্যাল এইড অফিসে বেঞ্চ সহকারী, হিসাব সহকারী, অফিস সহায়ক, জারীকারক, সহায়ক কর্মচারী নিয়োগ দিতে হবে। রেকর্ড রুম, ওয়েটিং রুম সহ প্রয়োজনীয় রুমের ব্যবস্থা করা দরকার। অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আখতার উদ্দিন হেলালীর মতে, ইউনিয়ন, উপজেলা পরিদর্শন, প্রান্তিক পর্যায়ে গণশুনানি, উঠান বৈঠক, সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যাতায়াত, ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য কক্সবাজার জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে প্রয়োজনীয় ট্রান্সপোর্ট সুবিধা দেওয়া দরকার।