কক্সবাজারে ৫ লাখ ৩২ হাজার শিশুকে হাম রুবেলার টিকা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৯৪২ জন স্থানীয় শিশু এবং ১ লাখ ৭৮ হাজার রোহিঙ্গা শিশু রয়েছে। এছাড়াও ১ লাখ ১৬ হাজার ৮৮০ জন শিশুকে ইতিমধ্যে হামের টিকা প্রদান সম্পন্ন হয়েছে। জরুরী হাম রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির আওতায় তৃতীয় পর্যায়ে আজ ২০ এপ্রিল এ কর্মসূচির উদ্বোধন হচ্ছে।
কক্সবাজার জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডাক্তার মহিউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর গতকাল ১৯ এপ্রিল সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে উপরোক্ত তথ্য জানান।
তিনি বলেন - সারাদেশে হামের বিস্তার মারাত্মক আকার ধারণ করায় দেশব্যাপী হাম রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে কক্সবাজারের হটস্পট হিসেবে পরিচিত মহেশখালী এবং রামু উপজেলায় ১ লক্ষ ১৬ হাজার ৮৮০ জন শিশুকে হাম রুবেলার টিকা প্রদান সম্পন্ন করা হয়েছে। আজ সকাল সাড়ে ৯টায় কক্সবাজার পৌরসভার সামনে তৃতীয় পর্যায়ের এ টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন জেলা প্রশাসক মোঃ আ: মান্নান।
তৃতীয় পর্যায়ের টিকাদান কর্মসূচি ২০ এপ্রিল শুরু হয়ে ১০ এপ্রিল মোট ১১ দিন পর্যন্ত চলবে। কক্সবাজারে হাম নির্মূলে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে জানান সিভিল সার্জন । কোন শিশু যেন হাম রুবেলার টিকা থেকে বাদ না পড়ে সে বিষয়ে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
কক্সবাজার ইপিআই সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডাক্তার মহিউদ্দিন আলমগীর জানান- কক্সবাজার জেলায় ৪ লক্ষ ৭৫ হাজার ৮২২ জন শিশুকে হাম রুবেলার টিকা আওতায় নেয়া হয়। তবে ইতিমধ্যে মহেশখালী ও রামু উপজেলায় ১ লক্ষ ১৬ হাজার ৮৮০ জনকে টিকাদান শেষ করা হয়েছে। অবশিষ্ট তিন লক্ষ আটান্ন হাজার ৯৪২ জনকে তৃতীয় পর্যায়ের কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া তাদের সাথে হাম রুবেলার টিকা পাচ্ছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এক লক্ষ ৭৮ হাজার শিশু। ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী সকল শিশু হাম রুবেলার টিকার আওতায় আসবে বলে তিনি জানান। জেলার নয়টি উপজেলার ৭১ ইউনিয়নের ১৭৮২ কেন্দ্র টিকাদান কর্মসূচি সম্পন্ন করার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া টিকাদান কর্মসূচি সম্পন্ন করতে ২৬৪ জন তদারকি কর্মকর্তা, ৩১ জন দ্বিতীয় সারির তদারকি কর্মকর্তা, ২৭৬ জন টিকাদান কর্মী, ৫৫২ জন স্বেচ্ছাসেবক মাঠে পুরোদমে কাজ করবে। শহরের পৌরসভার জন্য টিকাদান কর্মসূচি সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত ১৪ টি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে বলে সিভিল সার্জন উল্লেখ করেন। এদিকে তৃতীয় পর্যায়ের টিকাদান কর্মসূচি চালু হলে ও পুরো জেলায় নিয়মিত স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রগুলোতে অপরাপর টিকা দেওয়াও চলবে বলে তিনি জানান।
সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার টিটু চন্দ্র শীল জানান - কক্সবাজার সদর উপজেলার ৫৪ হাজার শিশুকে হাম রুবেলার টিকা দেওয়া হচ্ছে। এরমধ্যে সদর উপজেলার ৩২ হাজার এবং ঈদগাঁও উপজেলার ২১হাজার শিশুকে এ টিকার আওতায় আনা হবে। ১১ দিন টিকাদান কর্মসূচির আওতার মধ্যে প্রথম আট দিন স্থানীয় শিশুদেরকে টিকা দেওয়া হবে পরের ৩দিন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিশুদেরকে এ টিকার আওতায় আনা হবে বলে তিনি জানান। একজন হাম আক্রান্ত রোগী সর্বোচ্চ ১৯ জনকে সংক্রমিত করতে পারে বলে উল্লেখ করেন এ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। ফলে হামের বিস্তার রোধে সকলের সচেতনতার উপর গুরুত্ব আরোপ করেনতিনি। কোন শিশু যেন হামের টিকা থেকে বাদ না পড়ে সে বিষয়ে সকলের সতর্ক থাকার অনুরোধ জানান তিনি। একজন শিশুকে দুই ডোজ হামের টিকা দেওয়া হচ্ছে। প্রথম ডোজ শেষ হওয়ার পরে দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিতে হবে বলে তিনি জানান।
সিভিল সার্জন অফিসের তথ্যমতে, জেলায় ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত ৬২৩ জন হামের রোগী সনাক্ত হয়েছে এদের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছে সাত জন। গতকাল ১৯ এপ্রিল ৩৪ জন হামের রোগী সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল ও একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ১১২ জন হামের রোগী ভর্তি রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে।
বেসরকারি সংস্থা ইউনিসেফ এর হেলথ স্পেশালিস্ট ডাক্তার মাইনুল হাসান জানান - হাম রুবেলা প্রতিরোধে সরকার যথেষ্ট আন্তরিক। ইতিমধ্যে বেসরকারি সংস্থা ইউনিসেফ এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় হাম রুবেলা প্রতিরোধে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জেলার সকল শিশুদের হাম রুবেলা টিকার আওতায় আসে সে বিষয়ে কাজ করছে সরকার। পাশাপাশি সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে ইউনিসেফ। তিনি আশা করেন কক্সবাজার হামরুবেলা মুক্ত হবে অচিরেই। এ টিকাদান কর্মসূচি প্রথম আট দিন নির্দিষ্ট কেন্দ্রের সকল শিশুকে দেওয়া হবে এবং শেষ দুই দিন জেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঁচ বছরের নিচে শিশুদেরকে দেওয়া হবে বলে এই কর্মকর্তা জানান।