ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সামাজিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই দেশব্যাপী অতি দরিদ্র, দরিদ্র, ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত, অসচ্ছল পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় সামাজিক ডিজিটাল নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় একটি স্বনির্ভর জাতি গঠন করার লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড প্রবর্তন শুরু করা হচ্ছে। 'ব্যক্তি নয় পরিবারই উন্নয়নের মূল একক' এর স্লোগানকে ধারণ করে দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় কক্সবাজারে ও শুরু হয়েছে এ কার্যক্রম। ১২ অক্টোবর দেশব্যাপী একযোগে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য পরিবারের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এ কার্যক্রমের আওতায় কক্সবাজার জেলায় ৮৫৩ জন তথ্য সংগ্রহকারী এবং ৭৭ জন সুপারভাইজার নিয়োগ প্রদান করে প্রশিক্ষণ শেষ করেছে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়।
১২ অক্টোবর দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ফ্যামিলি কার্ড সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য তুলে ধরেন জেলা প্রশাসক মোঃ আ: মান্নান। তিনি ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম স্বচ্ছ নিরপেক্ষ ও সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমকে সফল করতে স্বজনপ্রীতির উর্ধ্বে উঠে শতভাগ নিরপেক্ষভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের।
কক্সবাজার জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শাহী নেওয়াজ জানান - কক্সবাজারের দশটি উপজেলা এবং শহর সমাজসেবা কার্যালয়সহ ৭১ ইউনিয়ন ও শহরে বারটি ওয়ার্ডে তথ্য সংগ্রহের জন্য ৮৫৩ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ৭৭ জন সুপারভাইজার নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। ইতিমধ্যে তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান সম্পন্ন হয়েছে। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সঠিকভাবে তথ্য সংগ্রহ করে নীতিমালা অনুসরণ পূর্বক কার্যক্রম চালাবেন। এটি সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। কোন অনিয়ম পেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করারও হুঁশিয়ারি দেন এ কর্মকর্তা।
জেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়- কক্সবাজার জেলায় ৬ লক্ষ ৫১ হাজার ১৭৭ পরিবারকে এ প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়ন হলে জেলার ৩১ লাখ ৩১হাজার ৯৪ জন মানুষ ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা ভোগ করবে। তিনি জানান গত ১৬ মে কক্সবাজার জেলায় চকরিয়র কৈয়ারবিল ৪ নম্বর ওয়ার্ডে পাইলটিং কার্যক্রম হিসেবে এ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছিল।
জেলা সমাজসেবা অফিসের তথ্য মতে- কক্সবাজার জেলায় সাড়ে ৬ লক্ষ পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবে। উপজেলা ভিত্তিক ফ্যামিলি কার্ড ও উপকারভোগীর সংখ্যা হল কক্সবাজার সদরের ৫ ইউনিয়নের ৪৯৪৯৪ টি ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় ২ লক্ষ ৪৫ হাজার ৫৭০ জন।
রামু উপজেলার ১১ ইউনিয়নের ৭৬৬৬১ পরিবারের উপকারভোগী নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৯২,১১২ জন।
উখিয়া উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের ৬২ হাজার ৩৮৬ পরিবারের উপকারভোগি নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লক্ষ ৯২ হাজার ৮৫১ জন।
টেকনাফ উপজেলার ৭ ইউনিয়নের ৭৩,১০৯ পরিবারের জন্য উপকারভোগি নির্ধারণ করা হয়েছে তিন লক্ষ ৭০ হাজার ২৬৭ জন।
