মানবিক কর্মকান্ডে নিয়োজিত সংগঠনগুলো গ্র্যান্ড ব্যার্গেন প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের জন্য দেশীয় পর্যায়ে একটি কার্যকর পরিকল্পনা তৈরির দাবি জানানো হয়েছে। যেখানে রোহিঙ্গা মানবিক সহায়তা প্রদানের স্থানীয়করণ, গুণগত তহবিল প্রদান, সমতার ভিত্তিতে অংশীদারিত্ব এবং দুর্যোগে আক্রান্ত মানুষের প্রতি জবাবদিহীতা প্রতিষ্ঠিত হবে। গ্রান্ড বার্গেইন প্রতিশ্রুতিগুলো ২০১৬ সালের মে মাসে ইস্তাম্বুলে বিশ্ব মানবিক সম্মেলনে গৃহীত হয়েছিল। বর্তমানে এর স্বাক্ষরকারী হলো ৭১ টি দাতা দেশ ও মানবিক সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। দেশীয় পর্যায়ে গ্র্যান্ড ব্যার্গেইনের প্রতিশ্রুতিগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক এনজিও এবং স্থানীয় সংগঠনগুলোর সমন্বয় করে একটি পরিকল্পনা প্রয়োজন।
গ্র্যান্ড ব্যার্গেন প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন রোহিঙ্গা মানবিক কার্যক্রমে সঠিকভাবে না হওয়ায় বক্তারা প্রশ্ন তোলেন। যা গ্র্যান্ড ব্যার্গেন স্থানীয়করণ প্রতিশ্রুতির চেতনার পরিপন্থী বলে তারা মত দেন। কোস্ট ফাউন্ডেশন, বিডিসিএসও প্রসেস এবং কক্সবাজার সিএসও-এনজিও ফোরামের আয়োাজনে কক্সবাজারে গতকাল এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
কক্সবাজার সিএসও-এনজিও ফোরামের মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় “গ্র্যান্ড বারগেইন ২০২৬ পরবর্তী স্থানীয় মানবিক সংগঠনগুলোর প্রত্যাশা” শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। মূল প্রবন্ধটি উপস্থাপন করেন কোস্ট ফাউন্ডেশনের যুগ্ম পরিচালক মোঃ ইকবাল উদ্দিন।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন অগ্রযাত্রার নির্বাহী পরিচালক নিলীমা আক্তার; সুশীলনের উপদেষ্টা মুজিবুর রহমান; জেএনইউএস-এর নির্বাহী পরিচালক শিউলি শর্মা; কক্সবাজারে রোহিঙ্গা করডিশন প্ল্যাটফর্মের প্রধান ইগর চিওবানু; কক্সবাজারে ইউএনএইচসিআর-এর প্রোটেকশন সেক্টর সমন্বয়কারী জোহানা রেইনা পিকালুয়া; কক্সবাজার এনজিও প্ল্যাটফর্মের সমন্বয়কারী কোরিন বালি; কক্সবাজারে ইউএনএইচসিআর প্রধান কার্যালয়ের প্রতিনিধি মুসা ড্রামে; কোস্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক এম. রেজাউল করিম চৌধুরী; এবং হেল্প কক্সবাজারের নির্বাহী পরিচালক আবুল কাশেম।
মোঃ ইকবাল উদ্দিন তার মূল বক্তব্যে বলেন, রোহিঙ্গা রেসপন্স করডিনেশন প্ল্যাটফর্মটি আটটি সেক্টর নিয়ে গঠিত। সবগুলোই জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর নেতৃত্বে। শুধুমাত্র একটি সেক্টরে ক্ষেত্রে, একটি সাব-সেক্টরে, সহ-নেতৃত্ব হিসাবে একটি মাত্র আন্তর্জাতিক এনজিও রয়েছে। কোনো সেক্টরই জাতীয় বা স্থানীয় এনজিও দ্বারা পরিচালিত নয়। জাতিসংঘ সংস্থাগুলি ২০২৬ সালে মোট যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা (জেআরপি) তহবিলের ৮৭.৯৬% পেয়েছে। আন্তর্জাতিক এনজিওগুলি পেয়েছে ৭.৭৮% এবং জাতীয় এনজিওগুলি পেয়েছে ৪.২৬%। স্থানীয় এনজিওগুলো কোনো তহবিল পায়নি। এটা দুর্ভাগ্যজনক বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, সরাসরি অর্থায়নের নামে কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা একটি নির্দিষ্ট এনজিওকে ৩৪টি প্রকল্পের মাধ্যমে অর্থায়ন করছে। একইভাবে, একটি দেশীয় সংস্থা, বর্তমানে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচালিত হলেও, জাতীয় এনজিও হিসেবে তহবিল পাচ্ছে। এ ধরনের চর্চা ন্যায্য নয় এবং অন্যান্য স্থানীয় এনজিওর অর্থায়ন পাওয়ার অধিকার থেকে তাদের বঞ্চিত করছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
ইগর চিওবানু বলেন, আগামী বছরগুলোতে স্থানীয় এনজিওগুলোর কাছে আরও বেশি অর্থায়ন পৌঁছানো নিশ্চিত করতে তারা কাজ করবেন এবং সম্মিলিতভাবে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নিলীমা আক্তার বলেন, বর্তমান যৌথ সাড়া পরিকল্পনায় (JRP) স্থানীয় এনজিওগুলোর সরাসরি অংশগ্রহণ নেই। তাহলে কীভাবে সহায়তার স্থানীয়করণ নিশ্চিত করা সম্ভব? তিনি নারী-নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলোর জন্য সরাসরি অর্থায়নেরও দাবি জানান। কোরিন বালি বলেন, এনজিও প্ল্যাটফর্ম হিসেবে স্থানীয়করণ জোরদার এবং স্থানীয় নেতৃত্বে রোহিঙ্গা সাড়াদান কার্যক্রম নিশ্চিত করতে তারা জাতিসংঘ সংস্থা ও আন্তর্জাতিক এনজিওগুলোর সঙ্গে কাজ করবেন এবং এ বিষয়ে সোচ্চার থাকবেন। আবুল কাশেম আসন্ন রোহিঙ্গা সাড়াদান কার্যক্রমের রোডম্যাপ প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় স্থানীয় এনজিওগুলোর সম্মিলিত অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় নেতৃত্বে সাড়াদান কার্যক্রমের পক্ষে অ্যাডভোকেসির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
শিউলি শর্মা রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ওপর জোর দেন। মুজিবুর রহমান স্থানীয় এনজিওগুলোর হাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নেতৃত্বের ক্ষমতা হস্তান্তরের ওপর জোর দিয়ে তাদের জন্য ৫০ শতাংশ সরাসরি ও নমনীয় তহবিল প্রদানের দাবি জানান।