প্রত্যেক মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষে আগামী ১২ তারিখ জাতীয় সংসদে সরাসরি প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে বিএনপি বহু নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে তিনি অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দল নারী স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না এবং জাতীয় সংসদে একজন নারী প্রার্থীও দেয়নি, যা দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে অস্বীকার করার শামিল।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার চিরিঙ্গা চরনদ্বীপে বিএনপি আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘দেশ ও সমাজ গঠনে নারী-পুরুষ উভয়ের সমান ভূমিকা রয়েছে। নারীদের পর্দা ও মর্যাদা বজায় রেখে প্রশিক্ষণ, ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই বিএনপির নীতি।’
এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, ‘কিছু রাজনৈতিক দল ধর্মের অপব্যবহার করে জান্নাতের প্রলোভন দেখিয়ে ভোট চাইছে।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জান্নাত ও দোজখের মালিক একমাত্র আল্লাহ। কোনো ব্যক্তি বা দল জান্নাত বণ্টন করতে পারে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘কবরে প্রশ্ন হবে মানুষের রব, দ্বীন ও রাসূল সম্পর্কে; কোনো দল বা নির্বাচনী প্রতীকের বিষয়ে নয়। ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা অনুচিত।’
তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রত্যেক দল তাদের কর্মসূচি জনগণের সামনে উপস্থাপন করবে, আর জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে কাকে ভোট দেবে। বিএনপি তাদের কর্মসূচি উন্মুক্তভাবেই জনগণের সামনে তুলে ধরেছে।’
পথসভায় চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক, সাধারণ সম্পাদক এম মোবারক আলীসহ দলটির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, দুপুরে চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের হিন্দু পাড়ায় ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য রাখেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
এ সময় তিনি বলেন, ‘এই দেশে সব ধর্ম বর্ণের মানুষ তার নাগরিক স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার সমানভাবে ভোগ করবে এটাই বিএনপির অঙ্গীকার।’
বিএনপির ইস্তেহারে সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাইবোনদের সব দাবি দাওয়া অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সব ধর্ম বর্ণের মানুষের কাছে আমরা আহ্বান জানিয়েছি আমরা সবাই বাংলাদেশি এটাই আমাদের পরিচয়। এই দেশে ধর্ম বর্ণ জাতের ভিত্তিতে কোনো বিভাজন হবে না কিংবা বিভাজন করতে দেয়া হবে না।’
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ‘বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রথম থেকেই এদেশের সব ধর্ম বর্ণ জাতি গোষ্ঠীর মানুষের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন। যা পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও একইভাবে সব সম্প্রদায়ের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। এটাই এ দেশের ইতিহাস স্বীকৃত। আগামীতেও সব ধর্ম বর্ণের মানুষ নির্বিশেষে জাতীয়তাবাদে বিশ্বাস করে বাংলাদেশি হিসেবে পরিচয় দিয়ে এদেশে বসবাস করবে। সুতরাং এদেশের সব ধর্ম বর্ণ জাতিগোষ্ঠীর একটাই পরিচয় আমরা সবাই বাংলাদেশি। এদেশে সবার অধিকার সমান। তাই বিএনপির শ্লোগান একটাই সবার আগে বাংলাদেশ।’