শেষ পর্যন্ত কক্সবাজারেই টেকনিক্যাল সেন্টার স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। দেশের ফুটবলের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই টেকনিক্যাল সেন্টার গড়ে তোলা হচ্ছে কক্সবাজারের রামু উপজেলার রশিদনগর ইউনিয়নে। মহাসড়কসংলগ্ন স্বপ্নতরী বিনোদন কেন্দ্রের পাশের সুবিশাল খেলার মাঠে নির্মিত হবে বাফুফের এই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।
এই সেন্টার নির্মাণের জন্য আরও তিন মাস সময় বাড়িয়েছে ফিফা। গণমাধ্যমকে এমনটাই জানিয়েছেন ফেডারেশনের টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান কামরুল হাসান হিলটন। তবে ভূমি মন্ত্রণালয়ের থেকে বুঝে পাওয়া জমির অর্থ আট কোটি টাকা এখনও পরিশোধ করেনি বাফুফে।
ফিফার কঠিন শর্ত অনুযায়ী, চলতি মাসের মধ্যে নির্মাণ কাজ শুরু না করলে বাতিল হবে এ বরাদ্দ। এমন বিশাল সুযোগ যেন হাতছাড়া না হয় সে কারণে ফিফাকে চিঠি দেয় বাফুফে। এতে সাড়াও দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
বাফুফে সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় দল ও বয়সভিত্তিক দলগুলোর নিয়মিত প্রশিক্ষণ, কোচিং শিক্ষা এবং ট্যালেন্ট ডেভেলপমেন্ট কার্যক্রমকে এক ছাতার নিচে আনতেই এই টেকনিক্যাল সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন এই সেন্টারে থাকবে একাধিক মানসম্পন্ন ফুটবল মাঠ, জিমনেশিয়াম, আবাসন ব্যবস্থা, ক্লাসরুম এবং স্পোর্টস সায়েন্স সুবিধা।
কক্সবাজারকে বেছে নেওয়ার পেছনে রয়েছে ভৌগোলিক সুবিধা, প্রশস্ত জায়গা এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা। মহাসড়কের পাশে অবস্থান হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাফুফে কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই টেকনিক্যাল সেন্টার চালু হলে দেশের ফুটবলারদের মান উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি এটি দেশের ফুটবল কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে। টেকনিক্যাল সেন্টার বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ ফুটবল নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করবে-এমনটাই প্রত্যাশা ফুটবলপ্রেমীদের।
২০২২ সালের জুলাইয়ে রামুর খুনিয়াপালংয়ে ২০ একর জায়গা বাফুফের অনুকূলে হস্তান্তর করে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগ। বাফুফে সেখানে সেন্টার ফর এক্সিলেন্স নির্মাণের প্রস্তুতি নিয়ে ফিফার কাছে এনভায়রনমেন্ট সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট অ্যানালাইসিস রিপোর্ট পাঠায়। পরে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ জানায়, জায়গাটি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মধ্যে পড়ায় সেখানে নির্মাণকাজে পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা আছে। এরপর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বাফুফেকে বিকল্প জায়গায় টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণের প্রস্তাব দেয়। পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়Ñধলিরছড়ায় ১৯.১ একর জায়গায় নির্মিত হবে সেন্টার ফর এক্সিলেন্স।