চকরিয়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের ৯৩ হাজার ৬৮৯ পরিবারের উপকারভোগী হলো ৪ লক্ষ ৫৩ হাজার২৬ জন।
পেকুয়া উপজেলার ৭ ইউনিয়নের ৫০,৯৬৯ পরিবারের উপকারভোগি হলো ২লাখ ৩৭হাজার ৭২৮ জন।
মাতামুহুরী উপজেলার ৭ ইউনিয়নের ৩৭,২৭৯ পরিবারের বিপরীতে উপকারভোগি নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ৪৪২ জন।
কুতুবদিয়া উপজেলার ৬ ইউনিয়নের ৩১ হাজার ৪৫৭ পরিবারের উপকারভোগি নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লক্ষ ৫৯ হাজার ২৮১ জন।
মহেশখালী উপজেলার ৬ ইউনিয়নের ৮৯ হাজার ৩৬৭ পরিবারের বিপরীতে উপকারভেগি নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লক্ষ ২৭ হাজার ৫৪৩ জন।
ঈদগাঁও উপজেলার ৫ ইউনিয়নের ৩৫২০২ পরিবারের উপকারভোগি হলো ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৭৪ জন। এছাড়া কক্সবাজার শহরের সমাজসেবা কার্যালয়ের আওতাধীন ৫১০৭৪ পরিবারে উপকারভোগি হলো ২ লাখ ১৭ হাজার ৭৯৭ জন।
জেলার দশটি উপজেলা ও শহর সমাজসেবা কার্যালয়সহ ৮৬ ইউনিয়ন ও পৌরসভার ৬ লক্ষ ৫১ হাজার ১৭৭ পরিবারের কার্ডের বিপরীতে উপকারভোগি নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১ লক্ষ ৩১ হাজার ৯৪ জন। অর্থাৎ জেলায় ৬ লাখ ৫১ হাজার ১৭৭ ফ্যামিলি কার্ডের বিপরীতে ৩১ লাখ ৩১ হাজার ৯৪ জন উক্ত সুযোগ সুবিধার আওতায় আনা হবে।
এদিকে প্রথম পর্বে তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রতিটি উপজেলার ৩ টি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডকে নির্বাচন করা হয়েছে। যে ইউনিয়নগুলো নির্বাচন করা হয়েছে তা হলো কক্সবাজার সদর উপজেলায় পিএমখালী, ভারুয়াখালী, চৌফলদন্ডী। রামু উপজেলার গর্জনীয়, কচ্ছপিয়া ও ইদগড় ইউনিয়ন । উখিয়া উপজেলার রাজা পালং, জালিয়া পালং, হলদিয়া পালং ইউনিয়ন। টেকনাফ উপজেলার পৌরসভা, হ্নীলাও বাহারছড়া। চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর মানিকপুর, লক্ষ্যার চর ও ডুলহাজরা।মাতামোহরি উপজেলার কোনাখালী, বড় ভেওলা, ঢেমুশিয়া। পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী, উজানটিয়া, মগনামা। কুতুবদিয়া উপজেলার আলী আকবর ডেইল, বড়ঘোপ,উত্তর ধুরুং। মহেশখালী উপজেলার ছোট মহেশখালী, বড় মহেশখালী এবং কুতুবজুম। ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামপুর পোকখালী এবং জালালাবাদ। কক্সবাজার শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের আওতাধীন পৌরসভার ১,৩ ও ৭ নাম্বার ওয়ার্ড।
কক্সবাজার সদর, রামু ও ঈদগাঁও উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সমাজসেবা কর্মকর্তা কৌশিক খাঁন জানান- তথ্য সংগ্রহকারীরা প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত উপকারভোগিদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন। তথ্য সংগ্রহের সময় সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী সকল তথ্য সংগ্রহ করে অনলাইন ডাটাবেজে আপলোড দিবেন। কোন তথ্য ভুল হলে সেটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সংশোধন করার সুযোগ রয়েছে। তিনি জানান - তথ্য সংগ্রহের জন্য ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয়ভাবে ১৭০ টি ট্যাব সরবরাহ করা হয়েছে। আপাতত প্রথম পর্বে প্রত্যেকটি উপজেলার তিনটি করে ইউনিয়নের ১ নাম্বার ওয়ার্ডের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহকারীরা তথ্য সংগ্রহ করবেন। এটি শেষ হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরের ধাপ, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড এর তথঢ় সংগ্রহের সময় জানানো হবে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্নের জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন এ কর্মকর্তা।