কোরবানির ঈদ উপলক্ষে মায়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নানাবাড়িতে বেড়াতে এসেছিল চার বছরের শিশু মোহাম্মদ ইসমাইল। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আনন্দে সময় কাটানোর মধ্যেই তাকে অপহরণের চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, মাদকের টাকার জন্য শিশুটিকে অপহরণের চেষ্টা করেন তারই আপন মামা। স্থানীয় লোকজনের তৎপরতা ও র্যাবের অভিযানে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুর ১২টা ১০ মিনিটের দিকে কক্সবাজারের টেকনাফ সদর ইউনিয়নের গোদারবিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন গোদারবিল এলাকার কামাল হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ রজব মিয়া (৩৫) এবং তাঁর দুই সহযোগী শাহাব উদ্দিন (২৮) ও কেফায়েত উল্লাহ (২৪)।
শিশুটির বড় মামা মো. জোবায়ের জানান, তার ছোট ভাই রজব মিয়া দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। ঘটনার দিন সকালে সে পরিবারের সদস্যদের কাছে টাকা দাবি করেন। টাকা না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। পরে বাড়ির সামনের সড়কে খেলতে থাকা ভাগ্নে ইসমাইলকে দুই সহযোগীসহ ফুঁসলিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
জোবায়ের বলেন, শিশুটি বিষয়টি বুঝতে পেরে চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। এ সময় অভিযুক্তরা পালানোর চেষ্টা করলেও স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের আটক করেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব-১৫) সদস্যরা শিশুটিকে উদ্ধার করে পরিবারের জিম্মায় দেন। একই সঙ্গে তিন অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালে রেহেনা আক্তারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী নুর মোহাম্মদের বিয়ে হয়। পরে স্বামীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান রেহেনা। বর্তমানে তারা জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টা শহরে দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে বসবাস করছেন। কোরবানির ঈদ উপলক্ষে প্রায় আড়াই মাসের জন্য সন্তানদের নিয়ে টেকনাফে বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন তিনি।
ঘটনার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন শিশুটির মা রেহেনা আক্তার। তিনি বলেন, “অনেক দিন পর সন্তানদের নিয়ে বাবার বাড়িতে ঈদ করতে এসেছিলাম। নিজের পরিবারের একজনের কাছ থেকেই এমন ঘটনার শিকার হতে হবে, কখনো ভাবিনি।”
র্যাব-১৫ সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয়দের সহায়তায় শিশুটিকে নিরাপদে উদ্ধার করে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনায় জড়িত তিনজনকে আটক করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, “র্যাবের মাধ্যমে আটক ব্যক্তিদের থানায় আনা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”